[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন’-এ আতিউর রহমান


প্রকাশিত: March 15, 2016 , 4:46 pm | বিভাগ: আপডেট,ন্যাশনাল


লাইভ প্রতিবেদক: প্যাভিলিয়নে ফিরে যাচ্ছেন আতিউর রহমান। মন্দ নয়। স্বজাতি ভাইদের টানেই হয়তো তিনি তার পুরনো পেশায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

বলেছেন, কী আর করা। আমি আমার প্যাভিলিয়নেই ফিরে যেতে চাই। শিক্ষকতা করেই কাটাতে চাই জীবনের বাকি সময়। এভাবেই  সাংবাদিকদের কাছে তার বিদায়ী মুহূর্তের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন তিনি।

কান্না বিজড়িত কন্ঠে তিনি বললেন, আমি আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টা বাংলাদেশে ব্যাংকে দিলেও ফসল ঘরে উঠাতে পারিনি। আইলার মতো ঝড় আমার জীবনের সুনাম আর সুখ্যাতি কেড়ে নিয়েছে। অপমান ও নানান কটুকথা নিয়েই আজ বিদায় নিতে হচ্ছে।

এভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব ছেড়ে শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার কথা জানালেন ড.আতিউর রহমান।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় গুলশানে গভর্নর হাউসে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান।

ড.আতিউর রহমান জানান, একজন ভূমিপুত্রের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হতে পারার মতো ঘটনার জন্য তিনি বাংলাদেশের জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবারো শিক্ষকতা এবং গবেষণায় ফিরে যাবেন।

তিনি বলেন, কেউ আমাকে যখন জিজ্ঞেস করেন, আপনার কোন পরিচয় সবচেয়ে বড় মনে করেন। আমি নির্দ্বিধায় বলি শিক্ষকতা। আবার সেই সুযোগ এসেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ হবে।

উপস্থিত সংবাদকর্মীদের অনেকেই তার শিক্ষার্থী ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, তোমরা অনেকেই আমার শিক্ষার্থী ছিলে। আবার হয়তো তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে, কথা হবে।

১৯৫১ সালে জামালপুরের ছোট্ট একটি গ্রামে জন্ম আতিউর রহমানের। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা। এরপর ময়মনসিংহ ক্যাডেট কলেজে। ছোটবেলা থেকে প্রচণ্ড মেধাবী আতিউর অর্থাভাবে ক্যাডেট কলেজে পড়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পরে। গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় সেদিন তিনি ১৫০ টাকা করে নিয়ে কলেজের খরচ তুলেছিলেন।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেছেন। পরবর্তীতে পিএইচডি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে।

কর্মজীবন শুরু করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে প্ল্যানিং অফিসার হিসেবে এছাড়া দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বা বিআইডিএস এর রিসার্চ ফেলো ছিলেন প্রায় ২৭ বছর।

এরপর দায়িত্ব নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে। গভর্নর হওয়ার আগে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের পরিচালক ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্ব পালন ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।

প্রকৃতিপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা এই অর্থনীতিবিদ দরিদ্র জনগোষ্ঠির অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি নিয়েও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্রঋণ বিপ্লব নিয়ে বহু গবেষণামূলক লেখাও রয়েছে তার। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৪৫টি।

ঢাকা //১৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএইচবি