[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



১১ অভিযোগে ইবি প্রো-ভিসির পদত্যাগ দাবি


প্রকাশিত: April 23, 2016 , 4:07 pm | বিভাগ: আপডেট,খুলনার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


7a2ae18e-9b22-4a28-8d52-e176069e5101

ইবি লাইভ: পিএইচডি জালিয়াতি, যৌন কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি, জামায়াত সম্পৃক্ততাসহ মোট ১১টি অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রো-ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরামের শিক্ষকরা।

শনিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয় অনুষদ ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের অপসারণের গুঞ্জন ওঠায় প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান ভিসি হতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষকরা।

এ ছাড়া প্রো-ভিসিকে যেনো ভিসি না করা হয় এবং তাকে প্রো-ভিসির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন দিয়েছেন শাপলা ফোরাম ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের শিক্ষকরা।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা একটি যৌথ লিখিত সংবাদ বিবৃতি পাঠ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ প্রকাশ করেন তারা। এ ছাড়া এসকল অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন কাগজপত্র সরবরাহ করেন শিক্ষকরা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগসমুহ হলো-
১। ড. মো. শাহিনুর রহমান প্রো-ভিসি হয়েও ভিসির তুলনায় গাড়ির তেল, বাসার বৈদ্যুতিক বিল, নিজস্ব বাসা সংস্কার, প্রভৃতি খাতে দ্বিগুণ থেকে ৩ গুণ অর্থ ব্যয় করেছেন।

২। সুপারভাইজার হিসেবে পিএইচ.ডি ফেলোর বহিরাগত এক্সার্পাট এর রিপোর্ট জালিয়াতি করার দায়ে ২৩/০৫/২০০৫ তারিখে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৮০তম (আশি) সভায় তার বিরুদ্ধে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

৩। পিএইচডি সংক্রান্ত সকল গবেষণা তত্ত্বাববধায়কের দায়িত্ব থেকে তাকে বিরত রাখা হয়।

৪। ১৮২তম সিন্ডিকেট সভায় ২১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী ড. শাহিনুর রহমানকে পিএইচডি সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

৫। ইংরেজি বিভাগের ২০০২-০৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী লিপি তার যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এ ব্যাপারে সমকালীন বিভিন্ন পত্র-ত্রিকায় তা প্রকাশ পায়।

৬। প্রফেসর রহমানের জামায়াত সম্পৃক্ততার কতিপয় উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত; ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি কুখ্যাত শিবির ক্যাডার মো. জিল্লুর রহমানের এবং আরেক কুখ্যাত শিবির ক্যাডার হোসেন আল মামুনের এমফিল সুপারভাইজার ছিলেন তিনি।

৭। ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসি কুখ্যাত রাজাকার ও পিস কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রির রেজিস্ট্রেশনের ভূয়া কাগজ দাখিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি লঙ্ঘন করে কোনো সুপারভাইজার ছাড়াই নিজের পিএইচডি ডিগ্রি হাতিয়ে নেন এবং সেই রাজাকার ভিসির অবৈধ অনুকূল্যে প্রফেসর পদে পদোন্নতি পান।

৮। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে তদন্ত করার নির্দেশ প্রদানের পর আত্মরক্ষার্থে তিনি ১০/০১/২০১৬ তারিখে পদত্যাগের নাটক সাজিয়ে পরে তা ০৫/০২/২০১৬ তারিখে প্রত্যাহার করে নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে স্বজ্ঞানে পদত্যাগের এবং পরে আবার তা প্রত্যাহার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনোরূপ নির্দেশনা ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্বপদে ফিরে যাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তুলনাবিহীন এবং একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, দায়িত্বশীল কর্মকর্তার জন্য বেমানান।

৯। পদত্যাগের পর পূনরায় যোগদান করায় অনুপস্থিত ২৫ দিনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি তা প্রভাব খাটিয়ে অর্জিত ছুটি হিসেবে অনুমোদন করিয়ে নেন যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

১০। ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর মাসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪টি গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিলো বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।

১১। ড. শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম সংকট ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রগতিশীল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের নির্বাচিত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে তার আজ্ঞাবহ একটি পকেট কমিটি গঠন করেন এবং প্রগতিশীল শিক্ষক কর্মকর্তাদের মধ্যে আত্মঘাতী সংঘাতের সম্ভবনা সৃষ্টি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. জাকারিয়া রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান, শাপলা ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন সহ উভয় সংগঠনের শিক্ষক-কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

ইবি// এমজে, ২৩ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) //এএইচ