[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দুর্দশা


প্রকাশিত: February 12, 2016 , 7:29 pm | বিভাগ: গেস্ট কলাম,ঢাকার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


এস.এম.নাসির উদ্দীন: কলেজের পাঠ চুকিয়ে সবার স্বপ্ন থাকে স্বনামধন্য কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবে। দেশের প্রথম দিকের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোর মধ্যে অন্যতম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।আর ঢাকার ভিতরে অবস্থিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরেই শিক্ষার্থীদের পছন্দে থাকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন না থাকলেও এখানকার স্টুডেন্টরা  মৌলিক চাহিদাগুলো থেকে এতটাই বঞ্চিত যে এরা শুধু একটা সার্টিফিকেট এর জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যায় নিষ্ঠুর এ শহরে টিকে থাকার লড়াইয়ে। প্রতিটি ভোর শুরু হয় নতুন সব চ্যালেঞ্জ এর মধ্য দিয়ে।

আবাসিক সমস্যা
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট হিসাবে হল সবার ন্যার্য অধিকার। কিন্তু দেশের একমাত্র অনাবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা লাগিয়ে জবি পদার্পণ করেছে প্রতিষ্ঠার ১০ম বছরে।আবাসিক সুবিধা না থাকায় রাজধানী ঢাকাতে প্রতিটি স্টুডেন্টকে উচ্চমূল্যে বাসা ভাড়া দিয়ে থাকতে হয় মেসে বা হোস্টেলে।মধ্যবিত্ত বা নিন্মমধ্যবিত্ত ঘরের ছাত্রছাত্রীদেরকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যেতে হয় এই টাকা যোগাড় করতে।শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভয়াবহ জ্যাম পেরিয়ে এদেরকে আসতে হয় ক্যাম্পাসে, যেটাতে ছাত্রছাত্রীদের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। তাছাড়া কয়েক মাস পরপর মেস বা হোস্টেল পরিবর্তন যে কতটা ঝামেলার বলার অপেক্ষা রাখে না। মেসে বা হোস্টলে এরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। গত কয়েক বছরে জবির বেদখলকৃত হল উদ্ধারের আন্দোলনে স্টুডেন্টরা রাজপথে রক্ত ঝরালেও দেশের এই অনাবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র হলের মুখ চোখে দেখে নাই।

পরিবহন সমস্যা
আবাসিক সমস্যার পরে জবির ছাত্রছাত্রীদের বড় সমস্যা পরিবহন সমস্যা।২০,০০০+ ছাত্রছাত্রীদের জন্য আছে মাত্র ১৩/১৪ টা বাস।যেটা খুবই হাস্যকর একটা সংখ্যা এই বিপুল পরিমাণ ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যার প্রেক্ষিতে।এই বাসগুলো দিয়ে মাত্র ১০% এর মত বা তারও কম সংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের পরিবহন সম্ভব হয় তাও গাদাগাদি করে।কয়েকদিন আগেও একছাত্র প্রাণ হারায় বাস থেকে পড়ে।আবাসিক সুবিধা না থাকায় ছাত্রছাত্রীদেরকে যেহেতু ক্যাম্পাসের বাহিরে থাকতে হয় সেহেতু এই মুষ্টিমেয় কিছু বাস দিয়ে এদেরকে ঘোল খাইয়ে দুধের স্বাদ নিতে দেওয়া হয়।

তারপরেও বড় বেমানান বিষয় হলো বাসগুলোর ট্রিপ বাড়ানো হয় না, শুধু কাকডাকা ভোরে বাসগুলো ছেড়ে আসে আর বিকালে ছেড়ে যায় সেই গন্তব্য স্থলে।বাকি সময়টুকু বাসগুলোকে বিশ্রাম দেওয়া হয়।ট্রিপ বাড়াতে যে খরচ হবে, সেজন্যই আর ট্রিপ বাড়ে না।

ক্লাসরুম সমস্যা:
ক্লাসরুমের ব্যাপরে কথা বলতেও লজ্জা লাগে। যেখানে স্কুল কলেজে আমাদের ক্লাস রুমের কোন সংকট ছিল না, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নতুন অভিজ্ঞতা ক্লাসরুম সংকট।ক্লাসরুম সংকটের কারণে ছাত্রছাত্রীদের সিডিউল অনুযায়ী ক্লাসের সমস্যা আর বিড়ম্বনার কথা জবির ছাত্ররাই উপলব্ধি করতে পারে। মাঝেমধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকা লাগে ক্লাসরুমের ফাঁকা হবার জন্য।বিশ্ববিদ্যালয়ে  নতুন নতুন  ডিপার্টমেন্টও খুলছে না  ক্লাসরুম সংকটের কারণে।

ক্যান্টিনের সমস্যা:
অবাক করার মত বিষয় এই যে, একটিমাত্র ক্যান্টিন নিয়ে পৃথিবীতে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে কিনা? তারপরেও মেনে নিলাম পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে ক্যান্টিন বাড়ানো সম্ভব নয়।কিন্তু ক্যান্টিনের খাবারের যে মান সেটা ঢাকা শহরের  ফুটপাতে গড়ে উঠা উন্মুক্ত রেস্টুরেন্টের চেয়েও বাজে।মাত্র গুটিকয়েক আইটেমের খাবার এখানে পাওয়া যায় কিন্তু দামও বেশ  চড়া। মাঝেমধ্যে বাসি খাবারও পরিবেশন করা হয় দেদারছে।

ক্যাম্পাসের জায়গা সংকট:
জবির মূল ক্যাম্পাসের আয়তন প্রায় ১১একর মাত্র।আর ক্যাম্পাসের ভিতরে যে খালি জায়গা আছে সেখানে বাস/কার রাখলেই  ক্যাম্পাস আর দেখার মত থাকে না।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মাত্র  এতটুকু জায়গা মেনে নেওয়া যায় না।এখানে মুক্ত ভাবে ঘোরাঘুরি করা যায় না।বসার যে জায়গাগুলো আছে সেখানে সিনিওররা বসলে আর জুনিয়রদের বসার জায়গা থাকে না।

খেলাধুলা চিত্তবিনোদনের সুযোগের অভাব:
হাস্যকর ব্যাপার হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা খেলার মাঠ রয়েছে যেটা মূল ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।আশ্চর্য বিষয় হলো খেলার মাঠটিও আস্তে আস্তে সংকুলিত হচ্ছে।নেই কোন জিমনেসিয়াম। নেই সংগীত চর্চা করার মত উন্মুক্ত জায়গা।

সেশন জট:
জবির মুষ্টিমেয় কিছু ডিপার্টমেন্টে এখনও সেশনজটের মত অভিশাপ লেপটে আছে হতভাগা কিছু ছাত্রছাত্রীদের ললাটে।আর জবির মত অনাবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এটা কতটা যন্ত্রণার সেটা ভুক্তভোগীরাই বোঝে।সেশনজটের প্রতিটি দিন যেন নিষ্ঠুর এ শহরে টিকে থাকার লড়াইয়ে আরেকটা দিনের যুক্ত হওয়া।

এতসব সমস্যা নিয়েও এখানকার ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে যাচ্ছে, অবদান রাখছে দেশর বিভিন্ন ক্ষেত্রে। কিন্তু আফসোসের বিষয় কেউ এদের দিকে ফিরে তাকায় না। এদের সমস্যা নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই।

লেখক:
শিক্ষার্থী, ফার্মেসী বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// কেএম