[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



অস্তিত্ব…


প্রকাশিত: February 19, 2016 , 3:42 pm | বিভাগ: আর্টস এন্ড লিটারেচার,রাইম, স্টোরি এন্ড জোকস


নয় নয় করে প্রায় এক বছর হয়ে গেল তাদের দাম্পত্য জীবনের । দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে, সুতরাং পূর্ব পরিচয়ের কোন অবকাশ ছিল না। সদ্য অনার্স এর পাট চুকানো ইন্দ্রাণীর জীবনে হুড়মুড় করে আগমন হল দিপাঞ্জন নামের এক আগুন্তকের। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তেইশ বছরের প্রাণচঞ্চল যুবতীর চিরচেনা গণ্ডি ছেড়ে আচমকা একদিন বাবা-মা কে কাঁদিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল ইন্দ্রাণী, সেই আগুন্তকের হাত ধরে। শ্বশুর-শাশুড়ি ইহধাম ত্যাগ করেছেন বহু বছর আগেই, তাই আর দশজন নবপরিণীতার মত একান্নবর্তী পরিবারে বরণ করে নিল না কেউই, দুই কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে নবজীবনের যবনিকা উত্তোলন হল। দিপাঞ্জনের কাকা যথেষ্ট আদর করেন ওকে, নিজেদের বাড়িতে তুলতে চাইছিলেন ভাগ্নে বউকে । কিন্তু ব্যাক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী,  আত্মাভিমানী দীপাঞ্জন কারো বাড়ির গলগ্রহ হয়ে থাকতে নারাজ।

এ নিয়ে মনমালিন্যও হয়েছিল কাকার সাথে। শেষমেশ রণে ভঙ্গ দিয়ে বললেন, তথাস্তু। দীপাঞ্জনের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও কাকিমা সাজিয়ে গুছিয়ে দিলেন নতুন সংসার । আসবাব-পত্র থেকে শুরু করে তৈজসপত্র-কিছুই বাদ রাখেননি কাকিমা। শাশুড়ির অনুপস্থিতি টেরই পেতে দেননি ইন্দ্রাণীকে। বিবাহোত্তর জীবনের শুরুতে  যে ভীতি আর সংকোচের আচ্ছাদনে আবৃত হয়ে থাকে মেয়েরা, ইন্দ্রাণীর ক্ষেত্রে তা নিমেষেই দূর করে দিলেন তিনি। মমত্ববোধ আর স্নেহ দিয়ে।

আর দীপাঞ্জন? ঝলমলে রোশনাই আর জরি চুমকির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ইন্দ্রাণীর সাথে বুঝিবা একটু  চোখাচোখি হয়েছিল বিয়ের আগমুহূর্তে । এরপর আগত অতিথিদের সাথে আলাপচারিতায় আর অভিবাদন, অভিনন্দন গ্রহনের হুলুস্থুলে কেটে গেছে সময়,  প্রগলভ হওয়া তো দূরে থাক, বাক্যালাপের দুএকটি দুর্লভ মুহূর্ত বুঝিবা পেয়েছিল দুজন, কিন্তু অবিরাম ক্যামেরাবন্দি হতে গিয়ে তাও হারিয়ে গেল। মায়া আর  ভালবাসার সংমিশ্রণে, তেইশ বছর ধরে তিল তিল করে  গড়ে ওঠা সকল বন্ধন ছিন্ন করে, চোখের কোণে জল, আর দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে যখন বিদায় নিয়েছে ইন্দ্রাণী, তার প্রকম্পিত হাতের উপর হাত রেখে যেন নিঃশব্দে, চুপিসারে আশ্বাসবাণী শোনাতে চেয়েছে নির্বাক দীপাঞ্জন, উষ্ণ ছোঁয়ায় বলতে চেয়েছে, ভয় নেই, আমি আছি তো। শুনশান রাতে অন্ধকারের ব্যূহ ভেদ করে  যখন ছুটে যাচ্ছিল পুষ্পসজ্জিত গাড়ি,  ভেতরে জড়সড় হয়ে বসে থাকা  আড়ষ্ট , সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর একাকীত্ব কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পেরেছিল দীপ।

বেনারসি শাড়ি-অলঙ্কা্রের আভরণ ছেড়ে নির্ভার হয়ে মধ্যরাতে ঘুমুতে এসে বিছানার মাঝে পড়ে থাকা এক চিরকুট আবিষ্কার করেছিল ইন্দ্রাণী ।

‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের প্রথম ধাপ কি জানো ইন্দ্রাণী ? বন্ধুত্ব। বিশেষ করে দুটো মানুষের মধ্যেকার  দূরত্ব আর  মানসিক ব্যবধানকে কে দূর করতে বন্ধুত্বের বিকল্প নেই। যদিও আইনের বিধান মতে  স্বামী –স্ত্রী সম্পর্কে আবদ্ধ, একে অপরের কাছে এখনও অপিরিচিত আমরা। অগত্যা আজকে তোমার কাছে একটাই প্রতিজ্ঞা করছি ইন্দ্রাণী, যতদিন পর্যন্ত না আমাদের মাঝে এ মানসিক দূরত্ব দূর হবে,   ততদিন পর্যন্ত আমি এ কামরার চৌকাঠ পেরবো না । অপেক্ষা করব সেদিনের যেদিন এ অদৃশ্য প্রাচীরের অস্তিত্ব থাকবে না।

অনেক ধকল গেছে সারাদিন। এবার বিশ্রাম নাও…

পুনুশ্চঃ ইন্দ্রাণী নামটা বড় খটমটে, ইন্দু ডাকতে পারি তোমাকে? ’

কিছুটা বিস্মিত, কিছুটা অভিভূত ইন্দ্রাণী ততক্ষণে পায়ে পায়ে শোবার ঘরের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছে।  বিহ্বল হয়ে দেখছে কোলবালিশ আঁকড়ে থাকা, সোফায় ঘুমন্ত স্বামীকে।  পঁচিশ বছরের দামড়া দীপাঞ্জনকে ছোট শিশুদের মত এমন গুটিসুটি মেরে ঘুমুতে দেখে বেজায় হাসি পেল তার।

মায়াও হল বুঝি…

মুখচোরা ইন্দ্রাণী প্রথম প্রথম ভীষণ লজ্জা পেত কথা বলতে। একটু অস্বস্তিও লাগত বটে। ক্লাস  থেকে ফিরে এতাল-বেতাল কত গল্প করত দীপাঞ্জন, শুনে যেত ইন্দ্রাণী । বাক্যস্ফূর্তি হত না তেমন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ইন্দ্রাণীর পছন্দ, অপছন্দের কথা জিজ্ঞেস করত দীপ। ইন্দ্রাণীর প্রিয় লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে পারার পর একসাথে বারোখানা উপন্যাস সমগ্র কিনে নিয়ে আসল। আচ্ছা পাগল তো!

সেই থেকে শুরু তাদের গল্পের। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গাঢ় হল, গভীর হল পারস্পরিক বোঝাপড়া…

আর তারপর?

মুক্তোদানার মত আবির্ভাব ঘটল জগতের সবচেয়ে নিখাদ, অবিমিশ্র অনুভুতির।

কড়া নেড়ে নিজের উপস্থিতির জানান দিল ভালবাসা…

কে জানত আধপাগল, খ্যাপাটে আগুন্তক একদিন অজান্তেই সম্মোহিত করে ফেলেবে ইন্দ্রাণীকে !

বিয়ের এক মাস আগে এক বন্ধুর মারফত চাকরিটার খবর পায় দীপাঞ্জন, বেতন শুনেই চক্ষু চড়কগাছ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মার্কশিট, সার্টিফিকেট, প্রশংসা পত্র, প্রত্যয়ন পত্র জড় করে আবেদন করল। ঘুণাক্ষরেও জানল না কেউ। কাকা-কাকি তো নয়ই। ইন্দ্রাণীর কাছেও বেমালুম চেপে গেল কথাটা। সত্যি কথা বলতে, দীপাঞ্জন স্বপ্নেও ভাবেনি চাকরিটা হয়ে যাবে। তার থেকে কত যোগ্যতাসম্পন্ন আবেদনকারীরা এ চাকরি পাওয়ার জন্য মরিয়া , কঠিন প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে সে পিছিয়ে পড়বে, এটাই তো স্বাভাবিক । সুতরাং চাকরিটা হওয়া না হওয়া নিয়ে সে আর তেমন মাথা ঘামায় নি। স্নাতক শেষ করে, প্রায় সাতপাঁচ না ভেবে চটজলদি প্রভাষক হিসেবে যোগদান করল।

দিনটা স্পষ্ট মনে আছে ইন্দ্রাণীর। দাম্পত্য জীবনের অজস্র সুখস্মৃতির ভিড়ে আজও অম্লান। সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল, সাথে তুমুল, এলোপাথাড়ি বাতাস। বর্ষার প্রথম বর্ষণ যেন শান্তির প্রলেপ বুলিয়ে দিয়ে যাচ্ছিল দাবদাহে অতিষ্ঠ পৃথিবীর উপর। প্রফুল্লচিত্তে টেনে নিয়ে গেল দীপাঞ্জনকে ছাদে। ভিজব না ভিজব না করে শেষ পর্যন্ত ইন্দ্রাণীর জেদের কাছে মাথা নত করতেই হল।কামান দাগার মত গুরুম গুরুম শব্দে যেই বাজ পড়ে, ভীতসন্ত্রস্ত ইন্দ্রাণী ওমনি দুই হাতে আঁকড়ে ধরে দীপকে।  কি অদ্ভুত সুন্দর কেটেছিল দিনটা!

