[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



শাবিতে র‌্যাগিংয়ের নামে যৌন হয়রানি নিয়ে যা বললেন প্রক্টর


প্রকাশিত: January 31, 2016 , 2:25 am | বিভাগ: আপডেট,ইন্টারভিউ,এক্সক্লুসিভ


sust-kamrujjaman

যোবায়ের আহমেদ : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের নামে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এনিয়ে জনপ্রিয় অনলাইন ক্যাম্পাসলাইভসহ বেশ কয়েকটি মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর থেকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। শাবি প্রক্টর প্রফেসর কামরুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে ঘটনার ব্যাপারে ক্যাম্পাসলাইভের খোলামেলা কথা হয়েছে। পাঠকদের জন্য সেটি তুলে ধরা হল :

শাবিতে বৃহস্পতিবার র‌্যাগিংয়ের কোন ঘটনা ঘটেছিল কিনা এপ্রশ্নের জবাবে প্রক্টর বলেন র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেছে এটা যেমন সত্য তেমনি এঘটনায় এক ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে গেছেন এটাও সত্য। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি বলেন র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতদের বহিস্কারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে এব্যাপারে সুপারিশ করা হয়েছে। আজকালের মধ্যেই এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর।

ছাত্রদের হাতে ছাত্রী র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন এটা কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা অবশ্যই যৌন হয়রানি। কোন ছাত্রীকে র‌্যাগিংয়ের নামে নাজেহাল করা যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। এঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিরো টলারেন্সে রয়েছে। তিনি বলেন এমনিতেই শাবিতে র‌্যাগিং নিষিদ্ধ তার ওপর ছাত্রদের হাতে ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর ভিকটিম ছাত্রী কি বলেছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর বলেন, ওই ছাত্রী তার জবানবন্দিতে বলেছেন তাকে ডেকে নিয়ে র‌্যাগ দেয়া হয়েছিল এবং একপর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে এমন কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল যাতে সে চরমভাবে বিব্রত হয়ে পড়ে।

ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শী অনেকের কাছেই র‌্যাগিংয়ের নামে যৌন হয়রানির বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন শাবি প্রক্টর। তিনি বলেন, প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতেই জড়িত ছাত্রদের বহিস্কারের ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়েছে।

আইনে বলা আছে যৌন হয়রানির দায়ে অপরাধীর অনধিক সাত বছর এবং সর্বনিম্ন তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন কিছু ভাবছে কিনা। এমন প্রশ্নের জবাবে শাবি প্রক্টর কামরুজ্জামান বলেন, আপাতত বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশসনের হাতে রয়েছে। বহিষ্কারের পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশি ব্যবস্থার জন্য বলা হবে। কারাদণ্ডের বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন দেখবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এব্যাপারে কিছু প্রসিডিউর আছে সেগুলো মেনেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলে এব্যাপারে কিছু জানানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর বলেন। বিষয়টি আমি জানি না। এব্যাপারে ওই ছাত্রীর মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সব ছাত্রীরাতো সব প্রেসার সহ্য করতে পারে না। আমরা ওই ছাত্রীর সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা বিবেচনা করছি।

গণিত বিভাগের কতিপয় শিক্ষার্থী বলছেন ওইদিন কোন র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেনি। ওই ছাত্রী অসুস্থতার কারণে অজ্ঞান হয়েছেন। এব্যাপারে শাবি প্রক্টর বলেন, এটা প্রোপাগাণ্ডা হতে পারে। এব্যাপারে ভিন্নমত থাকতে পারে। তবে ঘটনার পরপরই ওই ছাত্রীর বক্তব্য নেয়া হয়েছে। মেডিকেল চেকআপ করা হয়েছে। এমনকি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথাও বলা হয়েছে। সব বিবেচনা করে র‌্যাগিংয়ের নামে যৌন হয়রানির ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া গেছে বলেই জড়িতদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া এব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটিও গঠনের কথা বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে এনিয়ে তদন্ত কমিটিও হয়েছে। তাদের রিপোর্ট আসলেই এবিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন প্রক্টর।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার শাবিতে গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের কতিপয় ছাত্রের র‌্যাগিংয়ে একই বিভাগের এক ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে এঘটনার প্রতিবাদ করায় এনিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রদের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল কমিটি র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের বহিষ্কারের জন্য ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে সুপারিশ করেছে। এছাড়া এঘটনায় একটি ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি হয়েছে। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করার কথ বলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রমতে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতরা হলেন গণিত বিভাগের রাকিব, মোশারফ, মাহমুদ ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রাজু।

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন