[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



 প্রসঙ্গ সোশ্যাল বিজনেস


প্রকাশিত: April 25, 2016 , 7:19 am | বিভাগ: অপিনিয়ন,গেস্ট কলাম


আবু প্রান্তর: ড. মোহাম্মদ ইউনুসের “স্যোশাল বিজনেস” বা সামাজিক ব্যাবসার ধারনাটি সারা পৃথিবী জুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। স্যোশাল বিজনেস বিষয়ে আমার কিছু বিশ্লেষণ রয়েছে। যদিও ছোট মুখে বড় কথা বলা ঠিক না। তারপরও এই কনসেপ্টের প্রণেতার প্রতি সম্মান রেখেই আমার ব্যক্তিগত মতামত শেয়ার করছি।

ড. মোহাম্মদ ইউনুস তাঁর ” বিল্ডিং স্যোশাল বিজনেস” বইতে স্যোশাল বিজনেসের ৭ টি বৈশিষ্টের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি সেই বৈশিষ্ট্যের আলোকে স্যোশাল বিজনেস আইডিয়াকে বিশ্লেষণ করব।

প্রথমত, Every legal business is social business. প্রত্যেকটা বৈধ ব্যবসাই সামাজিক ব্যবসা। দেয়ার ইজ নো আনস্যোশাল বিজনেস। কারণ সমাজই মানুষকে ব্যবসা করার অনুমতি দেয় এবং ব্যবসা সমাজের মধ্যেই করা হয়। ফলে সমাজ কোন ব্যবসাকে স্বীকৃতি না দিলে তা ঐ সমাজে ব্যবসা করতে পারবে না। যেই ব্যবসা স্যোশাল না সেটা অবৈধ ব্যবসা। অবৈধ ব্যবসার বিপক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সমাজ স্বীকৃত আইন রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, স্যোশাল বিজনেসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এটা সামাজিক সমস্যার সমাধান করে। প্রত্যেক ব্যবসায় সমাজের কোন না কোন সমস্যা সমাধান করে। এমনকি একটি মুদির দোকানও ছোট পরিসরে সমাজের একটা সমস্যা সমাধান করে। কারণ সমস্যা সমাধান করে বলেই কাস্টমার পণ্য বা সেবা ক্রয় করে এবং ব্যবসা টিকে থাকে। অন্যথায় ব্যবসাকে কাস্টমার টাকা দেবে না।

তৃতীয়ত, স্যোশাল বিজনেসের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো, এটা মুনাফা কেন্দ্রিক ব্যাবসা না। মানে এই ব্যবসার লক্ষ্য প্রফিট ম্যাক্সিমাইজেশন বা মুনাফা সর্বোচ্চকরন অর্জন করা নয়। এখানে বিনিয়োগকারী  শুধুমাত্র তার বিনিয়োগের মূলধন ব্যবসা থেকে ফেরত নিবে, কোন মুনাফা বা লভ্যাংশ নিবে না। বিনিয়োগের পুঁজি ফেরত নেয়ার পর মুনাফাকে ব্যবসায় পুনঃবিনিয়োগ করা হবে। যাতে ব্যবসা সম্প্রসারিত হয় করে এবং সমৃদ্ধি পায়।

এটা ব্যবসায়ের আরেকটা কৌশল। যে ব্যবসা মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যাবসা না সেটা কখনো টেকসই ব্যাবসা না। কারণ মানুষ ব্যবসা করে লাভের জন্য। ব্যবসায়ী সমাজের সমস্যা সমাধান করার মধ্য দিয়ে লাভবান হয় এবং লাভবান হওয়ায়টাই যুক্তিযুক্ত। কোন ব্যবসাকে ১ কোটি টাকা আয় করতে হলে তাকে ১০ কোটি টাকার সমস্যা সমাধান করতে হয়। ৫০ লাখ টাকা সমস্যা সমাধান করে ব্যবসার পক্ষে ১ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব না।

মানবতাবাদী অযৌক্তিক চিন্তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না। ফলে কথিত “স্যোশাল বিজনেস” এর ধারনাটি জনপ্রিয়তা পেলেও এটা টেকসই না।

 

চতুর্থ, স্যোশাল বিজনেসের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো এটা পরিবেশ বান্ধব ব্যবসা। সমাজ ব্যবসা করার অনুমতি দেয় এবং ব্যবসা সমাজের ক্ষতি করবে না এই মর্মে দায়ী থাকে। এটা যে কোন ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বর্তমান সময়ে পরিবেশ আইন অনেক কড়া ফলে ব্যবসা করতে হলে পরিবেশ বান্ধব হতেই হবে। অন্যথায় প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইন ব্যবসা করতে দেবে না।

একবিংশ শতাব্দীতে পরিবেশ দূষণকারী ব্যবসা টিকবে না। কারণ সারা বিশ্ব পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারে সচেতন। যারা আগে পরিবেশ দূষণ করে ব্যবসা করতো তারা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করে পরিবেশবান্ধব ব্যবসা গ্রহণ করছে।

পঞ্চম, স্যোশাল বিজনেসের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হল এটা লিঙ্গ বৈষম্য করে না। ব্যবসা কখনো লিঙ্গ বৈষম্য করে না। লিঙ্গ বৈষম্যের ধারণা ব্যাকডেটেড ধারণা। ব্যবসা তাকেই নিয়োগ দেয় যে ব্যবসাকে আউটপুট দিতে পারবে, প্রফিট বাড়াতে সাহায্য করে। লিঙ্গ কোন বিষয় না।

ষষ্ঠ, এখন যে কেউ প্রশ্ন করতে পারে, তাহলে সিগারেটের ব্যবসা কি স্যোশাল বিজনেস? আমি বলবো, হ্যাঁ। সমাজ সিগারেট কোম্পানীকে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছে। কারণ সমাজ সিগারেটকে প্রয়োজনীয় মনে করছে।

সপ্তম,  স্যোশাল বিজনেসের আরেকটা বৈশিষ্ট্য দারিদ্র দূরীকরণ। মানুষের মৌলিক সমাস্যার সমাধান করা। সব সময় ব্যবসা দারিদ্র দূরীকরণ এবং মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে। এটা নতুন কিছু নয়। অন্ন, শিক্ষা, স্থাস্থ্য, প্রযুক্তি ইত্যাদি শুরু থেকেই ব্যবসায়ীরা সমাধানের চেষ্টা করছে। এসব সবসময় লাভজনক ব্যবসা। কারণ এগুলোর মার্কেট অনেক বড়।

অষ্টম,  আমি স্যোশাল বিজনেসের বিপক্ষে না বরং পক্ষে। তবে ক্রিটিকালি দেখলে স্যোশাল বিজনেস নতুন কোন আইডিয়া না এবং এটা আমার বিবেচনায় সাসটেইনাবল বিজনেস না। কারণ স্যোশাল বিজনেস প্রফিট মেকিং ব্যবসার সাথে টিকে উঠতে পারবে না।

সর্বোপরি, ড. মোহাম্মদ ইউনুস একজন ভিশনারি উদ্যোক্তা। তিনি ভালো কাজ করার চেষ্টা করছেন। তবে আমি তাঁর স্যোশাল বিজনেসের সমর্থক নই। আমি এখন পর্যন্ত মনে করি, এই আইডিয়া দিয়ে সামাজিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না।

 

আবু প্রান্তর, শিক্ষার্থী, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) //এনকে