রাতে খিচুরি রান্নার তোড়জোড় করছিল ইন্দ্রাণী । অপটু, অনভ্যস্ত হাতে হাতা-খুন্তি-করাই নিয়ে যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই গমগমে স্বরে দীপাঞ্জনের হাঁকডাক। অগত্যা ছুটতে হল।

শোবার ঘরে পায়চারি রত অন্যমনস্ক স্বামী কে দেখে প্রথমে বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিল ইন্দু। ত্রস্ত পায়ে হেটে গিয়ে কাঁধে হাত রেখে মৃদু চাপ দিল।

‘কি হল? ডাকছিলে?’, নিচু গলায় শুধোল।

ইন্দ্রাণীর উৎকণ্ঠিত মুখ দেখে ফিক করে হেসে দিল দীপাঞ্জন।

‘মুখ থমথম করছে কেন? এসো বস’, বলে চেয়ারটা এগিয়ে দিল।

দীপাঞ্জন সব খুলে বলার পর প্রথম কয়েক সেকেন্ড নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না ইন্দ্রাণী।  থেমে থেমে বলল,

‘তোমার চাকরি হয়েছে? লন্ডনে ?’

কম্পিউটার মনিটরে ভেসে থাকা বৈদ্যুতিক মেলটার দিকে এক ঝলক তাকিয়ে  গম্ভীর স্বরে বলল ‘হুম’। মাত্র জানলাম। ’

এরপর বেশ কিছুটা সময় চুপ করে কি যেন ভাবল ইন্দ্রাণী। নীরবতা ভাঙল দীপ।

‘কিছু বলছ না যে? কি ভাবছ?’  কৌতূহলী চোখে পরখ করছে ইন্দ্রাণীকে।

আস্তে আস্তে মুখে এক চিলতে হাসি ফুটল ইন্দুর। বিষণ্ণতার।

‘ভাবছি তোমাকে ছাড়া কি করে থাকব।’

তড়াক করে উঠে গেল দীপ, ইন্দ্রাণীকে স্তুম্ভিত করে দিয়ে অট্টহাসি হেসে বলল,

‘তোমাকে ছাড়া মানে? তুমিও তো যাচ্ছ আমার সাথে! ’

 

এরপর দুটো মাস যেন ঝড়ের গতিতে কেটে গেল। ছুটছে দীপাঞ্জন, ছুটছে ইন্দ্রাণী। একদিকে পাসপোর্ট অফিস, দূতাবাসে চরকি কাটছে দীপ, অন্যদিকে ইয়া বিশাল ফর্দ নিয়ে মায়ের সাথে দোকান পাট চষে বেড়াচ্ছে ইন্দ্রানি। দুজনের জন্য বোচকা ভরে গরম কাপড় দিলেন কাকিমা। বিছানার চাদর থেকে শুরু করে থালাবসন, মশলাপাতি- এত্ত এত্ত কেনাকাটা করতে গিয়ে গলদঘর্ম দশা ইন্দ্রাণীর।

তথাপি, একদিন সত্যি সত্যি সাত সমুদ্র তেরো নদি পাড়ি দিল দুজন…

রানওয়ে ঘুরে  বিকট শব্দ করে উড়োজাহাজটা যখন তীব্র গতিতে আকাশের উদ্দেশ্যে ডানা মেলল, এক অদ্ভুত হাহাকার ঘুরপাক খাচ্ছিল ইন্দ্রাণীর শূন্য হৃদয় জুড়ে।  বারবার ঘুরে ফিরে একটা কথাই তরান্বিত হচ্ছিল মনের ভেতর।

নেই নেই নেই…

পাশের সিটে বসা দিপাঞ্জন সহসা ঘুরে তাকাল,

উদ্বিগ্ন গলায় বলল ‘এত ফ্যাকাসে লাগছে কেন? ভয় পাচ্ছ?’

ঠোঁট চেপে কান্না প্রতিরোধের সকল প্রয়াস ব্যর্থ হয়ে গেল এক প্রশ্নেই, অঝোর ধারায় নামছে দু গাল বেয়ে..

