[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



স্বার্থপরও ভাববেন অন্যের কথা!


প্রকাশিত: March 17, 2016 , 9:47 pm | বিভাগ: অসাম নিউজ,আপডেট


লাইভ প্রতিবেদক: আপনার খুব কাছের মানুষটি কি শুধু নিজের কথাই ভাবে? তাকে কি আপনার খুব স্বার্থপর বলে মনে হয়? এ নিয়ে আপনি কি খুব বিরক্ত? আর আপনার মনটা কি চাচ্ছে, যদি তাকে নিজের মতো করে তৈরি করা যেতো?

কোনো চিন্তা নেই। আপনি যেমনটি চাইছেন, এবার ঠিক তেমনভাবেই বদলে নিতে পারবেন আপনার কাছের সেই মানুষটিকে!

খুব দান-ধ্যান করেন বলে পাড়ায় আপনার যে প্রতিবেশির দারুণ সুখ্যাতি, আপনি চান তাকেও সকলে বলুক, “কী স্বার্থপর লোক রে বাবা”?

চাইলে, সেটাও পারবেন এবার!

স্বার্থপরও ভাববেন অন্যের কথা?
এমনটাই জানাচ্ছে নিউরো-সায়েন্সের সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল।
এও জানাচ্ছে, আমরা যেসব কাজ করি, তার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যগুলোকে (মোটিভ) নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমাদের মস্তিষ্কে আলাদা আলাদা এলাকা বা ‘রিজিওন’ রয়েছে। আর কৃত্রিমভাবে সেই এলাকাগুলোর ওপর আমরা খবরদারি করতে পারি। চাইলে, সেই এলাকাগুলো দিয়ে আমাদের ইচ্ছেমতো কাজ করিয়ে নিতে পারি।

যার মানেটা হলো, কেউই জীবনভর ‘স্বার্থপর’ বা ‘নিঃস্বার্থ পরোপকারী’ হয়ে থাকতে পারেন না। যাকে সবাই স্বার্থপর বলে জানেন, তিনিও কোনো কোনো সময় হয়ে উঠতে পারেন নিঃস্বার্থ পরোপকারী! আর যার পরোপকারের কথা মানুষের মুখে মুখে ঘোরে, তিনিও কখনও কখনও হয়ে পড়েন দারুণ স্বার্থপর!

জানেন কি, আমার-আপনার এই আচার-আচরণ, স্বভাব-টভাবগুলোকে, চাইলে কৃত্রিমভাবে পুরোপুরি বদলে ফেলা যায়? যাতে একজন চরম ‘স্বার্থপর’ মানুষও অন্যের জন্য হয়ে ওঠেন দারুণ সংবেদনশীল? উল্টোটাও সম্ভব!

‘দ্য ব্রেনস’ ফাংশনাল নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচার রিভিলস্ হিউম্যান মোটিভস্’ শীর্ষক ওই গবেষণাপত্রটি ছাপা হয়েছে বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায়।

গবেষক দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো-সায়েন্টিস্ট ও মনস্তত্ত্ববিদ গ্রিট হেন, আর্নেস্ট ফের ও ইওসুকে মোরিশিমা।

গবেষণাটির অভিনবত্ব কোথায়?
সহযোগী গবেষক নেদারল্যান্ডসের রাবাউন্ড ইউনিভার্সিটি নিমেজেনের নিউরো-সায়েন্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ঊর্মিমালা মিশ্র জানাচ্ছেন, দিনভর, মাসভর, বছরভর আর জীবনভর আমরা যেসব কাজকর্ম করে থাকি, সেসবের ‘মোটিভ’গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের কোন কোন এলাকা, আর তা কীভাবে করে, তা জানা গেল এই প্রথম।

প্রফেসর ঊর্মিমালা মিশ্র জানান, মাথায় রাখবেন, আমরা বেশিরভাগ কাজকর্মই করি আমাদের অজান্তে। আমরা নিজেরাই জানি না, বুঝি না কাজটা কেনো করছি বা কেনো করব বলে ঠিক করেছি। শিশুরা এটা বেশি করে। বয়স বাড়লে সেই প্রবণতা কিছুটা কমে। আবার বৃদ্ধাবস্থায় সেই প্রবণতা বেড়ে যায়। ‘ডায়নামিক কজাল মডেলিং’ (ডিসিএম) পদ্ধতিতে আমরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন এলাকার কাজকর্মের আলাদা আলাদা ধরন দেখতে পেয়েছি।

প্রফেসর ঊর্মিমালা মিশ্র আরো জানান, আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মের পিছনে যে ‘মোটিভ’গুলো থাকে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করার এলাকাগুলোকে খুঁজে বের করতে পেরেছি। তাতে দেখেছি, আমাদের ‘স্বার্থপরতা’ বা ‘নিঃস্বার্থ পরোপকারের মতো প্রবণতাগুলো আসলে একেবারেই আপেক্ষিক। কেউ যেমন জীবনভর স্বার্থপর থাকেন না, তেমনই কেউ সারাটা জীবন নিঃস্বার্থে পরোপকার করেন না। তারা সময় সময় বদলে যান, নিজেরই অজান্তে সেই পরিবর্তনটা আরো দ্রুত করে তোলা যায়। সেই পরিবর্তনটাকে আরো ঘন ঘন করানো যায়।

তাই কেউ আপনাকে ‘চরম স্বার্থপর’ বললে এবার প্রতিবাদ করুন! আর আমার-আপনার চারপাশে যে ‘নিঃস্বার্থ’ মানুষটার গুণগান গাওয়া হচ্ছে, তা পুরোপুরি ঠিক হচ্ছে কি না, এবার ভেবে দেখুন!

 

ঢাকা, ১৭ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএইচ