[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘নৈতিক শিক্ষার বাস্তবসম্মত কারিকুলাম চাই’


প্রকাশিত: March 9, 2016 , 10:12 pm | বিভাগ: আপডেট,ইন্টারভিউ,মত


নিবেদিতা রায়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। বিতার্কিক। চিত্রশিল্পী। আবার কোরিওগ্রাফারও তিনি। একই ভাবে উন্নয়নকর্মী। গবেষক। বহু গুণে গুণান্নিত যিনি তিনিই সবার প্রিয় নিবেদিতা রায়। সদায় হাস্যজ্জল  থাকতেই তার পছন্দ।

তিনি শিক্ষক। কারণ তিনি পড়ান। তিনি নৃত্যুশিল্পী। আবার নাচাতেও পছন্দ করেন। তিনি মিষ্টি হাসেন, সবাইকে হাসাতে পছন্দ করেন। কথায় কথায় তর্ক করেন। কারণ তিনি বিতার্কিক। মনের খেয়ালে, কখনও শখের বসে আনমনে ছবি আঁকেন। কারণ এতে তিনি আনন্দ পান। বহু প্রতিভা ও যোগ্যতা যার মাঝে তিনি সবার প্রিয় শিক্ষক নিবেদিতা রায়।

এবারের নারী দিবসে বিশেষ সাক্ষাৎকারে ক্যাম্পাসলাইভের মুখোমুখি হয়েছেন প্রতিভাবান এই শিল্পী ও সমাজকর্মী। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন ক্যাম্পাসলাইভ প্রতিবেদক ফিরোজ অাল হুসাইন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ব বিভাগের ডান্স ও কোরিওগ্রাফির খন্ডকালীন শিক্ষক।

দুরন্ত ও মেধাবী এই গুনী শিক্ষক কৈশোর পার করেছন নিজ জেলা কুড়িগ্রামে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স ও এমফিল ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

সাংবাদিক হওয়ার নেশা থেকে ভোরের কাগজ এ কিছু দিন সাংবাদিকতাও করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে চঞ্চল স্বভাবের হওয়াতে দীর্ঘ দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক ক্লাবের মডারেটরের দায়িত্ব পালন করছেন।

তার প্রিয় শখ ছবি আঁকা। ছিটমহল সমস্যা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে তার তিনটি আর্টিকেল। বর্তমানে তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সাম্পদায়িক রাজনীতি নিয়ে কাজ করছেন।

ক্যাম্পাসলাইভ: প্রতিবছর ঘটা করে নারী দিবস পালন করে কি কোনো লাভ হচ্ছে?

নিবেদিতা রায়: নারী দিবস প্রতি বছর পালন করে কোন লাভ হচ্ছে না, এমনটি আমি বলব না। মানুষকে সচেতন করে তুলতে নারী দিবস পালন করার যুক্তিকতা রয়েছে। তবে আপত্তির জায়গাটি হলো প্রতি বছর গতানুগতিক কথা বলার জায়গাটিতে পরিবর্তন আনতে হবে “যথাযথ মানুষ হব” এ শিরোনামে প্রতি বছর কিছু অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। তাহলেই স্বার্থকতা হবে।

ক্যাম্পাসলাইভ: নারী কথাটির ব্যাখ্যা কী?

নিবেদিতা রায়: নারীর শাব্দিক অর্থ যেটি হোক না কেন এর অন্তর নিহিত অর্থটি আরও চমৎকার। নারী সৃষ্টি করতে পারে আর পুরুষ পারে না। মা হিসেবে নারীর সৃষ্টি করার ক্ষমতা আছে বলেই তিনি নারী। তিনি মমতাময়ী। তিনি মানবতার বন্ধু।

ক্যাম্পাসলাইভ: নারীর ক্ষমতায়ন বলতে আপনার অভিমত?

নিবেদিতা রায়: সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে নারীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অথচ নারীর করণীয় ঠিক করছে এক বা একধিক পুরুষ। নারীকে সম্পত্তির অর্ধেক দেওয়া তো বাদই দিলাম, তার অংশটুকুও দেওয়া হয় না। আমি বলব নারীর মর্যাদার লড়াইয়ে সব জায়গায় পুরুষ কেন খবরদারি করবে। তাকে তার মতো করে চলতে দেয়া দরকার।

ক্যাম্পাসলাইভ: একজন নারী হয়ে আপনার কেমন অনুভূতি?

