[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ছাত্রলীগ পজেটিভ ধারায় রাজনীতি করে: ডা. চয়ন


প্রকাশিত: March 30, 2016 , 11:01 pm | বিভাগ: আপডেট,ইন্টারভিউ,মত


ডা. মো. তোফাজ্জল হক চয়ন। হালে আলোচিত। ছাত্রলীগে সুপরিচিত নাম। সংগঠনে বন্ধুবৎসল। একই সঙ্গে তিনি কর্মীবান্ধবও বটে। নেতৃত্বের ব্যাপারে লক্ষ্য ছিল অটুট। বিশ্বাস ছিল হৃদয়ে। শৈশব ও কৈশোরেই তিনি বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনতে পছন্দ করতেন।

তার রাজনীতির গল্প মনের গহীনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। বাবার কাছে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুনে নিজের মধ্যেও জায়গা করে নেন জনসেবার। তার লালিত স্বপ্ন আজ সত্য হলো। তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। ক্যাডেট কলেজের বৈচিত্র্যময় জীবনেও তার হৃদয়ের বড় একটি জায়গা জুড়ে ছিল এ দেশ আর রাজনীতি। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু। ক্যাডেটে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার পর ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে।

তখন গণতন্ত্র ছিল অবরুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু কন্যা বিশেষ কারাগারে। অন্যসব সহপাঠীদের মতো ক্লাস আর বাসায় মন ছিলো না ডা. তোফাজ্জেল হক চয়নের। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করেছেন সামনের সারিতে থেকে। এ কলেজের প্রচার ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটির ছিলেন উপ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পাদক।

সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলনের সময়ে ছিলেন সামনের সারিতে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনেও স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করেছিলেন। এরপর বিএনপি-জামায়াতের সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন ডা. মো. তোফাজ্জল হক চয়ন।

মধুর ক্যান্টিন বা ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সার্বক্ষণিক থাকেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সঙ্গে। সদ্য ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন মাগুরা জেলার এই কৃতি সন্তান। দীর্ঘ সময় পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ছাত্রলীগে শীর্ষ পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছেন এ ছাত্রনেতা।

মানবসেবায় বিশ্বাসী এ নেতা সম্প্রতি কথা বলেছেন ক্যাম্পাস লাইভের সঙ্গে। একান্ত আলাপচারিতায় ব্যক্ত করেছেন ছাত্ররাজনীতি নিয়ে তার প্রত্যাশা ও চিন্তা-ভাবনা। বলেছেন নানান পটভূমির কথা। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন আমাদের লাইভ প্রতিবেদক তামিম চৌধুরী

ক্যাম্পাসলাইভ: কীভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি?

মো. তোফাজ্জল হক চয়ন: এমন প্রশ্নের জবাবে এই ছাত্রনেতা ক্যম্পাসলাইভকে জানান, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে ছাত্ররাজনীতির সুযোগ না থাকলেও পারিবারিক ভাবেই বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আবহে বেড়ে উঠেছেন তিনি। বাবা ছিলেন মাগুরা জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। ছাত্রাবস্থায় বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

সেই ছোট বেলায় বঙ্গবন্ধুর গল্প মনের গহীনে জায়গা পেয়েছে। বাবার কাছে বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনে ও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে এবং চাচার পরামর্শে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পদার্পন করি। ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক এই পথচারী রাজনীতিতে তার আসার কারণ জানিয়ে আরো বলেন, পড়াশোনার চাপ থাকা সত্ত্বেও রাজনীতির আঙিনা আমাকে মুগ্ধ করতো।

পড়াশোনা ও রাজনীতি এই দুই স্থান থেকেই দেশের জন্য কিছু করার আগ্রহই হয়তো আমাকে আমার স্বপ্নের পথে নিয়ে এসেছে। আশা করি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে ছাত্রলীগের পাশে থাকতে পারবো।

নিজের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে সকল দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলাম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিরোধী দলের নির্যাতন সহ্য করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি।

গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সংগঠনের জন্য অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সাইফুর রহমান সোহাগ ও জাকির হোসাইনের হাতে হাত রেখে তাদের নেতৃত্বে একইভাবে কাজ করে যাবো। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে ১/১১ পরবর্তী সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি।

একদিকে কলেজ প্রশাসন থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের বিএনপি-জামায়াতের দোসরদের চোখ রাঙানি, বিভিন্ন ধরনের হুমকি, অন্যদিকে প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতন। তারপরও সকল বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন পরে প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করি। তখন থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনীতিই আমার একমাত্র নেশা। আজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি আদর্শ ইউনিট।

ক্যাম্পাসলাইভ: ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ, এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

মো. তোফাজ্জল হক চয়ন: ছাত্রলীগ সচ্ছতায় বিশ্বাস করে। তারা সাদাকে সাদাই বলে। বর্তমান নেতৃত্ব কোন গোজামিল পছন্দ করেনা। কেউ অন্যায় করলে তার কোনো ছাড় নেই। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। কারো অন্যায় করলে ছাড় দেয়া হয় না। অন্যায় করার পর তা প্রমানিত হলে যথাযথ শাস্তিরও ব্যবস্থা নেয়া হয়। আমরা এসব বিষয়ে তদবীর করি না।

তিনি বলেন, বর্তমান কমিটি গঠনের পর অনেক ইউনিটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কোথাও কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হয়। আপনারা জানেন, আমাদের বিভিন্ন ইউনিটের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব সম্ভব হয়েছে ছাত্রলীগের উদার মানসিকতার কারণে।

ক্যাম্পাসলাইভ: ভবিষ্যৎ ছাত্রলীগ কেমন দেখতে চান?

মো. তোফাজ্জল হক চয়ন: মৃদু হেসে চয়ন বলেন, শেখ হাসিনার স্বপ্নকে এগিয়ে নেয়ার পথ প্রদর্শক হবে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষার অধিকার ও সকল মুক্তির আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তোফাজ্জল চয়ন আরও বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ তড়িৎ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। যদি এভাবে আর দশ বছর শান্তিপূর্ণভাবে জননেত্রী দেশকে পরিচালনা করতে পারেন তাহলে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নেতাই নন, তিনি বিশ্ব রাজনীতিতেও একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব। আর এর প্রমাণ স্বরূপ ইতোমধ্যেই তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ নেতৃত্বে মধ্যে দশম হয়েছেন, সাউথ সাউথ পুরস্কার, চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদকে ভূষিত হয়েছেন।

ছাত্রলীগের বর্তমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ওই নেতা বলেন, ছাত্রলীগ পজিটিভ ধারার রাজনীতি করে। আমাদের স্বাধীনতা দিবস ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট শেষ হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নত হচ্ছে- এটাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উদ্যোগের কারণে। লক্ষীপুরে সামাজিকভাবে হেনস্থা হওয়া পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ। তিনি বলেন, সমস্যা হল ছাত্রলীগের ভাল খবরগুলো আমাদের দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়না। আমি সকল গনতন্ত্রমনা মিডিয়িা ব্যক্তিত্ব ও মিডিয়া কর্মীদের অনুরোধ করবো আসুন আমরা পজেটিভ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাই। আর ছাত্রলীগ এই রাজনীতিই করছে।

ক্যাম্পাসলাইভ: আপনাকে ধন্যবাদ।

মো. তোফাজ্জল হক চয়ন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

ঢাকা, ৩০ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) //এএইচ