এয়ারপোর্টে রওনা দেবার আগে বিদায় পর্ব সেরে নিচ্ছিল ইন্দ্রাণী। দীপের কাকা কাকি,  ইন্দ্রাণীর দিকের আত্মীয়স্বজনেরা প্রায় সবাই এসেছেন- আজ তাদের ছোট্ট বাড়িতে প্রচুর জনসমাগম। অশ্রুসিক্ত চোখে কাকির সাথে কোলাকুলি করে দ্রুতপদে সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে নামছে ইন্দ্রাণী, তাড়া দিচ্ছে দীপাঞ্জন, ‘জলদি কর, দেরি হয়ে যাচ্ছে যে !’

গাড়ির ইঞ্জিন চালু হতেই আচমকা বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মত ইন্দ্রাণীর ঘাড় ঘুরে গেল

যাবার আগে মার সাথে তো দেখা হল না!

হঠাৎ বাড়ির বারান্দায় দাঁড়ানো এক ছায়ামূর্তি চোখে পড়ল। সায়াহ্নের ফিকে হয়ে আসা আকাশের দিকে সটান চেয়ে আছে মূর্তিটা ।

ওটা মা না ?!

আর ঠিক তখনই গাড়ি ছেড়ে দিল…

ছোটবেলায় ইন্দ্রাণীর একটা বিচিত্র অভ্যাস ছিল, মায়ের বিয়ের ওড়নাটা ঘোমটার মত দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব নিরীক্ষণ করা। মা বকাঝকা করলে অবলীলায় বলত, ‘আমার বিয়ে হলে এটা কিন্তু নিয়ে যাব’।

বিয়ের পরের দিন ইন্দ্রাণী সুটকেস থেকে কাপড় বার করে আলমারির তাক গুলোতে সাজাচ্ছিল। সোনালি গরদের শাড়িটা বের করতে গিয়ে হঠাৎ রক্তজবা রঙের একটা কাপড়ের টুকরো বেরিয়ে এল।

বারো বছর আগে ইন্দ্রানির করা আব্দার কোন এক ফাঁকে পূরণ করে দিয়েছিল মা………

দিপাঞ্জনের কাঁধে মাথা রেখে লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ইন্দ্রাণী। আজ মায়ের ওড়নাটা ফেলে এসেছে সে…

ফেলে এসেছে অমূল্য শৈশব…

ফেলে এসেছে এগারো বছরের সেই ইন্দ্রানিকে…

ছোটকালে হাওয়াই মিঠাই খুব প্রিয় ছিল ইন্দ্রাণীর, তাই অফিস থেকে ফেরত আসার সময় প্রায়ই বাবা নিয়ে আসত দুতিনটা।

দৌড়ে গিয়ে বাবার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে আট বছরের ইন্দু…

আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার জিতল ইন্দু, দর্শকদের তুমুল করতালির মাঝে স্টেজ থেকে নেমে মাকে জড়িয়ে ধরল…

সমাবর্তনের দিন বক্তৃতা দিচ্ছে  ইন্দ্রাণী, মাইকে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘আমার সব সাফল্য শুধুমাত্র তাদেরকেই উৎসর্গ করতে চাই, যাদের কারণে আজ আমি এখানে। আঁচল দিয়ে চোখ মুছল মা্‌…

‘দেখ চাচি অপ্সরীর মত লাগছে আমাদের ইন্দু কে বিয়ের সাজে!’ মেয়ের রূপের স্তুতি শুনে  মায়ের স্মিত হাসি । তাতে লুকোচ্ছে চোরা বিষাদ..

ইন্দ্রাণীর কান্না মেশানো কাজল  লেপটে গেল বাবার নতুন পাঞ্জাবীতে…

কিশোরী বালিকা থেকে পরিণীতা স্ত্রী হয়ে ওঠার এ লম্বা, ক্লান্তিকর সফর তৈরি করার আগমুহূর্তে কেন যে টোকা দিয়ে যায় পুরনো স্মৃতিরা! কেন যে হানা দেয় কুড়িয়ে পাওয়া ছোট ছোট অপার্থিব সুখদুঃখ গুলো…

বড্ড কঠিন এ নারী জীবন। কন্যা, স্ত্রী, মা-এমনি আরও কত সম্পর্কের বলয়ে আবর্তিত হয় তার জগৎসংসার, কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে কি নিষ্করুণ ভাবেই উপড়ে ফেলতে হয় শেকড়কে, খুঁজে নিতে হয় নতুন অভয়ারণ্য। পুরনো আশ্রয় ছেড়ে…

এই তো নারীর অস্তিত্ব…

 

লামিয়া মহসিন

শিক্ষার্থী, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।  –