[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বিশ্ববিদ্যালয়ে চরিত্রহীন শিক্ষক বনাম নম্বরলোভী ছাত্রী!


প্রকাশিত: May 11, 2016 , 1:21 am | বিভাগ: অপিনিয়ন,আপডেট,এক্সক্লুসিভ,মত


teacher-students-live

ইমরান হোসেন : আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটি থেকে এবারই বের হলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের যৌন হয়রানি নিয়ে যেসব পোস্ট দেখলাম, সম্মানিত শিক্ষক মহোদয় এর চ্যাট হিস্টোরি যা দেখলাম, ভয়ংকর অবস্থা। ঘৃণা বোধ করেছি, বীভৎস লেগেছে, কিন্তু অবাক হইনি, কারণ ভার্সিটি থেকে গত মাসে বের হয়েছি, পাঁচশ বছর আগে না, জানি কি হয় ভেতরে। মনে হল ভার্সিটিতে কি দেখছি না দেখেছি এই কয় দিনে, লেখা দরকার। অন্তত এই ধরনের ইস্যুতে।

এই ফেরদৌস স্যার টাইপের লোকগুলো আসলে বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। অনেকেই আছে। বিশ্বাস না হলে জিজ্ঞেস করে দেখেন ভার্সিটির মেয়েগুলোকে। এই ফেরদৌস কতদিন পর ধরা খেল? কতকিছু করার পর?

আরও কত ফেরদৌস আছে সেটা মেয়েরা ভার্সিটি পাশ করতে করতে দেখে ফেলে, ওরাও চুপ করে থাকে, আমরাও চোখে ঠুলি লাগাই।

ক্লাসে এক স্যার ছিল, আজিব। মেয়েদের সিটের সামনে না দাঁড়িয়ে ক্লাস নিতেই পারত না বেচারা। চেয়ারের সাথে সেঁটে দাঁড়াতো। এমনকি দুই মেয়ের চেয়ারের মাঝে সরু জায়গায় বকরীর বাচ্চার মত সেঁধিয়ে গিয়ে ক্লাস নিত। একবার ক্লাসের এক ছেলে ক্লাসের মোটামুটি এক সুন্দরীর চেয়ারের সাথে চেয়ার লাগিয়ে বসে পড়ল। স্যার ভদ্রলোকের গায়ে লাগল বোধহয়। তিনি ছেলেটিকে গিয়ে বললেন, “তুমি স্মার্ট ছেলে, এখানে বসছ কেন? এখান থেকে তো ভালো করে বোর্ড দেখতে পাবে না”, এই বলে তিনি ছেলেটিকে নির্বাসন দিলেন ক্লাসের একদম ফ্রন্ট রাইট বেঞ্চে, যেখান চাইলেও বোর্ড দেখা যায় না। এরপর চেয়ারটি একটু সরিয়ে চেয়ারটির জায়গা তিনি দখল করলেন।

সেই ভদ্রলোকের রুমে গিয়েছিলাম একটা এসাইনমেন্ট নিয়ে। তিনি বিরস বদনে দুই লাইন দেখলেন। এমন সময় এক ছাত্রী প্রবেশ করল। তিনি আমাকে ইগনোর করে সহাস্যে এগিয়ে গেলেন। কিছু কথার পর ছাত্রীকে বললেন, “ভালো তুলসী টি আছে, খাবে?”। বাইরে এসে এক ফ্রেন্ডের সাথে ঘটনা শেয়ার করলাম। ফ্রেন্ড বলল, “তুইও বলতি, স্যার আমিও খাব, এক কাপ দিয়েন”।

আরেক ভদ্রলোক ছিল ফেইসবুকের রাজা। হেন কোনো মেয়ে নাই যাকে তিনি জ্বালাতন করেননি। তার কি কি অ্যাচিভমেন্ট আছে, মাসে অলরেডি কয় টাকা ইনকাম করেন, কত ভাল তার রেজাল্ট, এইসব শুনাতেন। অন্যান্য ঘটনাতো আছেই, কিছু কথা থাক না গোপন।

