[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



৪৮ ঘণ্টার অনশন, ফলাফল শূন্য


প্রকাশিত: February 16, 2016 , 9:41 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের টানা ৪৮ ঘণ্টার অনশন অবশেষে থেমে গেল। শূন্য হাতেই ফিরে যেতে হলো প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থীকে। ‘আমরা ভুল করেছি আমাদের ক্ষমা করে দিন’, ‘আমরা সন্তান আমরা ভুল করলে শাস্তি দিতেই পারেন তবে মৃত্যু না’”, ‘আমরা অনুতপ্ত আমরা পরিবার হারাতে চাইনা’, ‘আমরা একটি সুযোগ চাই’ এমন অসংখ্য অনুনয়-বিনয় কোনো কাজেই আসলো না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থী গত রোববার বেলা ১১টা থেকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে অবস্থান কর্মসূচি ও অনশন চালিয়ে আসছিলেন।

বিভাগ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ক্লাসে নূন্যতম উপস্থিতির হার ৬০% না থাকায় তাদের বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হচ্ছে না। তাই তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও অনশন করে আসছিলেন। অনশন চলাকালে সোমবার তিনজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হোন। এছাড়া আজ মঙ্গলবার একাডেমিক কমিটির সভা চলাকালে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আন্দোলনের খবর শুনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব সহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা আইন বিভাগের শিক্ষকদের সাথে দেখা করলে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে একাডেমিক কমিটির সভা আহ্বান করা হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আইন বিভাগ একাডেমিক কমিটির সভা শুরু হয় এবং সভায় প্রথম বর্ষের ৫৭ জন এবং দ্বিতীয় বর্ষের ৪৫ জন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা না দিতে দেবার সিদ্ধান্ত পুনরায় গ্রহণ করা হয়।

সভা শেষে বিভাগের প্রায় সকল শিক্ষক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদেরকে আগামি বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আহব্বান জানান। শিক্ষকরা অনশনকারী শিক্ষার্থীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাশ করে বের হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তারা অনশন ভেঙে সেখান থেকে চলে যান।

এর আগে সোমবার রাত ১০টায় রাবি প্রক্টর তরিকুল হাসান আইন বিভাগে গিয়ে অনশনরত ছাত্র-ছাত্রীদের আইডি কার্ড নিয়ে তাদের পরিবার সম্পর্কে তথ্য নিয়ে আসেন।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রক্টর তরিকুল হাসান রাত ১২টার মধ্যে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে ফোন দিয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের আন্দোলন থেকে চলে আসার অনুরোধ করতে বলেন। এছাড়া অনশনকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে বলে হুমকি প্রদান করেন।

হুমকি পেয়ে চারজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা যায়। এর মধ্যে মাহমুদুল হাসান সৌরভ নামে একজন শিক্ষার্থীর মা স্ট্রোক করেন। তার অবস্থা গুরুতর।

এছাড়া যাদের অভিভাবক অসুস্থ হয়েছেন তারা হলেন প্রথম বর্ষের নাজমুল চৌধুরী শিশিরের বাবা, আসাদুল্লাহ আসার বাবা। এছাড়া একটি মেয়ের মা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এই অভিযোগের ব্যাপারে রাবি প্রক্টর তারিকুল হাসানের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেন নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিভাগের শিক্ষকরা এসে অনুরোধ করায় আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসলাম। আমাদের বলি দেয়া হল তবু মেনে নিতে বাধ্য হলাম। কিছুই করার নেই আমাদের। একজন মেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে ৪০% উপস্থিতি থেকে। কারণ, তার জন্য রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে ফোন এসেছিল। আমাদের ফোন করার কেউ নেই। তাই আমরা এতকিছু করেও পরীক্ষা দিতে পারলাম না। আমরা ভুল করেছিলাম কারণ, এর আগে একই ভূল করেও সবাই পরীক্ষা দিতে পারতো। আমাদের সচেতন না করে বলি বনানো হলো।” এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের অনশনের মধ্যও গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রথম বর্ষের ১০৭ নং কোর্সের পরীক্ষা শুরু হয় এবং দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা আগামী মার্চ মাসে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, প্রথমবর্ষের ৫৭ জন এবং দ্বিতীয় বর্ষের ৪৫ জনের কেউই এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

 

রাবি// এমআর, ১৬ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএইচ