[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সবুজের লীলাভূমি নিঝুম দ্বীপ


প্রকাশিত: March 12, 2016 , 8:14 pm | বিভাগ: আদার্স,আপডেট,ট্যুরিজম এন্ড এনভায়রনমেন্ট


লাইভ প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরের কোলে উত্তর ও পশ্চিমে মেঘনার শাখা নদী, আর দক্ষিণ এবং পূর্বে সৈকত ও সমুদ্র বালুচরবেষ্টিত ছোট্ট সবুজ ভূখণ্ড নিঝুম দ্বীপ।

অগণিত শ্বাসমূলে ভরা কেওড়া বাগানের এক সবুজ এই দ্বীপ। দিনে দুবার জোয়ার-ভাটার এই দ্বীপের এক পাশ ঢেকে আছে সাদা বালুতে। আর অন্য পাশে খালিই সৈকত।

এখানে শীতকালে বসে হাজার পাখির মেলা, বন্য কুকুর আর সাপের অভয়ারণ্য এই বনের সবুজ ঘাস চিরে সারা দিন দৌঁড়ে বেড়ায় চিত্রা হরিণের দল।

নিঝুম দ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মাইলের পর মাইল জুড়ে কেওড়া বন আর সেই বনের পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চিত্রা হরিণ।

এখানে সমুদ্রের বুকে হেলে পড়ে অস্তগামী সূর্য, হাজার পাখির কলতান নিস্তব্দতায় ঘুম ভাঙ্গায়। মায়াবী হরিনের পদচারনায় মুখরিত হয় জনপদ। সারি সারি কেওড়া গাছের কোল ঘেঁষে বয়ে চলে নদী। চুপিসারে কাছে ডাকে। মায়াবী ইন্দ্রজালে বেঁধে ফেলে মনুষ্যপ্রজাতীকে।

সমুদ্র হতে সরু খাল সবুজের বুক চিরে চলে গেছে গহীন বনে। সে যে সবুজ আর নোনা জলের কি এক প্রেমকাব্য না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। যেন সবুজ গালিচা বিছিয়ে দেয়া হয়েছে সমুদ্রের তলানী পর্যন্ত।

স্বচ্ছ পানির নিচে সবুজ ঘাস আর মাছেরা খেলা করে আপন খেয়ালে। দেখলেই মন চাইবে ঝাপিয়ে পড়ে একটু পরাণ জুড়াই। এ এমনই এক মায়াবী প্রকৃতি যা শহুরে কর্মচঞ্চল মানুষক নতুন এক জীবন ফিরিয়ে দেয়।

নিঝুম দ্বীপ সত্যিই নিঝুম। একবারই অলাদা। সব কিছুর বাহিরে। এখানে নেই পর্যটনের চাকচিক্য। রঙ-বেরঙের  বাতির ঝলক কিংবা যান্ত্রিক কোন বাহনের বিকট শব্দ। এ যেন প্রকৃতির একটি আলাদা সত্ত্বা। যা আর কোথাও নেই।

কিভাবে যাবেন নিঝুম দ্বীপে? 

সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে এবং  বাসে নোয়াখলী হয়ে। বাসে করে গেলে প্রথমে ‘বিলাস’ বাসে যেতে হবে নোয়াখালির সোনাপুরে, সেখান থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে করে (৪০০-৪৫০টাকা) নামতে হবে চরজব্বার ঘাটে।

সেখান থেকে সি-ট্রাক ও ট্রলার ছারে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে, ট্রলার যাত্রীদেরকে নামাবে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে, সেখান থেকে বাসে (৪০ টাকা) বা বেবিটেক্সিতে (৪০০-৫০০) করে যেতে হবে জাহাজমারা বাজারে।

জাহাজমারা বাজার থেকে নিঝুমদীপ ঘাটে, সেখান থেকে ট্রলারে আধাঘন্টা লাগবে নিঝুমদীপের “উঁচার বাজারে” পৌছতে।

জাহাজমারা থেকে “মেঘভাষাণ” হয়েও যাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে ট্রলার নামাবে “নিচার বাজারে”, এক্ষেত্রে সময় লাগবে ১০ মিনিট…

লঞ্চে গেলে ঢাকার সদরঘাট থেকে যেতে হবে – ঢাকা থেকে হাতিয়ায় যাওয়ার জন্য মোট ২ টা লঞ্চ রয়েছে। একটার নাম “টিপু ৫” অন্যটা “পানামা”।

এদের মধ্যে প্রতিদিন ১টা করে লঞ্চ হাতিয়ার উদ্দেশ্যে সদরঘাট থেকে বিকেল সাড়ে ৫টায় ছেড়ে যায়। সেটি হাতিয়ার তজুমদ্দিন ঘাটে পৌঁছবে পরদিন সকাল সাড়ে ৯ টায়।

তজুমদ্দিন ঘাট থেকে বাসে (৩০ টাকা), বেবি টেক্সিতে (৩৫০ টাকা) বা মটর সাইকেলে (৬০০-৭০০ পার হেড) জাহাজমারা বাজার যেতে পারেন।
**এম.ভি টিপু-৫ এর টিকেট বুকিং নম্বর – ০১৭১১৩৪৮৮১৩। এম.ভি ফারহান-৩ এর টিকেট বুকিং নম্বর-০১৭৮৫৬৩০৩৬৬।
এম.ভি ফারহান-৪ এর টিকেট বুকিং নম্বর ০১৭৮৫৬৩০৩৬৯, ০১৭৮৫৬৩০৩৭০

বর্ষাকালে গেলে পুরা হাটু সমান কাদা পাবেন + পুরা দ্বীপের এমাথা ও মাথা আপনাকে হেঁটে পার হতে হবে, রাস্তায় কিছু চলতে পারবেনা, কাদাতে দেবে যাবে।

তবে মাছ খেতে পারবেন প্রচুর, ইলিশ তো হাতের এপিঠ ও পিঠ…শীত কালে গেলে রাস্তাঘাট সব ভালো পাবেন, খালের মধ্যে পানি কম পাবেন, ফলে বনের মধ্যে যেকোনো জায়গায় যেতে পারবেন, বিকেলে হরিণের পাল দেখতে পারবেন। সি-বিচ টা অনেক শুকনো পাবেন। সাগর নীল পাবেন — সমস্যা একটাই তখন খাবারের দাম অনেক বেড়ে যাবে। শরতকাল ও বসন্তকাল এ দ্বীপে ভ্রমণের উত্তম সময়।

দর্শনীয় জায়গা বলতে নিঝুম দ্বীপের আশে পাশে কয়েকটা দ্বীপ আছে। একটার নাম কমলার দ্বীপ।

সেখানের কমলার খালে অনেক ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও আশপাশের দ্বীপগুলো অনেক সুন্দর। পুরো দ্বীপটা হেঁটে হেঁটে ঘুরে আসলে আপনার যে মন না ভরে পারবে না তা হলফ করে বলে দেয়া যায়।

 

ঢাকা, ১২ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর/এএইচবি