[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



জাসদ ফিরেছে, মুজিব ফেরেনি


প্রকাশিত: March 23, 2016 , 9:31 pm | বিভাগ: আপডেট,আর্টস এন্ড লিটারেচার


salem suleri

সালেম সুলেরী

জাসদ যখন জঙ্গি ছিলো, সঙ্গী ছিলো হে কে?
অস্ত্র এবং আগুন নিয়েই দ্বিগুণ সে লড়েছে।
শেখ মুজিবের শিশু সরকার, রাজনীতিকেও ঘৃণা-
জাসদ-তো ছিলো নিয়ম ভাঙার ব্যর্থ অগ্নিবীণা।
সশস্ত্র সেই কর্মসূচিতে বিজ্ঞানতার ছুঁতো,
সমাজতন্ত্র কায়েমের নামে ট্রটস্কি’দের ভূতও…
আসে লাল বই, গোপন অস্ত্র, বায়বীয় সব তন্ত্র,
শ্রেণী শত্রুকে খতম করো হে, কীসের এ গণতন্ত্র!
খতম করেছে আওয়ামী নেতাকে, জনপ্রতিনিধি, সবাই
‘দিনে দুপুরেই নাস্তা’য় নিতে রক্ষী বাহিনী জবাই।
ঘুম হারানোর শিশু সরকার, তারাও ফেলেছে লাশ
মন্ত্রির বাসা ঘেরাও হতেই- রক্ত মেখেছে ঘাস।
জাসদ মানে-তো ‘জাতীয় সমাজ-তান্ত্রিক’ দল, জানা,
অধুনা মেধার তরুণ-তুর্কী দলটির মাটি-দানা।

বাহাত্তরের অক্টোবরের- জন্ম থেকেই জ্বলছে
চুয়াত্তরেও শেখ মুজিবের গণতন্ত্রও টলছে…
বল্তো জাসদ, ‘এই সংসদ সব শুয়োরের খামার,
সময় এখন শেখ মুজিবের- গদি-পদ থেকে নামার’।
গণকণ্ঠ-ও তাদের কাগজ, বিপ্লবী এক দৈনিক,
জরুরী আইনে বন্ধ হয়েছে, গ্রেফতার সব সৈনিক।
সম্পাদকের কারাগার দিন, আল মাহমুদ জেলে-
মহা মুজিবরও খেল দেখালেন- আওয়ামী লীগকে ফেলে-
দিলেন নতুন দলের দিশা যা- বাকশাল তার নাম,
ভেবে বসলেন, এই উদ্যোগে ঘুচাবেন বদনাম।
জাসদ তখন নিষিদ্ধ আর, বাকশালে মহা ডাক-
অসংখ্য সব দল ও মানুষ- জমে ওঠে মৌচাক।
সব সামরিক প্রধান তখন- বাকশালে গিয়ে যোগ,
চাকরিও আছে, রাজনীতিতেও- দারুণ সে উপভোগ।

পঁচাত্তরের জানুয়ারি মাস, এক-দলীয়’র শাসন,
চারখানা শুধু দৈনিক তাও সরকারেরই ভাষণ-
সম্পাদক ও নিয়ন্ত্রকও ১৬ আনা পুরো দখল,
জাসদ তখন ভূতলবাসী-গো, ধকল ধকল ধকল!
প্রকাশ্যে কম, অন্ধকারের রাজনীতি-ছলে দীপ্ত,
মহান-মুজিব নিজেও আঁধারে, নিজের মানুষও ক্ষিপ্ত।
নিজের দলের মিয়া-মোশতাক ঘোঁট পাকালেন, ঘৃণ্য,
গণবাহিনীর রণচেতনায় পরিস্থিতি যে ভিন্ন।
সামরিকে থাকা মুক্তিযোদ্ধা, মাঝারি পদের ক’জন,
পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট, নির্মম হলো স্বজন।

নিয়তিকে তারা হাতে নিয়েছিলো, সাথে নিয়ে গেলো প্রাণ,
বাংলাদেশের স্থপতির কী করুণ অবসান।
এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়- এমন প্রশ্ন মুখে
জাসদের এক কর্ণেল নেতা, ধূমায়িত উৎসুকে…
বললেন সে কি- সুগভীর কথা, বাংলাতে নয় দাফন,
সমুদ্রে তার লাশ ফেলে দাও, উঠবেনা স্মৃতি-কাঁপন।
কিন্তু সে লাশ, টুঙ্গিপাড়ায়, শায়িত হয়েছে শেষে,
সমাধি গড়েছে, বিশাল সমাধি বাঙালিরা ভালোবেসে।

মহান মুজিব, স্বজনের লাশে রক্ত তখনও তাজা,
আওয়ামী লীগ-ই সরকার গড়ে! মোশতাক সেনা-রাজা।
আধা সামরিক সরকার তার, নিষিদ্ধ বাকশাল,
সংসদ ডেকে ক্ষমতা যাপন- আওয়ামী লীগ-যে ঢাল…
ইমডেননিটি ধারা বসালেন, হত্যা-বিচার রোধ,
মুজিব-কন্যা বহুদিন পরে সঁপে দিলো প্রতিশোধ।

জাসদ চেয়েছে ক্ষমতার স্বাদ, পায়নি পঁচাত্তরে
নভেম্বরের সাত তারিখেও ক্ষমতা আসেনি ঘরে।
সিপাহী জনতা জিয়াকে দিয়েছে, জাসদ কি পেলো হায়!
শহীদ মিনারে বিপ্লবী সেই সরকার বৃথা যায়…
জিয়া’দের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ফলাতে পারে নি চাল,
গণবাহিনীর নায়কেরা তাই ফুলিয়েছে লাল গাল।

