[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



আতঙ্কে আছি : রাবি প্রফেসর


প্রকাশিত: January 29, 2016 , 11:12 pm | বিভাগ: আপডেট,ইন্টারভিউ,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


ড. প্রফেসর হাসান পারভেজ। প্রগতিশীল শিক্ষক। হালে আলোচিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর অবাধ পদচারণা। অত্যান্ত সাদামাটাভাবেই চলাফেরা করেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর দিকে নজর দিয়েছে জেএমবি। দাবি করেছে মোটা অংকের টাকা।

এই নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন ড. হাসান পারভেজতিনি তাঁর নিরাপত্তা চেয়ে থানায় ঠুকেছেন সাধারণ ডায়েরি। ক্যাম্পাসলাইভের সঙ্গে খোলামেলা এক সাক্ষাতকারে তাঁর কষ্টের কথা তিনি জানিয়েছেন। বলেছেন, আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কখন যে কি হয়ে যায় তা আমি বলতে পারিনা। একদিকে ক্লাস নেয়া অন্যাদিকে জীবননাশের হুমকি। কি যে করি এই চিন্তাই চলে আমার সারাক্ষণ।

ড. হাসান পারভেজ রাবির ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর। এ ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্কে ক্যাম্পাসলাইভ প্রতিনিধি ওই শিক্ষকের বাসায় কথা বলতে গেলে তিনি হুমকির ব্যাপারে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রফেসর হাসান পারভেজের একান্ত সাক্ষাতকার নিয়েছেন মো. মুসফিকুর রহমান। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

ক্যাম্পাসলাইভ: সম্প্রতি আপনাকে জেএমবি পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়েছে বলে আপনি অভিযোগ করেছেন। এ সম্পকে আপনি কি বলবেন?

প্রফেসর হাসান পারভেজ: হ্যাঁ। কথাটি সত্য এবং আমি এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনাকে প্রথম ফোনটি কখন করা হয় এবং তখন আপনি কোথায় ছিলেন?

প্রফেসর হাসান পারভেজ: আমাকে প্রথম ফোনটি করা হয় ২৫ তারিখ ২ টা ৫০ মিনিটে তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম।

ক্যাম্পাসলাইভ: ফোন করে আপনাকে কি বলেছিল অপর প্রান্ত থেকে?

প্রফেসর হাসান পারভেজ: অপর প্রান্ত থেকে আমাকে বলা হয় “আমরা জামাতুল মুজাহিদিন বাংলদেশ (জেএমবি) থেকে বলছি। আপনি বড় ভাই এর সাথে কথা বলেন।” অপর প্রান্ত থেকে একটি ভারি গলা শোনা যায়। এবং বলেন “আমাদের কয়েকজন কর্মীকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে, অনেক কর্মীকে জেলে রাখা হয়েছে। তাদের মুক্তির জন্য আমাদের বিপুল পরিমাণ টাকার দরকার। এজন্য আমরা ৭০ লাখ টাকার ফান্ড কালেকশন করছি। আপনাকে এই ফান্ডে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে।” এরপর ফোনটি কেটে যায়।

ক্যাম্পাসলাইভ: দ্বিতীয়বার কখন ফোন করা হলো?

প্রফেসর হাসান পারভেজ: তার ১০ মিনিট পরেই দ্বিতীয়বার ফোন করা হয় এবং বলে, “ফোন কেটে যাওয়ার পর আপনার কি ফোন ব্যাক করা উচিৎ ছিলো না?” তারপর তারা বলে, টাকাটি কখন দিবেন? আপনি ৫ টার মধ্যে টাকা পাঠান। তখন আমি বলি, “এখন তো টাকা পাঠানো সম্ভব না, ব্যাংক সব বন্ধ। এরপর আমি ফোনটি বন্ধ করে দেই।

ক্যাম্পাসলাইভ: তারপর কি তারা আর ফোন দিয়েছিলো?

প্রফেসর হাসান পারভেজ: হ্যাঁ। আমি যখন বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে কাজলার কাছাকাছি গিয়ে ফোন খুলি তখন তারা আবার ফোন দেয়। এবং তারা বলে “টাকাটা দেন, না দিলে আপনার অসুবিধা হবে।” তখন আমি বলি, “ঠিক আছে আমি তো শিক্ষক মানুষ, আমার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব না।” তখন তারা বলছে, “আপনি ১০ হাজার টাকা হলেও দেন অন্ততঃ।” আমি তখন বলেছি, “ভেবে দেখবো।” পরদিন ১ টার মধ্যে টাকা দিতে হবে বলে জানায়।

ক্যাম্পাসলাইভ: তারপর কি আর ফোন দিয়েছিলো?

প্রফেসর হাসান পারভেজ: তারপর পরদিন ১ টা ৩০ মিনিট এ ফোন দেয় যখন আমি মাকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। তারা আমাকে বিকাশে টাকা পাঠাতে বলেন। আমি তখন বলি, “তোমাদের যা করার করো গা, আমি টাকা দিতে পারবো না। আমার পক্ষে টাকা দেওয়া সম্ভব না।” আবার ১ টা ৫০ মিনিটে ফোন দিয়ে আমাকে বলে, “আপনার কি জীবনের ভয় নাই?”

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনি এ ব্যাপারে থানায় জানিয়েছেন কখন?

প্রফেসর হাসান পারভেজ: আমি ২৫ তারিখ সোমবার বোয়ালিয়া থানায় যায় ৬ টায় এবং সেখানকার ডিউটি অফিসার পারভিন আমাকে মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে যেতে বলে। সেখান থেকে আমাকে থানায় জিডি করে জিডি’র কপি নিয়ে আসতে বলে। আমি জিডির কপি নিয়ে গেলে তারা আমাকে দোতলার একটি কক্ষে বসায় এবং তার পনের মিনিট এর মধ্যে একজন বড় কর্মকর্তা (আমি নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না) চলে আসেন এবং তিনি আমার কাছে বিস্তারিত শুনে আমাকে যাবতীয় নিরাপত্তার আশ্বাস দেন।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনার জন্য কি তারা নিরাপত্তার কোন ব্যাবস্থা নিয়েছে?

প্রফেসর হাসান পারভেজ: ডিবি থেকে প্রতিদিন ই আমাকে ফোন দিয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে এবং পুলিশ এর টহল গাড়ি নিয়মিত আমার বাসার সামনে টহল দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আমি ব্যাক্তিগতভাবে আমার প্রতিবেশীদের ব্যাপার টা জানিয়ে রেখেছি। তারাও এখন আমার ব্যাপারে অবহিত এবং নিয়মিত আমার খোঁজ নিচ্ছে।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনি কি নিয়মিত ক্লাসে যেতে পারছেন?

প্রফেসর হাসান পারভেজ: হ্যাঁ আমি আমার শিডিউল অনুযায়ী ক্লাস এ যাই এবং অফিস করি। আমার পরিবার থেকে ব্যাপার টা জানেনা। জানলে তারা হয়তো অযথা ভয় পাবে।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের কে সময় দেওয়ার জন্য। সাবধানে থাকবেন।

প্রফেসর হাসান পারভেজ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

এরপর অভিযোগ এর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে বোয়ালিয়া থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ উপপরিদর্শক সেলিম রেজার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়।

তিনি জানান এই অভিযোগ তারা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। অপরাধীদের সনাক্ত করা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া হওয়ায় সময় লাগছে। তবে উক্ত শিক্ষকের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এটা সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ এর দায়ীত্ব।

উল্লেখ্য, যে এর আগে বিভিন্ন পরিচয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২৬ জন শিক্ষককে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় মতিহার থানায় অন্তত ৫টি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনটারই কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রফেসর হাসান পারভেজকে এই নম্বর (০১৮২০১৪৩৯৪৪) থেকে গত ২৫ জানুয়ারী থেকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছে একটি চক্র।
রাবি// এমআর, ২৯ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// জেআর