[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাবিতে আত্মহত্যার প্রবণতা, আতঙ্কিত অভিভাবকরা


প্রকাশিত: February 20, 2016 , 11:11 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


মুসফিকুর রহমান মুন্না, রাবি: আত্মহত্যা। একটি শব্দ। একটি অভিশাপ। একটি যন্ত্রণা।  ‍মুহুর্তেই জীবন হয়ে যায় তছনছ। নেমে আসে অন্ধকার। নানা কারণে ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ক্রমেই এর প্রবণতা বাড়ছে।

অনেক অভিভাবক এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন বলেই জানা গেছে। তারা বলছেন গত কয়েক বছর ধরে আত্মহত্যার কথা আমরা একটু বেশি শুনছি। ইতিপূর্বে এসব তেমন শুনা যেত না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন এর পিছনে বিভিন্ন ঘটনা কাজ করছে। কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আবার কেউবা তার নানান সমস্যার সমাধান খুঁজে না পেয়ে বেছে নিচ্ছেন এই পথ। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরা সাধারণত পারস্পরিক প্রেম জনিত কারণে এই গর্হিত পথ বেছে নেয়। প্রবল মানসিক চাপ ও আর্থিক সমস্যার কারণেও কেউ কেউ আত্মহত্যা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী মুখ। একবুক আশা নিয়ে বাবা মা তার ছেলেমেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। তাদের আশা পড়াশুনা করে বড় মানুষ হয়ে ঘরে ফিরবে। একসময় বড় কোন পদে চাকরী করে অফুরন্ত সুখ এনে দিবে। দুচোখ ভরে তারা স্বপ্ন দেখেন। তারা ভাবেন কেউ হবে একজন গবেষক। কেউবা রাজনীতিবিদ। কেউবা হবে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা। আবার কেউ হবে মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা। অথচ উজ্জল জীবনের এই দাড়প্রান্তে আসার পরও জীবনটাই রাখছেন না কেউ কেউ।

হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর সাথে ভর্তিযুদ্ধ জয়ী হয়ে যারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হচ্ছে তারা কখনও কখনও হয়ে যাচ্ছে জীবন যুদ্ধে পরাজিত। দেশের প্রথম সারির এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৬বছরে ১১ জন ছাত্র-ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। পরিবারের, সহপাঠী, বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র এবং পত্রপ্রত্রিকার সংবাদ  পড়ে জানা গেছে প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক অশান্তি, পড়াশুনায় হতাশা, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলই এর প্রধান কারণ।

অভিবাবকদের অভিযোগ, ১১ টি আত্মহত্যার একটিরও তদন্ত হয়নি। অপমৃত্যু মামলা দায়ের হলেও তা থাকছে ফাইল চাপা পড়ে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকেও তেমন কোন দায়দায়ীত্ব পালন করা হয়নি।  বিশেষজ্ঞরা মনে করেন পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় না থাকা, সামাজিক মূল্যবোধের অভাব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি নির্ভরশীলতা ও সচেতনতার অভাবই এসব আত্মহত্যার মূল কারণ।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে ছাত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। ১১ জন ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে তার মধ্যে ৭ জনই ছাত্রী।  এসব আত্মহত্যার বেশির ভাগের পিছনেই রয়েছে প্রেমে ব্যর্থতা সইতে না পারা। আত্মহত্যাকারীদের ৭ জন প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ও দুইজন পারিবারিক দ্বন্দে এবং দুইজন বিষন্নতায় ভূগে এই পথ বেছে নিয়েছেন।

২০১৬ সাল
২০১৬ সালের মাত্র দুই ফেব্রুয়ারি মাস চলছে এরই মধ্যে দুইজন ছাত্র-ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ছাত্রীর নাম ফারজানা আফরোজ ফাতেমা (২০)। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে তার আত্মহত্যার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় পুলিশ। ফাতেমা মাগুরা জেলার মুন্সিপাড়া এলাকার মুন্সি সৈয়দুজ্জামানের মেয়ে।  আফরোজ ফাতেমা শিরোইল শান্তিবাগ এলাকায় শুকুর আলীর বাড়িতে তার স্বামী রুবেলের সাথে ভাড়া থাকতো। তার পরিবারিক সূত্রে জানা যায় রুবেলের সঙ্গে ফাতেমার তিন বছর আগে গোপনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের কেউ তা মেনে নেয়নি। এছাড়া ফাতেমার পরিবারের অভিযোগ তার স্বামীর পরিবারের লোকজন ফাতেমাকে মানসিক নির্যাতন করতো। এ নিয়ে ফাতেমা এবং রুবেলের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি ছিল। শুক্রবার দুপুর ২ টায় তার প্রতিবেশিরা অনেক্ষন ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ফেলে। এসময় তারা ফাতেমাকে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

গত ৩০ জানুয়ারি শনিবার রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানার পাশের একটি ছাত্রাবাসে নিজ কক্ষে গলায় গামছা পেঁছিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুঁলে ফলিত গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুব্রত কুমার প্রামাণিক আত্মহত্যা করেন। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে তার প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছিল। তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায় সুব্রতর খুব ইচ্ছা ছিল মেডিকেল কলেজে পড়ার। মাত্র ০.৫ মার্কস এর জন্য সে মেডিকেলে চান্স পায়নি। তারপর থেকেই সে হতাশায় ভুগত। তার প্রথম বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে প্রথম তিনটি পরীক্ষা ভাল হলেও চতুর্থ পরীক্ষাটিতে খারাপ করে ফেলে। মেডিকেলে চান্স না পাওয়ায় হতাশা আর পরীক্ষায় খারাপ করার চিন্তাই তার আত্মহত্যার মূল কারণ বলে পরিবারের লোকজন মনে করেন।

২০১৪ সাল
২০১৪ সালে আত্বহত্যার ঘটনা একটি। এবছর  ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেন। তার নাম ইসরাত আরেফিন। তিনি রাজশাহী মহানগরী হেতেম খা এলাকার নজরুলের মেয়ে বলে জানা যায়। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জীবনের সোনালী সময় পার করার কথা ছিল সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া রেল লাইনে পার্বতীপুর থেকে রাজশাহী গামী উত্তরা ট্রেনের ধাক্কায় সে আত্মহত্যা করে। পুলিশ জানায় প্রেম ঘটিত কারণেই এই আত্মহত্যা।

২০১৩
২০১৩ সালের ১৩ জুলাই শুক্রবার পরকীয়া প্রেম আসক্ত বাবার অত্যাচার সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন এমবিএর শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার। নিহত নাজমুন নাহার এলাকার বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুন্নবীর মেয়ে বলে জানা যায়। নিহতের ছোটভাই মোবাশ্বির হুসাইন জানান, ‘মৃত্যুর আগে আম্মুর শাড়ি নিয়ে এসে আপু বলেছিল, হয় তুই মর নইলে আমি মরবো। কিন্তু আমি মরতে পারিনি। শেষে আপু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলো। মোবাশ্বির হুসাইন আরো ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার সঙ্গে এক মহিলার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এরই জের ধরে প্রায় প্রতিদিন দুই ভাই-বোন ও তার মাকে মারপিট করতেন তার বাবা। পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে মোবাশ্বির হুসাইন বলেন দুপুরে পরিবারিক কলহের জের ধরে তার বাবা নুরুন্নবী, মা মরিয়ম বেগম (৪৫), বোন নাজমুন নাহার (২৫) ও তাকে বেদম মারপিট করেন। এসময় তিনি তাদের ভরণ-পোষণ চালাতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান পরে ওইদিন সন্ধ্যায় নাজমুন নাহার অভিমান করে শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানেরসঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

২০১১ সাল
২০১১ সালেই তিনজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাবির গণিতের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আমানুর রহমান ইলিয়াস আত্মহত্যা করেন। পারিবারিক দ্বন্দের জেরে তার এই আত্মহত্যা বলে জানা গেছে। একই বছর ৭ মার্চ প্রেম ঘটিত কারণে বিষপানে আত্মহত্যা করেন রাবির লোকপ্রশাসনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহাকুল ইসলাম সোহাগ । সোহাগের সহপাঠী ও বন্ধুরা জানায়, ওই দিন সকালে সোহাগ ওর গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার গুরুদাসপুরে যায়। বাড়ি গিয়ে বিষপান করলে রাত নয়টার দিকে আত্নীয়-স্বজনরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এলাকার এক মেয়ের সঙ্গে ওর প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। আর এই প্রেম ঘটিত কারণেই সাহাকুল আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এর মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ১০ মার্চ প্রেম ঘটিত কারণে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী কবিতা রাণী রায় আত্মহত্যা করেন।