নভেম্বরের একুশ তারিখে, জিয়াকে হত্যা, ক্যু
ব্যর্থ করেছে সিপাহীরা সেটি, হলো আদালত স্যু।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এগুলো সাত মাস শেষে রায়,
একজন ফাঁসি, বাকিজনে জেল, সায়েমে’র জমানায়।
ফাঁসিজন যিনি, তিনি সামরিক, মুক্তিযোদ্ধা বটে,
মহা-মুজিবের সঙ্গেও তার পূর্বে বিরোধ ঘটে।

সেনা বাহিনীকে গণরূপ দিতে দিয়েছিলো প্রস্তাব,
বাহাত্তরের সেই কর্ণেল মুজিবকে দিলো চাপ-
প্রধানমন্ত্রী মুজিব বলেন, উর্ধতনের বিষয়,
পঙ্গু হলেও চাকরিতে আছো! গরিবের পেটে ঘি-সয়!
শোনো কর্ণেল, চাকরিটা রাখো, উচ্চ চিন্তা থাক।
শোনেনি সে সেনা, ইস্তফা দিয়ে বদল করেছে বাঁক।
গণবাহিনীর কঠিন কাঠামো, বিপ্লবে নিলো ঠাই
জাসদের সাথে সশস্ত্রকাল, প্রশান্তি হলো ছাই।

মশালে মিছিলে মহা জাগরণ আগুনের সন্ত্রাস,
সেই কর্ণেল সায়েম-জিয়ার শাসনে পেয়েছে ফাঁস।
ফাঁসিতে যাবার পূর্বে পেয়েছে প্রাণ ভিক্ষার সুযোগ,
ফিরিয়ে দিয়েছে ক্ষমাপর্বটি, বলেছে এটিতো ‘কু-যোগ’-
জীবনের সাথে কালো ইতিহাস বীরোত্তমের পতন,
বরং ফাঁসিতে ত্যাগের মহিমা, মৃত্যুকে দেবো যতন।
তাহের নামের সেই কর্ণেল, জাসদ নদীর মাঝি,
বিপ্লবী পাল, হাল ছেড়ে দিয়ে গোটালেন মোহ-বাজী।

তার আগে ঐ জাসদ নদীতে পড়েছে কালের চর,
অথচ অতীত, প্রথম পতাকা উত্তোলনের বর-
স্বাধীনতা পেতে ইশতেহারের ইতিহাস পাঠকারী,
ডাকসু চাকসু মানুষ গড়ার আঙিনায় মাঠ ভারি…
দেশি সম্পদ পাচারের কালে প্রতিবাদ, প্রতিরোধে
ভুঁয়া-ভোট মুখে জন-জাগরণ, প্রহসন প্রতিশোধে
মুক্তিযুদ্ধে মহান ভূমিকা, লাথি পরাধীন তালায়,
স্বৈরাচারের ক্ষমতা দখলে মামলার কালো মালায়
ফুঁসেছে জাসদ, লড়েছে তুমুল। এখন লড়ছে নিজেরা,
প্রতিপক্ষও উসুল করছে! যুদ্ধ মাঠের বীজেরা!
মুজিব-কন্যা খেলেছেন ক্ষমা, জমা নিয়েছেন সুদাসল,
ক্ষমতার কিছু খুদ-কুড়ো পেয়ে ভাবছে জাসদ: খুদ-আসল।

মুজিব মরেছে, জাসদ মরেনি, মরেনি আওয়ামী লীগ
বাকশাল থেকে রাজনীতি পেলো বহুদল, খোলা দিক।
রাজনীতিটা-তে শেষ কথা নেই, নীতিতে বদল ঢেউ,
আওয়ামী লীগের কোলে-পিঠে ঠাঁই! জাসদের কেউ কেউ!
কিছুটা জাসদ সরকারে আর কিছুটা বাইরে, সচল,
অধিক জাসদ নিভৃত আজ, চলমানে যেন অচল।

জঙ্গিবিহীন জীবনভঙ্গি, সমাজতন্ত্র বিদায়,
নতুন পোশাকে প্রাচীন পাপেরা ছড়াবেই শুধু কি দায়?
অনেক নেতাই নানা দলে নীত, নানাভাবে বিভাজন,
স্বাধীন বাংলা, নিউক্লিয়াসের তার ছেঁড়া বন্ধন।
আগামীর পথে হাঁটছে জাসদ, কণ্ঠে মুজিব-ভক্তি!
জাসদ কি আর ফিরে পাবে তার পুরনো অসুর শক্তি?
চতুর্দশীর চতুর যে জোট, ক্ষমতা বাগান সাজায়,
মুজিবের শেষ দর্শন কাঁদে। রশি বেঁধে দিলো মাজায়।
কোথা বাকশাল, জেলা সরকার গ্রাম-মানুষের মুক্তি,
মুজিব-চিন্তা, সব শেষ সেবা- হারালো কি তার যুক্তি?

জাসদ ফিরেছে মুজিবের ঘরে, আওয়ামী ঘরানা দ্বিধায়,
মনে বললেও মুখে বলছে না- হে শত্রুরা, বিদায়!
জাসদ ভেঙেছে বাসদ হয়েছে, তবু টিকে আছে দল,
টিম টিম করে জ্বলছে মশাল, স্মৃতি-বাঘ কোলাহল।

 

ঢাকা, ২৩ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএইচ