[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাজনীতিতে সহ-অবস্থান চাই: পপি


প্রকাশিত: March 24, 2016 , 11:00 pm | বিভাগ: আপডেট,ইন্টারভিউ,মত


মারুফা আক্তার পপি। দুরন্ত। সদালাপী। কৌতুকপ্রেমী ও বাগ্মী। একই সঙ্গে কবিতার প্রতি রয়েছে তার দুর্বলতা। নেতৃত্ব সম্পন্ন ও সাহসী বটে। বঙ্গবন্ধুর একখানা ছবি দেখেই তিনি ছোটবেলায় তাকে ভালবেসে ফেলেছিলেন। সেই ছোট বেলা চির চেনা ছবিটিকে ধারণ করে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে তিনি জড়িয়ে পড়েন।

ছোটবেলার দুষ্টমী ও দুরন্ত-দুর্বার আচরণ আজো তাকে কখনো হাসায় কখনওবা কাঁদায়। হাঁটি হাঁটি পা-পা করে ছাত্র রাজনীতির সবক নেন। স্কুলের গণ্ডিপেরিয়ে কলেজে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তৎপর হয়ে উঠেন। আর পেছনে তাকাতে হয়নি। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমেটিতে স্থান করে নেন। ইনিই সেই মারুফা আক্তার পপি। তুখোড় সাবেক ছাত্রনেত্রী ক্যাম্পাসলাইভ এর সঙ্গে বর্তমান ছাত্র রাজনীতিসহ খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম এর লাইভ প্রতিবেদক ফিরোজ আল হুসাইন

মারুফা আক্তার অকপটে বললেন, মানুষের অন্তর জয় করে কাজ করতে হবে। শক্তি দিয়ে কারোর আদর্শগত পরিবর্তন আনা অসম্ভব। আদর্শ দিয়েই মানুষের মনজগতকে আয়ত্বে আনা যায়। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণিতে পড়াতেন। হরতালের সমর্থনে প্রতিবেশি বৃদ্ধ চাচাকে আঘাত, তাকে এখনো কাঁদায়।

পাঁচ ভাইয়ের একমাত্র বোন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ সম্পাদক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক সময়ের সহযাত্রী। বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রলীগের একমাত্র অ্যাকটিং প্রেসিডেন্ট ছিলেন যিনি, তিনিই সবার প্রিয় মারুফা আক্তার পপি।

তিনি জন্ম জামালপুল সদরের বাড়ীঘাগুরিয়া গ্রামে। সাধারণ কৃষক পরিবারে সন্তান হিসেবে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেন। প্রাথমিক শিক্ষার পাঠচুকিয়েছেন পিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। শাহিদা খানম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়ন অবস্থায় যোগ দিতেন রাজনৈতিক নানা কর্মকান্ডে। স্কুলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে থেকেছেন বহুবছর।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৬ এসএসসি পাশ করেন। নান্দিনা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৮৮ সালে ছাত্রনেত্রী হিসেবে সবার নজর কাড়েন। রাজনীতির স্বপ্ন যে বড় ভাইয়েরা দেখিয়েছিলেন তাদেরকে তিনি এখনো স্মরণ করেন বিনম্র শ্রদ্ধায়। বিশেষ করে সুলতান মো. মুনছুর আহমেদকে তিনি গুরু হিসেবে আখ্যা দিলেন। যারা তাকে নিজের বোনের মত সাথে রেখে রাজনীতি শিখিয়েছেন তাদেরকেও তার আদর্শ হিসেবে মনে করেন।

ঢাকা বিশ্বদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাসে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সে সময় ১৯৯২ সালে তিনি রোকেয়া হলের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে মহিলা লীগের প্রেসিডেন্ট আক্তারসহ পরিচয় হন অনেক খ্যাতিমান নেতার সঙ্গে। মাঝে মধ্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে রাজনীতির নানা কৌশল আয়ত্ব করেছেন। এক সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন এই নেত্রী।

ক্যাম্পাসলাইভ: রাজনীতিতে আপনার পদার্পন কীভাবে?

মারুফা আক্তার পপি: আমি তখন ৫ বছরের ছোট বাচ্চা। আমাদের বাড়িতে বঙ্গবদ্ধু একটি ছবি দেখে আমি মনে মনে উনার আদর্শের প্রতি প্রথম কল্পনা করতে থাকি। তখন এতো কিছু বুঝতাম না। তবে উনার আদর্শ আমাকে সব সময় টানে। ধীরে ধীরে রাজনীতির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি। তা ছাড়া মা-বাবার কাছ থেকেও বঙ্গবন্ধুর গলপ শুনে তার প্রতি একটা নিরব ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনাদের সময় আর বর্তমান ছাত্র রাজনীতির মধ্যে পাথর্ক্য কোথায়?

