[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সাগরকন্যা কুয়াকাটা যেন অন্যজগৎ


প্রকাশিত: April 19, 2016 , 9:12 pm | বিভাগ: আপডেট,ট্যুরিজম এন্ড এনভায়রনমেন্ট


k 2

লাইভ প্রতিবেদক: বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে সাগরকন্যা খ্যাত অপরূপ এক জায়গা কুয়াকাটা। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপালী ইউনিয়নে অবস্থিত এ জায়গায় আছে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত। কুয়াকাটার সৈকত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। পুরো জায়গাতেই আছে দীর্ঘ নারিকেল গাছের সারি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে এ বনেও।

বিভিন্ন সময়ে সমুদ্রের জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের কবলে পড়েছে সুন্দর এই নারিকেল বাগান। একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার মতো জায়গা দ্বিতীয়টি আর এদেশে নেই। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। আর সূর্যাস্ত দেখার উত্তম জায়গা হল কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকত।

অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্র সৈকত ছাড়াও কুয়াকাটায় আছে বেড়ানোর মতো আরও নানান আকর্ষণ।সারা বছরই দেখা মিলবে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য।
k 3

ঢাকা থেকে কিভাবে যাবেনঃ
কুয়াকাটা আপনি দুই পথে যেতে পারেন । নদী পথ আর সড়ক পথ । নদী পথে যেতে হলে প্রথমেই আপনাকে যেতে হবে ঢাকা সদরঘাট । সেখান থেকে প্রতি দিন পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ৪ টি অত্যাধুনিক লঞ্চ । তবে লঞ্চে যেতে চাইলে অন্তত একদিন আগেই লঞ্চের টিকিত কেটে রাখা ভাল । সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া লঞ্চভেদে ৯০০-১১০০ টাকা, ডাবল কেবিন ১৮০০ আর ডিলাক্স (ফ্যামিলি) ২০০০ টাকা ।

এ ছাড়াও আছে লঞ্চের ডেক যার ভাড়া ২০০ টাকা । আপনি চাইলে লঞ্চেই রাতের খাবার অর্ডার করতে পারেন অথবা নিজের বাসা থেকে নিয়ে যেতে পারেন । লঞ্চের ভ্রমণ খুবই উপভোগ্য । আমি বাজি ধরে বলতে পারি লঞ্চের প্রথম ভ্রমণ হলে আপনি আপ্লুত হয়ে পরবেন । লঞ্চগুলো ঢাকা থেকে ছাড়ে বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টার ভেতর । সকাল ৬ টা বা ৭ টা নাগাদ পটুয়াখালী পৌঁছাবেন । সকাল ৬ টা থেকেই প্রতি ১ ঘণ্টা পর পর কুয়াকাটার বাস ছেড়ে যায় পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে । লঞ্চ ঘাট থেকে বাসস্ট্যান্ড এর ভাড়া ২৫ – ৩০ টাকা ।

সড়ক পথে যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে গাবতলি বাসস্ট্যান্ড । এসি, নন-এসি দুই রকম বাস সার্ভিসই পাবেন । নন এসি ৫০০ টাকা আর এসি ৬৫০-৭০০ টাকা। সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত ৪ টা বাস ছেড়ে যায় ঢাকা থেকে । আর নাইট কোচ এর সময় শুরু সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত ১০:৩০ পর্যন্ত । আর গাবতলি থেকে দুই একটা বাস সরাসরি কুয়াকাটার উদ্দেশ্যেও ছেড়ে যায় তবে সেগুলোর সার্ভিস তেমন ভাল নয় । সড়ক পথে রাস্তার অবস্থা খুবই ভাল । পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটার ভাড়া জন প্রতি ১০০ টাকা । তবে একটা জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখবেন, তা হল সন্ধ্যা ৫ টার পর আর কোনো বাস পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা যায় না ।

কুয়াকাটা কোথায় থাকবেনঃ
কুয়াকাটা থাকার জন্য অনেক হোটেল রয়েছে । থ্রি-স্টার মানের হোটেল আছে দুটো । আছে সরকারি ডাকবাংলো । এ ছাড়া মধ্যম মানের অনেক ভাল হোটেল রয়েছে। সিঙ্গেল বেড এর ভাড়া এইসব হোটেলে ৩০০ টাকার মতো । আর ৬-৭ জন থাকার জন্য ৪ বেডের রুম নিতে পারেন যার ভাড়া পরবে ৮০০ টাকার মতো । সব হোটেলই সৈকতের খুব কাছে ।

কোথায় খাবেনঃ
খাবার জন্য কুয়াকাটাতে অনেক রেস্তোরা রয়েছে , তবে অর্ডার দেওয়ার আগে অবশ্যই দামটা জেনে নেবেন ।

k 4
যা দেখে আসতে ভুলবেন নাঃ
কুয়াকাটাতে দেখার মত অনেক কিছুই রয়েছে । সৈকতের কাছেই রয়েছে একটা বৌদ্ধ মন্দির যা কি না আপনার মন কেড়ে নেবে। এই বৌদ্ধমন্দিরের পাশেই রয়েছে কুয়াকাটার সেই বিখ্যাত কুয়াটি। পাশেই আছে রাখাইন মার্কেট। কেনা-কাটা যা করার এখান থেকেই করতে পারেন । এখানে রয়েছে অসম্ভব সুন্দর সব তাতের কাজ । আর বার্মিজ আঁচারের পশরা । সৈকত থেকে ৬ কিমি দূরে মিছরি পাড়াতে রয়েছে ৩ তলা সমপরিমাণ উচ্চতার আরেক বৌদ্ধমূর্তি । সৈকতের ঝাউবন থেকে কিছু দূরেই রয়েছে কুয়াকাটা ইকো পার্ক । খুবই নয়নাভিরাম পার্ক । এছাড়া কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে করে সাগরের মাঝখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন কিছু সময়ের জন্।য সাথে দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর মতো দেখে আসতে পারবেন সুন্দরবনের কিছু অংশ ।

সূর্য উদয় সাগর পাড়ের আরেক সৌন্দর্য । যারা কুয়াকাটা আসেন তারা কেউই এই জিনিসটা মিস করেন না । সূর্য উদয় দেখতে হলে আপনাকে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে এবং যেতে হবে সৈকত থেকে কিছুটা দূরে কাউয়ার চর নামক জায়গায় । যেতে পারেন মোটর সাইকেলে করে । সূর্য উদয় দেখার দৃশ্য যে একবার দেখেছে সে কখনো ভুলতে পারবে না । এছাড়া কাউয়ার চরে দেখতে পাবেন লাল কাঁকড়ার ছুটোছুটি । কুয়াকাটাতে রয়েছে জেলে-পল্লী । সৈকতের পশ্চিম দিকে। চাইলে দেখে আসতে পারেন । আর সমুদ্রের পানি যদি গায়ে লাগাতে চান, তাহলে বিনা দ্বিধায় নেমে পড়তে পারেন সাগরের পানিতে। এখানে কক্সবাজারের মত চোরাবালি টাইপ কিছু নেই । আর কোনো চোরা খাদও নেই । সৈকতে যারা বাইক চালাতে চান তাদের জন্যও আছে সুখবর । কিলোমিটার হিসেবে বাইক ভাড়া পাওয়া যায় । প্রতি কিলো ১০ টাকা । সব শেষে প্রিয়জনের সাথে একমনে দেখে নেবেন সূর্য অস্তের সেই হৃদয় ছুঁয়ে দেওয়া দৃশ্য ।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল নির্জনতা । ঢেউ এর গর্জন, তীরে আছড়ে পড়ার শব্দ আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য জগতে। সাগরের সাথে একাত্ম হবার এমন সুযোগ কখনো হারাবেন না ।

 

ঢাকা// কেএইচএস, ১৯ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) //এএইচবি