[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রবীন্দ্রনাথকে এক সন্তানহারা মায়ের চিঠি


প্রকাশিত: May 8, 2016 , 8:05 pm | বিভাগ: আপডেট,আর্টস এন্ড লিটারেচার


article

লাইভ প্রতিবেদক: সুজান একটি ভালোবাসার প্রতীক। সুজান এক মায়ের গল্প। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তিনি একখানা চিঠি লিখেছিলেন প্রায় ৯৬ বছর আগেই৷ কিন্তু কে ছিলেন এই সুজান? সুজান ব্রিটিশ যুদ্ধবিরোধী কবি উইলফ্রেড ওয়েনের মা৷ এই প্রতিভাধর কবিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধর সময় রণাঙ্গনে যেতে বাধ্য করেছিল ব্রিটিশ সরকার৷ মাত্র ২৫ বছর বয়সে যুক্ষেত্রেই তিনি নিহত হন৷

রণাঙ্গনে গিয়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখেন ওয়েন৷ চোখের সামনে সহযোদ্ধারা একের পর এক প্রাণ হারাচ্ছেন৷ এমন ভয়াবহ হত্যালীলা তাঁর মনকে কাঁপিয়ে দেয়৷ বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি৷ আর সেই সময় রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির অনুবাদ ‘সং অফারিং’-এর কবিতা ছিল তাঁর বেঁচে থাকার রসদ৷ মৃত্যুর পর ওয়েনের ব্যবহৃত জিনিসপত্র তাঁর মায়ের হাতে তুলে দেয় ব্রিটিশ সামরিক কর্তৃপক্ষ৷ সেখানে ওয়েনের ডায়েরির পাতায় পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির কবিতা৷

আত্মকথনে ওয়েন লিখে গিয়েছেন, রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রেও কীভাবে প্রতিদিনই অবসাদ থেকে তাঁকে উজ্জীবিত করতো। ১৯১৮ সালের ৪ নভেম্বর যুদ্ধক্ষেত্রেই শত্রুপক্ষের গুলিতে ওয়েনের মৃত্যু হয়৷ পুত্রের মৃত্যুর প্রায় দেড়বছর পরে কবিগুরুকে চিঠি লেখেন ভক্ত ওয়েনের মা সুজান নিজেই৷

তিনি রবীন্দ্রনাথকে জানান, ‘আমার ছেলে যু‌দ্ধে যেতে চায়নি৷ চায়নি ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধবাজ কোনও পক্ষের লড়াইয়ের অঙশ নিতে৷ ওকে জোর করে পাঠানো হয়েছিল৷ তবু যুদ্ধক্ষেত্রেও প্রতিদিনই বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে পেত আপনার গীতাঞ্জলির নানান সব কবিতা থেকে৷’

এই ঐতিহাসিক ও গভীর অর্থপূর্ণ চিঠিটি শান্তিনিকেতনের নতুন প্রদর্শশালা ‘গীতাঞ্জলি কক্ষে’ রাখা হচ্ছে৷ ৯৬ বছর আগে লেখা এই চিঠিটি বিশ্বভারতীর উদয়ন গৃহে চোখের আড়ালে ছিল৷ বর্তমান কর্তৃপক্ষ সেটি এবার সর্বজন সমক্ষে রাখার ব্যবস্থা করছেন৷ চলতি মাসের শেষেই চিঠিটি প্রদর্শশালায় রাখা হবে৷

মা সুজান চিঠিতে কবিকে লিখেছিলেন, ‘আমার ছেলের ডায়েরিতে ছিল আপনার কবিতা যাবার দিনে/এই কথাটি বলে যেন যাই/যা দেখেছি, যা পেয়েছি/তুলনা তার নাই৷’ আসলে কবিগুরু তাঁর প্রতিটি লেখার মধ্যে মানুষ এবং জীবনের যে ধারাবাহিক জয়গান গেয়েছেন তা তরুণ ব্রিটিশ কবির হৃদয়ে অনুরণন তুলেছিল৷

আসলে এই যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে ততদিনে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথই লিখে ফেলেছিলেন, ‘হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী’৷ কারণ, গুরুদেবও নিজে কোনওদিনই এই লড়াই, ক্ষমতাদখল ও ভয়াবহ হত্যালীলাকে সমর্থন করেননি৷

 

ঢাকা// ৮ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এফআর