[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বিল্ডিং সরানোর বিস্ময়কর কায়দা!


প্রকাশিত: December 29, 2015 , 8:11 pm | বিভাগ: অসাম নিউজ


লাইভ প্রতিবেদক: বিষয়টি বিস্ময়করই বটে! কারণ না ভেঙে পুরো একটি বিল্ডিং সরিয়ে নেয়া চাট্টিখানি কথা নয়।

সেই কাজটিই করেছে ভারতের একটি সংস্থা। নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তারা বাড়ি সরানোর কাজ করে থাকে। আর তাদের এ কাণ্ডকারখানা দেখতে ভিড় লেগে যায় ওই বাড়ির সামনে।

বাড়িটাকেই গাড়ির মতো গড়িয়ে পিছিয়ে আনা হবে—কথাটা কারও বিশ্বাস হচ্ছিল না। নিজের চোখে দেখতে সোমবার বিকেলে আশপাশের গ্রাম থেকে ভিড় করেছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ফুলিয়ার চাঁপাতলায়।

তারপর সবাইকে চমকে দিয়ে চোখের সামনেই ঘটে গেল সেই ঘটনা। একটু একটু করে আস্ত একতলা বাড়িটাই পিছিয়ে গেল প্রায় বিশ ফুট!

বাড়ির মালিক অমল শর্মার দাবি, আগামী তিন দিনে ওই একই কায়দায় বাড়িটা আরও পঞ্চাশ ফুট পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সব দেখেশুনে এলাকার লোকজনের প্রতিক্রিয়া- ‘‘পড়শির সঙ্গে বিবাদের সময় অনেকেই বলেন, ‘বাড়িটাকে কি তুলে নিয়ে যাব?’ সেই কথার কথাটাই যে এমন সত্যি হয়ে যাবে তা কে জানত!’’

ফুলিয়ার বেলঘড়িয়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশের গ্রাম চাঁপাতলা। স্থানীয় পঞ্চায়েত ভবনের ঠিক পাশেই অমল বাবুর ৯০০ বর্গফুটের বসত বাড়ি।

একসময় অমলবাবু কাপড়ের ব্যবসা করতেন। বছর কয়েক আগে সেই ব্যবসায় কয়েক লাখ টাকা লোকসানের পরে তিনি আর সে পথে হাঁটেননি। বাড়ির সামনেই টিনের চাল দেওয়া একফালি দোকানে বসেই চা বিক্রি করেন তিনি।

সবকিছু বেশ চলছিল। কিন্তু সমস্যা বাধল জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হওয়ার পরে। বাড়ি-সহ প্রায় তিন শতক জমি অধিগ্রহণ করে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ক্ষতিপূরণের অঙ্ক শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে অমলবাবুর।

অমলবাবু বলেন, ‘‘ক্ষতিপূরণ বাবদ মোটে ১৬ লাখ টাকা পেয়েছি। ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে পারি এই বাজারে বাড়িটা করতেই ১৭ লাখ টাকা খরচ পড়বে। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তারপরেই খবরের কাগজ পড়ে এই বাড়ি সরানোর ব্যাপারটা জানতে পারি।’’

এরপরেই তিনি যোগাযোগ করেন স্থানীয় এক ইমারতি সামগ্রীর এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তিনিই খোঁজখবর নিয়ে যোগাযোগ করিয়ে দেন হরিয়ানার ‘এসসিএসবি ইঞ্জিনিয়িরিং ওয়ার্কস’ নামে এক সংস্থার সঙ্গে।

অমলবাবু বলেন, ‘‘বাড়িটা যেখানে ছিল সেখান থেকে ৭০ ফুট পিছিয়ে নিতে পারলেই আর কোনো সমস্যা থাকবে না। নতুন করে বাড়ি তৈরির ঝক্কিও নেই। খরচও অনেক কম। কথাটা পাড়তেই রাজি হয়ে যান ওই সংস্থার কর্তারা।’’

ওই সংস্থার পক্ষ থেকে অমলকে জানানো হয়, সমস্ত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ পড়বে। শেষ পর্যন্ত রফা হয় তিন লাখে।

সংস্থাটি জানায়, গোটা কাজটিই দাঁড়িয়ে থাকে নিখুঁত মাপজোকের উপরে। প্রথমে ভিতটাকে ভিতর থেকে খোঁড়া হচ্ছে। তারপর ‘জগ’ এর উপরে আস্ত বাড়িটাকে দাঁড় করিয়ে নিচ থেকে ভালোভাবে খুঁড়ে বাড়িটাকে মাটি থেকে একেবারে আলাদা করে দেয়া হচ্ছে।

এবার লোহার পাতের (অনেকটা রেললাইনের মতো) উপর দিয়ে বাড়িটাকে আস্তে আস্তে সরানো হচ্ছে।

ওই সংস্থার এক কর্মী জানান, বাড়িটাকে যেখানে ‘সেট’ করা হবে সেই জায়গাটা আগেই তৈরি করা হয়েছে। এবার এই বাড়িটাকে নিয়ে গিয়ে সেখানে বসিয়ে দেয়া হবে। এই কাজটি শুরু হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর। আগামী এক মাসের মধ্যেই সমস্ত কাজটি শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি শিবচরণবাবুর।

ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর//(ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম)//আরকে