মারুফা আক্তার পপি: হ্যাঁ, আমাদের সময়ের রাজনীতি এখনকার মত হিংসাত্বক ছিল না। কিছু জায়গায় পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে সহাবস্থান থাকতে হবে। কথায় আছে না! ‘তুমি ‍অধম বলিয়া আমি উত্তম হইবো না কেন’। মানুষের অন্তর জয় করে কাজ করতে হবে। শক্তি দিয়ে কারোর আদর্শগত পরিবর্তন আনা অসম্ভব। আমি বলব বিএনপি সে পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে সেই ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পরে। তারা হল থেকে নেতাকর্মীদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে সহিংসতার পথ দেখিয়েছে।

বলতে হয় বিএনপি যে রাজনীতির পথ বাতলে দিয়েছে তা সুস্থ্য রাজনীতি বলা যায় না। তারা একধরণের ‘হইব্রিড রাজনীতি’ শুরু করেছে। আমাদের সময়ের রাজনীতি অনেক বেশি সুশৃংখল ছিল। এখন তেমনটা কল্পনা করা রীতি মত অন্যায়। এখন যেমন রাজনীতিতে টাকা-পয়সা জড়িত, আমাদের সময় এমনটা ছিল না। আমি বলছি না টাকা-পয়সার প্রয়োজন নেই। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে জনগণকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিৎ।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনি ’গুণগত নেতৃত্বের’ কথা বলেন। গুণগত নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায়?

মারুফা আক্তার পপি: গুণগত নেতৃত্ব বলতে বিশেষ বস্তুকে নিদের্শ করে না। বরং নেতৃত্ব তৈরি করার একটি মুক্ত স্পেস দরকার। যেখান থেকে তরুণ নেতৃত্ব তৈরি হবে। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ছাত্রসংসদ তুলে দেয়া হয়েছে। তরুণ ছাত্রনেতা তৈরি হবে কি করে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এ পথকে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

ক্যাম্পাসলাইভ: বঙ্গবন্ধুর আদলে বিকল্প নেতা কেন তৈরি হচ্ছে না?

মারুফা আক্তার পপি: আসল কথা হলো সব কিছুর জন্য কিন্তু একটি সুন্দর পরিবেশ প্রয়োজন। আগে সে পরিবেশ ছিল বলেই বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা তৈরি হতে পেরেছে।

বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা তৈরি হচ্ছে না কথাটা কিন্তু ঠিক নয়। আমি বলব আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা তারই উত্তরসূরী একজন যোগ্য নেত্রী। তিনি যেভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। বঙ্গবন্ধু যদি আজ জীবিত থাকতেন উনার সেই বয়স হয়তো উনাকে চলার শক্তি জুগাতো না, তবে তিনি বসে বসে তার সুযোগ্য কন্যার দেশ পরিচালনা দেখে মিটি-মিটি হাসতেন। আমি বলব শিক্ষক তখন বেশি খুশি হন, যখন ছাত্র মাঝে মাঝে তাকে ছাড়িয়ে যান।

ক্যাম্পাসলাইভ: ৪৬ বছরের জীবনে আপনার কোনো আক্ষেপ আছে কি?

মারুফা আক্তার পপি: আমি একেবারে সাধারণ পরিবারের সন্তান হিসেবে অতি ভাগ্যবান। আমি জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি। আমার আফসোস করার জায়গাটি খুঁজে পাইনি। আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে তুলনা করলে আমিই বেশি পেয়েছি। আমি নেত্রীর খুব কাছে থেকেছি। নেত্রীর সাথে একসাথে খেয়েছি। কোনো একদেশের বিমানবন্দরে নেত্রীকে আমার ব্যাগ এগিয়ে দিতে দেখে সবাই রীতি মতো তার স্বভাব সুলভ আচরণে অবাকও হয়েছেন। এমন সুযোগ পেলেও আপনি বলবেন, আমার আফসোস থাকতে পারে?

ক্যাম্পাসলাইভ: ‘প্রোগ্রেসিভ ফোরাম’ নিয়ে কী ভাবছেন?

মারুফা আক্তার পপি: ‘প্রোগ্রেসিভ ফোরাম’ মূলত গঠিত হয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই। অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদের ঢাকায় পরিচিত কেউ নেই, তাদেরকে যদি একটু সাপোর্ট দেয়া যায়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যে শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে অনেকে সেটা জানেই না। আমরা রাজনীতির ছত্রছাঁয়ায় সামাজিক দায়বদ্ধতার শূণ্যস্থান পূরণ করার জন্য ‘প্রোগ্রেসিভ ফোরাম’ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এটাকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই এর বেশি কিছু না।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনার দল নিয়ে কী ভাবছেন?

মারুফা আক্তার পপি: আমরা দলের সাথে আছি, ছিলাম, থাকবো। আমি কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দল যখন যা চাইবে আমি চেষ্টা করবো তা পূরণ করবার। আমরা শেখ হাসিনার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে দলকে এগিয়ে নিতে চাই। বাংলাদেশে এখন দুটি শক্তি কাজ করছে। একটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। অন্যটি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। আমরা নেত্রীকে সামনে রেখে দল সাজাতে চাই।

ক্যাম্পাসলাইভ: ছাত্রনেতা/নেত্রীদের উদ্দেশে কিছু বলবেন?

মারুফা আক্তার পপি: আমি প্রধানমন্ত্রীর একটি উক্তিকে সামনে রেখে বলতে চাই‘ যিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আমাদের সবার উচিৎ তার আদর্শকে মেনে চলে তার সম্মান রক্ষা করা। সব ছাত্রনেতাদেরকে বলব পড়া-শুনা কর। মানবিক হও। মানুষের সুখ-দুঃখে নিজেকে কাছাকাছি রাখ। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিক নেতৃত্ব দিতে শিক্ষা নাও।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

মারুফা আক্তার পপি: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

ঢাকা, ২৪ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএইচ