[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্যে টিপস্


প্রকাশিত: March 31, 2016 , 11:27 pm | বিভাগ: আপডেট,স্টাডি


HSC

সীমান্ত দেব তূর্য: আগামী ৩ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা। ঘুম হারাম লাখ লাখ শিক্ষার্থীর। এখন সবই চলছে হিসাব-নিকাশ করে। কথন কি করবে? কোন কাজটা বেশী দরকার, আবার কোন না করলেই না। তবে টেনশনের কারণ নেই। কেবল মনোযোগ আর মনোযোগ। ঠান্ডা মাথায় পড়া শুনা করলেই ভাল ফলাফল করা যাবে। অর্জন করা যাবে কৃতিত্ব।

হয়তো অনেকের প্রিপারেশন অনেক ভালো, আবার অনেকের প্রিপারেশন মোটামুটি, আবার অনেকের হয়তো বেহাল দশা। এই তিন শ্রেণির শিক্ষর্থী নিয়ে আজ কিছু পরামর্শ দেয়া হলো।

যাদের প্রিপারেশন খুব ভালোঃ আসলে যাদের প্রিপারেশন খুব ভালো , তাদের নিয়ে কিছু বলার থাকে না, তারা শুধুমাত্র পরীক্ষা হলে মাথা ঠান্ডা করে পরীক্ষা দিলেই ভালো করার কথা। ভেতরে ওভার কনফিডেন্স থাকলে আসলেই ভালো করার কথা ।

কারণ তারা বছরজুড়ে সময়টাকে কাজে লাগিয়েছে, তাদের পরীক্ষা ও ফলাফল ভালো না হলে কাদের হবে?
তোমাদের জন্য এতটুকুই পরামর্শ থাকবে যে মাথা ঠান্ডা করে পরীক্ষাগুলো দাও, আর পুরো প্রশ্ন পড়ে তারপর বুঝে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবে।

যাদের প্রিপারেশন মোটামুটিঃ এই ক্যাটাগরিতে যারা পড়ো তারাই মূলত গড়ে ভালো ফলাফল করে। তাই তোমার প্রস্তুতি মোটামুটি তা নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ যাদের প্রিপারেশন মোটামুটি থাকে তারাই পরীক্ষার আগের সময়টাকে সবচেয়ে ভালো কাজে লাগাতে পারে।

যে পরীক্ষার আগের সময়টাকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে সেই সবচেয়ে ভালো করবে। মূলত এ কারণেই এই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গড়ে ভালো রেজাল্ট করে থাকে।
যাদের প্রিপারেশন খারাপঃ যাদের প্রিপারেশন খারাপ তারা নিশ্চয়ই পরীক্ষাটাকে সিরিয়াসলি নাও নি। হ্যা, আর এই কারণেই তোমরা ভালো করবে। কারণ ভালো প্রস্তুতি যাদের থাকে তাদের মনে সবসময় একটা ভয় কাজ করে পরীক্ষা নিয়ে। যা তাদের পরীক্ষার হলে একটু হলেও তোমার থেকে বেশি অস্বস্তিতে রাখবে।

কিন্তু তোমার যে শুধু ভয় নেই আর এ জন্য পরীক্ষা ভালো হয়ে গোল্ডেন এ প্লাস বা এ প্লাস পেয়ে যাবে তা কিন্তু নয়। এখন যতটুকু সময় আছে সে সময়কে কাজে লাগাতে হবে। তাহলেই তোমরা বাকি দুই শ্রেণির স্টুডেন্টদের সাথে তাল মেলাতে পারবে।

বাকি দুই শ্রেণির স্টুডেন্টদের চেয়ে এই সময়টা তোমাকে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে হবে। কারণ তারা তোমার চেয়ে অনেক এগিয়ে। যাই করো, সাজেশন নাও বা দাগিয়ে পড়ো, যেভাবে খুশি পড়ো , মূল কথা এই সময়টাকে তোমারই সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে হবে। আমি এরকম অনেককে দেখেছি যারা শুধুমাত্র পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকে পড়ায় মনোযোগ দিয়ে অনেক ভালো ফলাফল করেছে। তাই এই সময়টা হতাশ না হয়ে পড়াশুনায় কাজে লাগাও।

যারা পরীক্ষা দেবে তাদের জন্য কিছু টিপসঃ

প্রস্তুতি যেমনই হোক পরীক্ষা সবসময় মাথা ঠান্ডা করে দেবে। কারণ প্রস্তুতি খুব ভালো হলো আর পরীক্ষা হলে গিয়ে ঠিকঠাক কিছু অ্যান্সার করতে না পারলে কিন্তু কোনো লাভ নেই। যেসময়টুকু পরীক্ষার হলে বসে ঐ সময়টুকু সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ধরো, পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখলে অবজেক্টিভ তোমার অর্ধেক কমন পড়েছে আর অর্ধেক পড়েনি! তো অর্ধেক তো অ্যান্সার করতে পারবে ঠিকভাবে কিন্তু বাকি অর্ধেক কিভাবে অ্যান্সার করবে?

এক্সেক্টলি ঐসময়ই মাথা গরম হবে। কিন্তু তখন মাথা যত ঠান্ডা রাখবে ততই বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে। কারণ একমাত্র মাথা ঠান্ডা রাখার জোরে তুমি ঐ অর্ধেক ঠিকঠাক অ্যান্সার করে দিয়ে আসতে পারো।

মোটকথা, তোমার পরীক্ষার ফলাফল কেমন হবে তার সবটাই নির্ধারণ করে পরীক্ষার ঐ ৩ঘন্টা সময়। আর মাথা ঠান্ডা রাখার একটা গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো, নিজের কনফিডেন্স ধরে রাখা। তাই যদি পরীক্ষায় সবকিছু পড়ে নাও যেতে পারো তাহলে মনে মনে ধরে নেবে তুমি সব পড়ে গেছো, আর যখন পড়ে যাওয়া যায় তখন মনে এমনি থেকেই একটা আত্মবিশ্বাস চলে আসে। তাই, আমি বলব, নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখতে। মনে রেখো- Self- Confidence is the best outfit, rock it and own it.
* আর তোমাদের জন্য আরেকটা সুখবর হচ্ছে, পরীক্ষার মাঝে মাঝে অনেক গ্যাপ আছে। কিন্তু বাংলা ও ইংরেজির আগে তেমন একটা বন্ধ নাই। তাই বাংলা ও ইংরেজির জন্য একটু সাজেশন থাকবে-

বাংলাঃ বাংলা ১ম পত্রের অবজেক্টিভ পার্ট-এ মূলত অনেকেই ধরা খায়। বাংলা ১ম পত্রের সৃজনশীল অংশে যত পারো লিখে আসবে। আর যেহেতু ২ ঘন্টা ২০ মিনিটে ৬টি প্রশ্নের উওর দিতে হয় তাই এই ক্ষেত্রে টাইম টা একটু মেইনটেইন করে চলবে। কারণ বাংলায় প্রচুর লেখা থাকে। সময়ের ভেতর তা শেষ করতে অনেকেই হিমশিম খায়। তাই সৃজনশীল লেখার আগে মনে মনে সময়টা ভাগ করে নেবে।

পারলে ৫ মিনিট আগে শেষ করার চেষ্টা করবে। তাহলে মনে হবে ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছ। বাংলা অবজেক্টিভ মাথা ঠান্ডা রেখে অ্যান্সার করতে পারাটা খুবই জরুরি।

পরীক্ষার আগে বাংলা ১ম পত্রের মেইন বইটা অবশ্যই খুটে খুটে পড়ে যাবে। দরকার পড়লে গাইড বইটাকে ও সাথে রাখবে আর প্র্যাক্টিস করতে থাকবে। আর যেহেতু উপন্যাস পার্ট থেকে অবজেক্টিভ আসে না , তাই এর প্রতি লাইন এত খুটে খুটে না পড়লেও চলবে। কিন্তু গদ্য ও পদ্য এর ক্ষেত্রে বিষয়টা পুরো উল্টো।
তোমাকে পাঠগুলা খুব ভালোভাবে পড়ে যেতে হবে, আর কবিতাগুলো অবশ্যই পড়ে যাবা ভালো করে। আর আরেকটা জিনিস মাথায় রাখবে, পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার পর অনেকেই অনেক কথা বলবে, যে সে প্রায় সবগুলোই সিউর হয়ে দিয়ে আসছে, তার ভুল হবে না, এইসব কথায় মোটেও কান দিবে না।

পরীক্ষার ফলাফলের পর দেখা যায় কার কয়টা সঠিক হয়েছে। আর বাসায় এসে দেখবে সন্ধ্যার সময় কোনো একটা ওয়েবসাইটে তোমার বোর্ডের সবগুলা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে। এইটা মূলত যেকোনো একটা কোচিং সেন্টার প্রশ্ন কালেক্ট করে উত্তর বের করে দেয়।

এই উত্তর পেয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই আর উচ্ছ্বাসিও হওয়ারও কিছু নেই। কারণ তাদের আপলোড করা উত্তরপত্রে যে কয়টা ভুল থাকে ঐটা তারা নিজেও জানে না।

তোমার কনফিউশন থাকলে মেইন বই থেকে মিলিয়ে নেবে, আর না পেলে রেখে দেবে। যে যাই বলুক এত কান দেয়ার কিছু নেই। প্রশ্ন রেখে পরবর্তী পরীক্ষার প্রিপারেশন নিবে।
বাংলা ২য় পত্র: বাংলা ২য় পত্রে এখনকার সিলেবাসে মূলত সবই রচনামূলক। তাই আমি বলব পরীক্ষার ঐ ৩ ঘন্টা ভালোভাবে কাজে লাগাও। ঐ ৩ঘন্টায় তুমি যত ভালো ও বেশি লিখতে পারবে এই সাবজেক্টে তত ভালো মার্ক তুলতে পারবে। আমি একটা সাজেশন অবশ্যই দিব, আর তা হলো, প্রচুর লিখে আসবে। আর লেখা অবশ্যই পরিষ্কার রাখবা। লেখা পরিষ্কার থাকলে অনেক এক্সট্রা বেনিফিট পাওয়া যায়।

ইংরেজিঃ ইংরেজিতে আসলে সবাই ভালো করে। ইংরেজির জন্য শুধু এতটুকুই বলব যে, অ্যাডভান্স পড়ার সাথে সাথে নবদূত-টাও পড়ো।অ্যাডভান্সে যেসব টেবিল-রিঅ্যারেঞ্জগুলো পাবা না সেগুলো নবদূত থেকে কালেক্ট করে পড়বে।
** আর অন্যান্য সাবজেক্টগুলার মধ্যে আইসিটি সাবজেক্টটা একটু নতুন। এবং অনেকের জন্যই কঠিন। কিন্তু এইবার সৃজনশীল হওয়াতে মার্ক তোলাটা আগের চেয়ে সহজ হবে। চিন্তার কোনো কারণ নেই, এই বিষয়টা সব গ্রুপ এর জন্য, তাই সব গ্রুপ এর কথা বিবেচনা করেই প্রশ্ন করবে। শুধু যে প্রোগ্রামিং আর ম্যাথ রিলেটেড প্রশ্ন হবে এমন না। সব মিলিয়েই প্রশ্ন হবে। আর যেহেতু এইবারই বিষয়টা প্রথম সৃজনশীল , তাই বিষয়টাকে একদম ফেলে দিও না।

** বাংলা, ইংরেজি আর আইসিটি বাদে সবগুলাই গ্রুপ সাবজেক্ট। গ্রুপ সাবজেক্টগুলো নিয়েই সবার ভয় থাকে। গ্রুপ সাবজেক্ট গুলো নিয়ে টেনশন করো না। গ্রুপ সাবজেক্টগুলোর আগে প্রচুর বন্ধ আছে। ঐসময় ভালোভাবে পড়লে তোমার এ প্লাস কে আটকায়!

৪র্থ বিষয়ে ৪.০০ পয়েন্ট পেয়ে মোট ৪টি তে ৫.০০ ও বাকি দুইটিতে ৪.০০ পেলে এ প্লাস হবে। তাই আমি বলব ৪র্থ বিষয়কে অবহেলা না করে ঐটাতে ভালো মার্ক তোলার চেষ্টা কর। তাহলে অন্য একটিতে মিস হলেও সমস্যা হবে না।
আর একটা জিনিস সবসময় মনে রাখবে যে, এইচএসসিতে সবগুলো বিষয়ের দুইটা করে পার্ট আছে। তাই ১ম পত্র খারাপ হলে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। ২য় পত্রে এর মার্ক দিয়ে তা কাভার করে ফেলতে পারবে।

আজ এ পর্যন্তই। প্রয়োজনে আগামীতে আবার লিখব। সবাই ভালো থাকবা। ভালো করে পরীক্ষা দাও। সবার জন্য শুভকামনা।

ঢাকা// ৩১ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) // এফআর