নিবেদিতা রায়:  এক কথায় বলব আমি ভাগ্যবান। আমি নারী বলে আমি স্ত্রী। আমি নারী বলে একজন মা হতে পেরেছি। অামি জানি মা কি জিনিস। এর মর্যাদা এর মমত্ববোধ অনেক অনেক বেশী। তাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার হাত বাড়াতে হবে।

ক্যাম্পাসলাইভ: নারীকে যৌন-নিপিড়ন থেকে রক্ষার উপায় কি হতে পারে?

নিবেদিতা রায়: যারা যৌন নিপিড়নমূলক আচরণ করছে তাদেরকে কিন্তু অশিক্ষিত বলা যাবে না। বহু শিক্ষিত পরিবারের ছেলেরা এমন আচরণ করা থেকে বিরত নয়। এজন্য সব পরিবার থেকে আদর্শিক জায়গাটি পরিস্কার করতে হবে। বিভিন্ন পুস্তক থেকে নিয়ে নৈতিক শিক্ষার একটা বাস্তব সম্মত কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। আমাদের দেশে ইয়োগা বা মেডিটেশনের ব্যবস্থা যত সামান্য, তা বাড়াতে হবে। মানুষ আরও যত্মবান হতে হবে।

ক্যাম্পাসলাইভ: নারী-শিক্ষা কথাটি আলাদা বলার প্রয়োজনীয়তা আছে কি?

নিবেদিতা রায়: যত দিন নারীরা শিক্ষায় সমতা না আনতে পারছে, তত দিন বলাই যায়। তাদের মধ্যে আগ্রহের জায়গা  তৈরি না করা পর্যন্ত শব্দ ব্যবহার করাতে তেমন কোন সমস্যা দেখছি না। তবে নারীকে সচেতন করে তোলার দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে। এটা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। পরে সমাজ ও রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে।

ক্যাম্পাসলাইভ: আমাদের দেশে মামালা তৈরি হচ্ছে না কেন?

নিবেদিতা রায়: আমাদের দেশে শত শত মালালার মত সহসী নারী রয়েছে। যারা গ্রামে- গঞ্জে এখনও সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায়। আমাদের অবস্থা পাকিস্তানের অবস্থা এক নয়। আমরা ভাল আছি। ওরা ভাল নেই। তাই তাদের মালালার মত সাহসী নারীর প্রয়োজন রয়েছে। আমি বলছি না আমাদের মালালাদের মত নারীর প্রয়োজন নেই।

ক্যাম্পাসলাইভ: নারী জঙ্গিবাদ সর্ম্পকে কি বলবেন?

নিবেদিতা রায়: নারীরাও  জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকছে। এক্ষেত্রে তাদের শুধু শাস্তির আইন করলেই চলবে না। তাদের কাউন্সিলিংয়েরও ব্যবস্থা রাখা জরুরী। কারণ শাস্তি শেষে তারা আবার পূর্বের স্থানে ফিরে আসছে। ফলে জঙ্গিবাদ কথাটি বার বার উচ্চারিত হয়ে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে সামাজিক প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব রয়েছে।

ক্যাম্পাসলাইভ: বিশ্ব নারী দিবসে নারীদের প্রতি বার্তা কী?

নিবেদিতা রায়: নারীকে বলব মানুষ হয়ে বাঁচ, সাহসীকতার পরিচয় দাও। নিজেকে কখনও দুর্বল মনে করো না। অধিকার লড়াইয়ে তোমার পাশে কাউকে না পেলেও হতাশ হবে না। নিজেকে যদি বেশি হতাশ মনে হয় ‍তবে প্রাণ খুলে গাইতে পারো রবী ঠাকুরের লেখা গান- ‍‍ ‍‍“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে
তবে একলা চলরে”।

ক্যাম্পাসলাইভ: ম্যাডাম আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।

নিবেদিতা রায়: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ঢাকা//  ৯ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এফআর/এএইচবি