[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



দেশে দুই কোটি কিডনি রোগী


প্রকাশিত: December 21, 2015 , 4:49 pm | বিভাগ: আপডেট,হেলথ


লাইভ প্রতিবেদক: সারা বিশ্বেই কিডনি রোগের অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ। বর্তমানে বাংলাদেশের দুই কোটি লোক উচ্চরক্তচাপে এবং ৮০ লাখ লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

সোমবার কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপি ১১তম জাতীয় সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এতে বলা হয়, ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ৪০ থেকে ৬০ ভাগ এবং উচ্চরক্তচাপে আক্রান্তদের ৫০ থেকে ৬০ ভাগই জানেন না যে তাদের এসব রোগ হয়েছে। যাদের উচ্চরক্তচাপ ধরা পরেছে অথচ নিয়ন্ত্রণে নেই তাদের ১৫ থেকে ২০ ভাগ এবং যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই তাদের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ক্রমান্বয়ে আক্রান্ত হয় কিডনি রোগে।

বিভিন্ন রোগে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদেরও ২০ থেকে ২৫ ভাগের একুইট কিডনি ফেইলর ধরা পরে। সবমিলিয়ে দেশে দুই কোটি লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত। এতে বছরে মারা যাচ্ছে ৪০-৫০ হাজারের মতো মানুষ।

কিডনি রোগে চিকিৎসা ডায়ালাইসিস বা ট্রান্সপ্ল্যান্ট ব্যয়বহুল এবং তা মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ বহন করতে পারে। ৭৫ শতাংশ টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারে না।

অথচ ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসা নিলে এসব বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করা গেলে কিডনি রোগ প্রতিরোধ অনেকাংশেই সম্ভব।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রফেসর ডা. হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে মিরপুরস্থ হাসপাতাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি প্রফেসর মাহমুদ হাসান।

বক্তব্য রাখেন, কিডনি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর ডা. এম এ ওয়াহাব, মহাসচিব প্রফেসর ডা. মুহিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনি ফেরদৌস রশিদ প্রমুখ।

সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ২৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কিডনি রোগ ও প্রতিরোধ, হেমোডায়ালাইসিস ও পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস, কিডনি সংযোজন প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করেন। এতে দেশের প্রায় ৩ শতাধিক চিকিৎসক অংশ নেন।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রফেসর ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো-প্রথম দিকে এর কোনো উপসর্গ থাকে না। কিন্তু যখন উপসর্গ ধরা পড়ে ততক্ষণে কিডনির প্রায় ৭৫ ভাগই বিকল হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করলে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এজন্য কিডনি রোগ হবার আগে সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই রোগ প্রতিরোধে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাটা, অতিরিক্ত লবন পরিত্যাগ, ফাস্টফুড, চর্বি জাতীয় ও ভেজাল খাবারসহ ধূমপান বর্জন করার পরামর্শ দেন তিনি।

ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর//(ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম)//আরকে