[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



নকলা হাজী জাল মামুদ কলেজে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য


প্রকাশিত: February 24, 2016 , 9:34 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ


শেরপুর লাইভ: শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার হাজি জাল মামুদ ডিগ্রি কলেজের ১১ জন শিক্ষকসহ ১ জন পিয়ন নিয়োগে নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সেইসাথে এসব নিয়োগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্যেরও খবর মিলেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।

এদিকে মোটা অংকের নিয়োগ বাণিজ্য ও পরীক্ষা জালিয়াতির  বিষয়ে নকলা জাল মামুদ কলেজের প্রিন্সিপাল মো. লুৎফর রহমান অস্বীকার করে ক্যম্পাসলাইভকে বলেন, সরকারের এমপিও ভুক্ত কলেজে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে জারি করা পরিপত্র অনুযায়ীই আমরা নিয়োগ পক্রিয়া শেষ করেছি। তিনি আরও বলেন, এছাড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৬ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।

জানাগেছে, হাজি জাল মামুদ কলেজের শুন্য পদে ইংরেজী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, রসায়ন ও দর্শন বিষয়ে একজন করে লেকচারার ও ডিগ্রি পর্যায়ে ৩য় পদে রাষ্ট্র বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, দর্শন, ইসলামী স্টাডিজ ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে একজন করে লেকচারার এবং কারিগরী শিক্ষা বোর্ড অধিনস্থ এইচএসসি (ব্যবসা ব্যবস্থাপনা) শাখায় শুন্যপদে একজন করে লেকচারার কম্পিউটার অপারেশন ও হিসাব রক্ষণ বিষয়ে দ্বিতীয় পদে, সাধারণ শাখায় এমএলএসএস পদে একজনসহ মোট ১২ টি পদে নিয়োগের জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এসব পদের বিপরীতে ১৭২ জন আবেদন করেন। এসব পদের নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রথম দফায় তারিখ নির্ধারন করা হয় গত বছরের ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর।  এরপর দ্বিতীয় দফায় ৯ ও ১০ জানুয়ারী এবং সর্বশেষ তৃতীয় দফায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৯ ও ৩০ জানুয়ারী।

এদিকে গত ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে অতিরিক্ত সচীব চৌধুরী মুফাদ আহমদ স্বাক্ষরিত (নং-৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৮.০০৮.০৫ (অংশ)-৯৪২) মূলে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে ৪টি ধারায় বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগের কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। ১ নং ধারা মতে পরবর্তি নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারী সকল শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হয়।

সেইসাথে একই পরিপত্রে ৪নং ধারায় ২২ অক্টোবরের পূর্বে গৃহীত নিয়োগ কার্যক্রম পূর্ব নিয়মে যথারীতি সম্পন্ন করার অনুমতি দেয়া হয়। সে হিসেবে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পক্রিয়া পূনরায় সচল করে। কিন্তু সর্বশেষ ৩০ ডিসেম্বর একই মন্ত্রনালয় থেকে সচিব মো. সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত (নং-৩৭.০০.০৭১.০৮.০০৮.০৫ (অংশ)-১০৮১) স্মারকে ‘বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে অনুসরণীয় পদ্ধতি’ শিরোনামে ৩ পৃষ্ঠার একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে ১০ টি ধারা ও উপধারার মধ্যে ১০ এর ০ ধারায় বলা হয়, গত ১১ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে জারিকৃত পরিপত্রটি বাতিল করা হলো। অর্থাৎ পূর্বের নিয়মে শিক্ষক নিয়োগের পক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, কিন্তু নকলা হাজী জাল মামুদ কলেজের নিয়োগ সংশ্লিষ্ট এবং স্থানীয় কতিপয় সরকার দলীয় নেতারা এ নিয়োগকে বৈধ্য করার জন্য ঢাকা ডিজি অফিস, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কারিগরি বোর্ডে দেন-দরবার শুরু করেন। এক পর্যায়ে অজ্ঞাত শক্তির ইশারায় তারা এ নিয়োগ নিয়ে কোটি টাকার বানিজ্যে মেতে উঠে এবং সর্বশেষ ৩০ জানুয়ারী উল্লেখিত পরিপত্রের তোয়াক্কা না করে এ নিয়োগ পক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের জনৈক শিক্ষক, কলেজ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় কতিপয় সরকার দলীয় নেতাদের মধ্যে মোটা অংকের নিয়োগ বানিজ্যে এবং নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দফায় দফায় পরীক্ষা পেছান সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। এক পর্যায় প্রতি জন শিক্ষক পদে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাপ শুরু করেন ওইসব নেতাদের দ্বারে দ্বারে। নিয়োগ প্রত্যাশি প্রার্থীরা টাকা জোগার করতে দেরী করারও একটি মূল কারণ বলে নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক জনৈক প্রার্থী জানান।

এছাড়া উল্লেখিত নিয়োগ সংক্রান্ত পরিপত্র জারির পর স্থানীয় কলেজ কর্তৃক্ষ নিয়োগ দিতে পারবে কিনা তা নিয়েও শংকায় থাকে কর্তৃপক্ষ। এক পর্যায়ে নিয়োগ কমিটি উপর মহলে ম্যানেজ করে তরিঘরি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে নিয়োগ প্রাপ্তদের কাজেও যোগদান করানো হয়।

টাকা প্রদানকারী প্রার্থীরা নাম প্রকাশ না করলেও নকলা এলাকায় চাউর হয়ে উঠে মোটা অংকের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগের এ অনিয়মের খবর। নিয়োগ বাণিজ্যের দৌড়ে যারা টিকতে পারেনি তাদের অনেকেই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশই নেয়নি। আবার কেউ কেউ পরীক্ষায় অংশ নিলেও মৌখিক পরীক্ষার আগে তার নিয়োগ হচ্ছেনা জেনে মৌখিক পরীক্ষা না দিয়ে চলে যান।

বিশেষ করে কম্পিউটার অপারেশন পদের আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার দিন মাত্র ২ জন প্রার্থী উপস্থিত হয়। কিন্তু ৩ জনের কমে কোন নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বিধায় ওই পদে আবেদনকারী এটিএম জাফর উল্লাহ’র অনুপস্থিতে ধুকুরিয়া এ জেড কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের লেকচারার মাহমুদুল হাসান সুমন আবেদন না করেই ড্যামী পরিক্ষার্থী হিসেবে ওই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// কেএম