[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সামনে পরীক্ষা : বইয়ের পাতায় মন নেই, যা করবেন


প্রকাশিত: May 3, 2016 , 1:59 am | বিভাগ: আপডেট,স্টাডি


study2-live-8

লাইভ প্রতিবেদক : মাঝেমাঝে এমন হয় যে একজন লেখক লিখতে চাইছেন, লিখার জন্য খাতা কলম নিয়ে বসে আছেন, কিন্তু কিছুই লিখতে পারছেন না, মাথায় কিছুই আসছে না। লেখকের এই অবস্থাকে বলা হয় রাইটার’স ব্লক। ঠিক একইভাবে একজন পাঠক পড়তে চেয়েও যখন পড়তে পারেন না, পড়তে গেলে পড়ায় মন বসে না কিন্তু বারবার মনে হয় পড়া দরকার- তখন পাঠকের এই সমস্যাকে বলা হয় রিডার’স ব্লক।

এটা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। যে কেউই এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। হুট করে চাইলেই আপনি এর থেকে মুক্তি পেতে পারবেন না। একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখুন, আপনি কিন্তু মনে মনে রুটিন সাজিয়ে নিয়েছেন কিভাবে কতক্ষণ ধরে কোন কোন বিষয় পড়বেন। কিন্তু পড়তে পারছেন না। পড়তে গেলে মনে হয় ‘কাল থেকে পড়বো।’ কিন্তু হায়!
সেই ‘কাল’ আর আমাদের জীবনে আসে না। আপনার যদি এই রোগ থেকে থাকে, তবে এটাকে যত তাড়াতাড়ি দূর করতে পারবেন, ততই মঙ্গল।

কারণ ক’দিন বাদেই ৩৬তম লিখিত, ৩৭তম প্রিলিমিনারি, এছাড়াও আরো অনেক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতো আছেই।

চলুন জেনে নেই এ থেকে উত্তরণের উপায়:::>>>

১] পড়া বন্ধ করে দিন : জ্বী, ঠিকই বলছি। যখনই বুঝতে পারবেন আপনি পড়ায় মন বসাতে পারছেন না অর্থাৎ রিডার’স ব্লকে আক্রান্ত, ঠিক তখনই পড়া বন্ধ করে দিন। জোর করে পড়তে যাবেন না। এতে পড়াতো হবেই না উল্টো পড়ার প্রতি বিরক্তি এসে যাবে। নিজেকে পড়াশোনা থেকে একটু বিরতি দিন।

২] ভালো লাগার বইটি খুলুন : নিশ্চয়ই আগে আপনি এমন কোন উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন বা প্রবন্ধ পড়েছিলেন যেটা আপনার অনেক অনেক ভালো লেগেছিলো। সেই পুরনো বইটা আবার হাতে নিন। আবার পড়ুন। এই বইটা পড়তে পারবেন, কারণ এই বইয়ের সমাপ্তি আপনি জানেন। ওটাই আবার পড়ুন। জোর করে mp3, Job Solution, Oracle পড়তে যাবেন না। ওগুলো পড়ার জন্য রাইটার’স ব্লক কাটিয়ে নিন। হুমায়ূনের উপন্যাস ভালো লাগলে একদিন সময় দিয়ে একটা উপন্যাস শেষ করে দিন (হোক না সেই উপন্যাস আগেও পড়েছেন)। মনে রাখবেন, আপনার কাজ হচ্ছে পড়ার অভ্যাসটা আগে ফিরিয়ে আনা। আর সেই অভ্যাস চলে আসলে Job Solution একমাসেই শেষ করে দিতে পারবেন।

৩] মুভি দেখুন : বিভিন্ন উপন্যাসের উপর নির্মিত মুভি দেখতে পারেন এই সময়। এটা খুব ভালো কাজে দেয়। কারণ ওই মুভিটাই আপনাকে একটি উপন্যাস পড়িয়ে দিবে, এমনও হয় সেই উপন্যাস পড়তে আগ্রহী করে তুলবে।

৪] রুচি বদলান : একই ধাঁচের বই পড়া রাইটার’স ব্লকের একটি অন্যতম কারণ। তাই বই পড়াতে ভিন্নতা আনুন। সবসময় ভারী ভারী বই পড়তে হবে এমন কোন কথা নেই। মাঝেমাঝে জোকসের বই পড়লে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায় না।

৫] ঘুরে আসুন : যদিও হাতে একদমই সময় নেই, তবুও দু’একদিনের জন্য প্রিয় মানুষের কাছে, প্রিয় জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন। এটা রাইটার’স ব্লক দূর করতে সাহায্য করে। তবে ঘুরতে গেলে ওই ঘোরাঘুরিটাই উপভোগ করবেন। আপনি রোগ দূর করতে ঘুরতে গেছেন- এমন চিন্তা করবেন না।

৬] চোখ বন্ধ করে একটু দুনিয়া থেকে সরে দাঁড়ান : আপনি কেন পড়বেন- এই প্রশ্নটা নিয়েই আধাঘণ্টা একাকী ভাবুন। না পড়লে আপনার কী কী ক্ষতি হয়ে যাবে সেগুলোও ভাবুন। কষ্ট করে পড়ার পর যখন একটা চাকুরী হয়ে যাবে তখন আপনার ও আপনার আশেপাশের মানুষের অনুভূতি কী হবে সেটাও ভাবুন। এই ভাবনাটা খুব কাজের। হুট করেই মনটা পরিবর্তন করে দেয়।

৭] বইগুলো নতুন করে সাজান : টেবিল ও সেলফের বইগুলো কোন এক শুক্রবার বের করে মুছেটুছে নতুন করে সাজিয়ে রাখুন। বইগুলো ঘাঁটতে ঘাঁটতে এক অন্যরকম অনুভূতি হবে। চলে যাওয়া প্রেমিকার পুরনো চিঠি হাতে নিলে যে অনুভূতি হয়, অনেকটা সেরকম। tongue emoticon এতে করে আবার পড়ার অভ্যাস জাগ্রত হয়ে যেতে পারে।

৮] অহেতুক দুশ্চিন্তা করবেন না : আপনি পড়তে পারছেন না- এটা ভেবে অহেতুক দুশ্চিন্তা করবেন না। এতে করে মনে বিষণ্ণতার সৃষ্টি হবে। রোগের কথা বারবার স্মরণ করলে রোগ দূর হয় না, উল্টো আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তাই, পড়তে না পারলে বই বন্ধ করে নিজেকে একটু সময় দিন। আর ১-৭ পর্যন্ত যা বলা আছে সেগুলো একটু এপ্লাই করে দেখুন।

[কার্টেসি : এন রহমান লিমন]

ঢাকা, ০৩ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন