[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



যে কারণে চ্যালেঞ্জে হারলেন শাবি ভিসি


প্রকাশিত: January 20, 2016 , 2:50 pm | বিভাগ: আপডেট,ইলেকশন,ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,সিলেটের ক্যাম্পাস


লাইভ প্রতিবেদক : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে চ্যালেঞ্জে হেরে গেলেন ভিসি প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূইয়া। শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে তার সমর্থিত শিক্ষকরা আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেননি। এ অবস্থায় অনেকটা টেনশনে রয়েছেন ভিসি। বিতর্কিত কোন ঘটনায় আবারো শাবিতে ভিসি বিরোধী আন্দোলন দানা বেধে উঠতে পারে এমন আশংকা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ১১টি পদের মধ্যে মাত্র ৩টি পদ পেয়েছে ভিসিপন্থি প্যানেল। ৬ টি পদ দখলে নিয়েছেন ভিসি বিরোধী প্যানেলের শিক্ষকরা। নিজেদের মধ্যে কোন্দলের কারণে ২টি পদ পেয়েছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকরা। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী বলয়ের দেড়শতাধিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার পরও নির্বাচনে দুটি পদ বিএনপি-জামায়াতের দখলে চলে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না সরকারপন্থি শিক্ষকরা।

এদিকে ভিসিপন্থি শিক্ষকরা গত নির্বাচনের চেয়ে এবার ভাল করলেও আশানুরূপ ফল বয়ে আনতে পারেনি। ভিসি বিরোধী আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় উদ্বুদ্ধ শক্ষকদের বসানো হয়। তারা দীর্ঘদিন পর ক্ষমতার স্বাদ পান। এ কারণে ভেতরে ভেতরে ভিসিবিরোধী প্যানেলের অনেক শিক্ষক তাদের সঙ্গে যোগ দেন। অনেকেই তাদের মৌন সমর্থনও দেয়। কিন্তু নির্বাচনে তাদের ভোট না দেয়ার বিষয়টি এখন ক্যাম্পাসে আলোচনার অন্যতম বিষয়।

সচেতন শিক্ষকদের মতে সাবেক ভিসি মোসলেহ উদ্দিন বিরোধী আন্দোলনের কারণে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় উদ্বুদ্ধ পরিষদে থাকা শিক্ষকরা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। নতুন পরিষদ গঠন করলেও তাদেরকে সমর্থন দিয়ে রাতারাতিই অনেক শিক্ষক মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় উদ্বুদ্ধ পরিষদে যোগ দেন। ওই সময় অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।

সাবেক ভিসি সালেহ উদ্দিন চলে যাওয়ার পর শাবিতে নয়া ভিসি হিসেবে যোগ দেন প্রফেসর ড. আমিনুল হক। শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও নানা কারণে তাদের মধ্যে দূরত্বে তৈরি হয়। এ অবস্থায়  মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ ভিসির অাস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়।

এক পর্যায়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে অপর পক্ষটি ভিসিকে মৌন সমর্থন দেয়। এ অবস্থায় আওয়ামী পন্থি অনেক শিক্ষক তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। প্রশাসনিক দায়িত্ব পাওয়ার পর অধিকাংশ আওয়ামী ও বাম ধারার শিক্ষক তাদের সঙ্গে চলে আসে। জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এ পরিষদের। তবে এরই মাঝে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা তাদের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়ে দেয়।

ভিসি বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে জনপ্রিয় লেখক প্রফেসর ড. জাফর ইকবালের স্ত্রীসহ শিক্ষকদের ওপর হামলার বিষয়টি ব্যাপকভাবে সমালোচনার জন্ম দেয়। ওই সময়  মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করেন। এনিয়ে আওয়ামী পন্থি এমনকি বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকরাও তাদের প্রতি নাখোশ হন। শিক্ষকদের ওপর হামলার ওই ঘটনা ভিসিপন্থি শিক্ষকদের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়ে দেয়।

এঘটনার পর নিজেদের গুছিয়ে নিতে না নিতেই শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের সময় চলে আসায় অনেকটা অগোছালো ছিলেন ভিসিপন্থি শিক্ষকরা। তবে এ অল্প সময়ের মধ্যেও তারা শিক্ষক সমিতির নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা চ্যালেঞ্জে হেরে গেলেন।

তবে গত বারের চেয়ে এবার নির্বাচনে তারা ভালো করেছেন বলে দাবি ভিসিপন্থি শিক্ষকদের। গত নির্বাচনের চেয়ে এবার তাদের ভোটও বেড়েছে। জনপ্রিয়তাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তারা।
 
ঢাকা, ২০ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪,কম)//জেএন