[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



৭০ বছর পর প্রেমিক-প্রেমিকার সাক্ষাৎ


প্রকাশিত: February 12, 2016 , 5:59 pm | বিভাগ: অসাম নিউজ,আপডেট


Untitled-1-copy1

লাইভ প্রতিবেদক: প্রকৃত প্রেম কখনো হারায় না। কোনো কারণে হয়তো দূরে সেরে যেতে পারে কিছু সময়ের জন্য। তবুও জীবনে এক দিন না একদিন মনের মানুষকে ফিরবেই। দুজনের দুটি পথ দুটি দিকে বেঁকে যাওয়ার ৭০ বছরের বেশি সময় পর এক জুটির পুনর্মিলন হয়েছে। গত বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় এ ঘটনা ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া থেকে প্রায় ১০ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসে পুরোনো প্রেমিকা জয়েস ডুরান্ট মরিসের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছেন নরউড টমাস। টমাসের বয়স এখন ৯৩, মরিসের ৮৮।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় টমাস মার্কিন সেনা সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের কারণে তিনি লন্ডন গিয়েছিলেন। আর মরিস লন্ডনেই বাস ছিলেন। যুদ্ধের সেই সময়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি এই জুটি পরস্পরকে অনলাইনে খুঁজে পান। এরপর মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়।

প্রথম সাক্ষাতের সময় দুজনই ছিলেন বাকরুদ্ধ। সাত দশক ধরে জমিয়ে রাখা সব আবেগ ঢেলে দিয়ে তাঁরা পরস্পরকে আলিঙ্গন করেন। বিনিময় করেন ভালোবাসার উষ্ণতা।

অস্ট্রেলিয়ার চ্যানেল টেন টিভির একটি শোতে এই পুনর্মিলনকে সবচেয়ে বিস্ময়কর বলে বর্ণনা করেছেন টমাস। তাঁর কথায় পিঠে হাসি দিয়ে সম্মতি জানান মরিস।

টমাস-মরিস যুগল জানিয়েছেন, এবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসটা তাঁরা একসঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা করছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টমাস-মরিসের প্রেমকাহিনির শুরু ১৯৪৪ সালে। স্থান লন্ডনে। তখন তাঁরা দুজনই বয়সে তরুণ। কয়েক মাস তাঁরা চুটিয়ে প্রেম করেছেন। এরপর যুদ্ধের জন্য ফ্রান্সে যেতে বাধ্য হন টমাস। দুজনের মধ্যে তৈরি বিচ্ছেদ।

ওই বিচ্ছেদের পর কেটে যায় সাত দশক। এই সময়ে টমাস ও মরিস আলাদাই থাকেন। তাঁরা নিজেদের মতো করে ভিন্ন মানুষকে বিয়ে করে ঘর বাঁধেন। পরে স্বামীর সঙ্গে মরিসের বিচ্ছেদ হয়। আর কয়েক বছর আগে টমাসের স্ত্রী মারা যান।

মরিস অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন, টমাস যুক্তরাষ্ট্রে। জীবনের শেষবেলায় এসে এই জুটি পৃথিবীর দুই প্রান্তে সঙ্গীবিহীন জীবন কাটাচ্ছিলেন। এর মধ্যে মরিসের ছেলে অনলাইনে টমাসের ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পান। দুই ছেলে মিলে টমাস ও মরিসের মধ্যে স্কাইপ ও ফোনে আলাপের ব্যবস্থা করিয়ে দেন। এভাবেই গত নভেম্বরে এই জুটি ফের একত্র হন।

টমাস এবিসি নিউজকে বলেন, অনলাইনে মরিস যখন তাঁকে ‘টমি’ নামে সম্বোধন করেন, তখন তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মরিস সব সময়ই তাঁর ভাবনায় ছিলেন।

মরিসকে দেখতে মরিয়া ছিলেন টমাস। কিন্তু তাঁদের পুনর্মিলনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। ইতিমধ্যে এই জুটির প্রেমকাহিনি অনেকে জেনে যায়। তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এয়ার নিউজিল্যান্ড টমাস ও তাঁর ছেলের জন্য অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দেয়।

ব্যস, টমাস-মরিসের পুনর্মিলন আর কে ঠেকায়! অবশেষে দেখা।

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// কেএম