[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ঘুরে আসুন ‘বাংলার স্বর্গ’


প্রকাশিত: March 11, 2016 , 9:07 pm | বিভাগ: আদার্স,আপডেট,ট্যুরিজম এন্ড এনভায়রনমেন্ট


লাইভ প্রতিবেদক: বাংলার স্বর্গ রাঙামাটি। শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কাশ্মীরকে পৃথিবীর স্বর্গ বলা হয়। তেমনি বাংলার স্বর্গ রাঙামাটি।  ছবির মতো সবুজে ঘেরা পাহাড় আর কাপ্তাই লেকের বিশাল স্থির নীল পানি রাশি রাঙামাটিকে বাস্তবিকই বাংলার সৌন্দর্যের স্বর্গে পরিণত করেছে।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আধার চির সবুজ পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি। তাই পার্বত্য শহর রাঙামাটি পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয় একটি নাম। যে কোনো ছুটিতে স্বপরিবারে অথবা বন্ধুদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাবছেন? তাহলে রাঙামাটি ঘুরে আসতে পারেন।

এখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ। সীমানার ওপাড়ে নীল আকাশ মিতালী করে হ্রদের সাথে চুমু খায় পাহাড়ের বুকে। এখানে চলে পাহাড় নদী আর হ্রদের এক অপূর্ব মিলনমেলা।

চারিপাশ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোন পানি রঙের ছবি। কোন উপমাই যথেষ্ট নয়। রাঙ্গামাটির অপরূপ সৌন্দর্য্য যদি চিত্রায়িত হয় কবির ভাষায়,

`এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।’

এখানকার প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অদেখা এক ভূবন -যেখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নয়ানাভিরাম দৃশ্যপট।

এক নজরে বাংলার স্বর্গ রাঙামাটি
‘রাঙামাটি’ পাহাড়ঘেরা নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য নান্দণিকতায় পূর্ণ । এ জেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম, দক্ষিণে বান্দরবান, পূর্বে মিজোরাম, পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি।

আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ  জেলা। হ্রদ পরিবেষ্টিত পর্যটন এলাকা। দেশের এক মাত্র রিক্সাবিহীন শহর রাঙামাটিতে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খিয়াং, চাক্, পাংখোয়া, লুসাই, সুজেসাঁওতাল, রাখাইন, সর্বোপরি বাঙ্গালীসহ ১৪টি জনগোষ্ঠির বসবাস।

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পূর্ব নাম ছিল কার্পাস মহল। পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার আওতাভুক্ত হয়।

১৯৮১ সালে বান্দরবান এবং ১৯৮৩ সালে খাগড়াছড়ি পৃথক জেলা সৃষ্টির পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার মূল অংশই আজকের রাঙামাটি। ব্রিটিশ প্রবর্তিত রাজস্ব আদায় ব্যবস্থায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় রয়েছে চাকমা সার্কেল চিফ। চাকমা রাজাই ব্রিটিশ উপনিবেশিক নিয়ম অনুযায়ী চাকমা সার্কেলের চিফ।

বৃটিশ আমল থেকে পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যমান বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

পার্বত্য চুক্তির আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় নামে একটি পৃথক মন্ত্রণালয়, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলী সমন্বয় সাধনের জন্য রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন এর জন্য ১টি টাস্কফোর্স এবং পার্বত্য এলাকায় ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ভূমি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং হাট-বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য বাজার ফান্ড নামক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছে।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় জাতীয় সংসদের কেবল ১টি আসন রয়েছে। এ জেলায় উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় অধিবাসীগণ বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী।

উপজাতীদের অধিকাংশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং কিছু সংখ্যক হিন্দু এবং খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীও রয়েছে।

রাঙামাটিতে ভ্রমণ করার জন্য রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান।

এর মধ্যে কাপ্তাই লেক, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্ণা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তবে দেরি কেন। আজই ঘুরে আসুন অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলার স্বর্গ রাঙামাটি থেকে।

 

ঢাকা: ১১ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এফআর/এএইচবি