২০১০ সাল
২০১০ সালে আত্মহত্যার ঘটনা চারটি।  ২০১০ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ মাসে মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে তিন জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস কেয়া নিজ কক্ষের ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী মির্জাপুর এলাকার নীলা ছাত্রীনিবাসে এ ঘটনা ঘটে। মতিহার থানা পুলিশ জানায়, কেয়ার কক্ষ থেকে উদ্ধার করা ডায়েরীতে কেয়া অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র প্রেমিক কিরনের সাথে অভিমানের কথা জানিয়ে গেছে। পছন্দের পাত্রের সাথে বিয়ে না দেওয়ায় মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে হলের পুকুরে ঝাপিয়ে আত্মহত্যা করেছিল তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী মার্কেটিং বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী উম্মে হাবিবা মিমি।

এর আগে ২৩ জানুয়ারি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেন ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সামছাদ শারমিন অনু। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ওই ট্রেনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কাছে আসলে সে ট্রেনের নিচে ঝাপ দেয় এবং সঙ্গে সঙ্গে তার পুরো শরীর ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়।  একই বিভাগের শরীফুল ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটান মাস কয়েক পর।

এ ব্যাপারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের  প্রফেসর ড. মোহা. এনামুল হক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন “আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে ব্যাপক ভাবে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা খুব জরুরী। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বুঝতেই পারেনা তারা মানসিক বিষন্নতায় ভুগছে। প্রথমে জানতে হবে কি কি সমস্যার সম্মুখিন হলে একজন মনরোগ বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নেয়া উচিত। একজন বিষন্নতায় ভুগছে এমন কাউকে আগে জানতে হবে যে সে দ্বিধা, দ্বন্দ সমস্যা ভুগছে এবং এই সমস্যা গুলো সহজেই দুর করা যায়। তখনই আসলে খুব সহজেই কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিয়ে একজন সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারে।” তিনি আত্মহত্যার প্রবণতার জন্য সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক যোগাযোগের ব্যবহার বৃদ্ধিতে মানুষের আত্মকেন্দ্রীকতা বেড়ে যাওয়া, সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধনের অভাব, ভবিষ্যত অনিশ্চয়তাকেই দায়ী করেন।

এ ছাড়া তিনি বলেন “অনেক ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনার বিষয়ে বিষন্নতায় ভুগে। ফলাফল খারাপ হওয়া বা পড়াশুনা মনে না থাকা। এসব সমস্যা যখন প্রকট আকার ধারণ করে তখন একজন ছাত্র-ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেচে নেয়। কিন্তু ঐ ছাত্র-ছাত্রীরা যদি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নেয় তবে খুব সহজেই সে এসব বিষয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে”। এজন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্ট দপ্তরের অধীনে একটি পরীক্ষামুলক কাউন্সিলিং পোগ্রাম চালু আছে ২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে। এখানে সপ্তাহে দুইদিন (রবি ও সোম) মনোবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর  তানজির আহম্মদ তুষার এবং একজন শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামুল্যে পরামর্শ প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগের পরেও কেন আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছেনা এই প্রশ্নের জবাবে ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সাদেকুল আরেফিন মতিন জানান “একজন শিক্ষার্থী এগিয়ে আসলে তবেই তাকে কাউন্সিলিং করা সম্ভব। অনেক সময় তারা তার দপ্তর পর্যন্ত পৌছায় না। ফলে তাদের আত্মহত্যা প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছেনা। তবে এখানে যেসব শিক্ষার্থীরা পরামর্শ নিচ্ছেন তারা তাদের সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারছে।” তিনি জানান কাউন্সিলিং পোগ্রামটি স্বল্প পরিসরে শুরু হওয়ায় সপ্তাহে মাত্র ৬ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীকে সমস্যার গুরুত্ব বিবেচনায় সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের পাশে স্থায়ী ভাবে একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলার কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে হাতে নিয়েছে। সেটি চালু হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বক্ষনিক সেবা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি জানান তার দপ্তরে চলা কাউন্সিলিং পোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হলে যেকোন শিক্ষার্থীকে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশর করার পর তাকে ডেকে নিয়ে দুইজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদান করবেন। তিনি দাবি করেন এই প্রোগ্রাম চালুর পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যা, অপরাধ, মাদক প্রবণতা কিছুটা হলেও কমেছে। কাউন্সিলিং কোন প্রচারণা না থাকার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন “যেহেতু এটি ক্ষুত্র পরিসরে পরীক্ষামূলক ভাবে চলছে তাই কৌশলগত কারণে ব্যাপক প্রচারণা না বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ পত্রপত্রিকার মাধ্যমে আমরা এটা জানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

 

রাবি, এমআর //ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// কেএম