একটা চমৎকার ঘটনা শুনেছিলাম এক ফ্রেন্ডের কাছে, বিশ্বস্ত সূত্রে অবশ্যই। স্যার এক মেয়ের সাথে পক পক করছিলেন নক দিয়ে, কথা প্রসঙ্গে মেয়েটিকে তিনি জিজ্ঞেস করেন সে থাকে কোথায়, মেয়েটি জানাল রামপুরায়। স্যার জানালেন তিনিও কাছেই থাকেন, বলে উত্তরার দিকে একটা জায়গার নাম বললেন। এবং বললেন দরকার লাগলে চলে আসতে। যাই হোক মনের টানে হয়তো বেচারার কাছে মনে হয়েছে এই দুটো জায়গা। অথবা তিনি গ্রামীণ ফোনের সিম ব্যবহার করেন… “কাছে থাকুন”

এই পর্যায়ে এসে আমার চোখ খুলে যায় আরেকটা নতুন দিকে। মেয়েরা ততদিনে বুঝে গেছে সব স্যার না হলেও কিছু স্যার আছে, যাদের ক্লাসে এ প্লাসটা পেতে তাদের পড়ার কস্টটা একটু কম করলেও চলবে এবং তারা হামলে পড়ল, সবাই না। অনেকেই।

আমি ছিলাম বি সেকশনে। বি সেকশনের আবার দুইটা ভাগ, বি-১ আর বি-২ । ল্যাব ফাইনালের আগে একজন ফ্রেন্ড বলল, “ভালো করে পড়া লাগবে, আমাদের সেকশনেতো আর অমুক আর অমুক নাই (অমুক আর অমুকের স্থানে ক্লাসের দুই ছাত্রীর নাম), আমাগো গার্ড দিয়া ফাটায়ে ফেলবে, আর ওদের দেখবেই না”। ঘটনা তাই হলো, আমাদের ক্লাসে সিরিয়াস গার্ড, ঘাড় ঘুরালে শেষ, আর অন্য সেকশনে রিলেটিভলি ইজি। সেটা সমস্যা না। সমস্যা হল লুচুসম্রাট শিক্ষক ক্লাসের জনৈকা লুইচ্চা সম্রাজ্ঞীর কাছে দাঁড়িয়ে উত্তরসহ বলে দিয়েছেন। সেই অমুক অমুক এর মধ্যেই সেই সম্রাজ্ঞীর নাম ছিল।

আমিতো সেই ফ্রেন্ডের জ্ঞানের গভীরতায় অবাক। তুই আগে থেকে কেমনে জানলি! তখনই জানতে পারলাম ব্যপারগুলো। কিছু মেয়ে যখন থেকে বুঝলো এখানে সুবিধা করা যাবে, স্যার এর ক্যারেক্টার চমৎকার, তখন স্যারের আর নক দেওয়া লাগত না তেনাদের। তেনারাই রাতে বিরাতে গল্প জুড়তেন। আর ক্লাসে লাফিয়ে লাফিয়ে উত্তর দেওয়া, সবকিছুতে চঞ্চলতা চপলতা দেখিয়ে মহোদয়ের কাছে তারা নিজেকে রিমার্কেবল করে তুলেছিলেন। এসব মিলিয়ে আমার বিচক্ষণ ফ্রেন্ড দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নিয়েছিল। পরে আমিও শুদ্ধি পরীক্ষা করে চারই পেয়েছিলাম। এই সম্রাজ্ঞীরা দুই মার্কের জন্য ক্যারেক্টারের ইন্টেগ্রিটি স্যারের কাছে তুলে দিতে পারে, আল্লাহ্‌ জানেন আরেকটু বেশির জন্য কি করবে।

এই তো গেল ক্যারেক্টার নষ্ট টিচার আর সেই সুযোগ নিয়ে গ্রেডের পিশাচ মেয়েদের কাহিনী। এবার একটু উলটো দিক থেকে।

অধিকাংশ টিচার এরকম না। অধিকাংশই খুব ভালো। এমনকি ইয়াং টিচারদের অনেকেও চমৎকার মানুষ। ইয়াং হওয়া সত্যেও নিজেদেরকে ভালোই সামলে রাখেন।

কিন্তু এদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একদল লুইচ্চার সম্রাজ্ঞী। তারা নিজ থেকে নক দিয়ে নক দিয়ে, কথা বলে এগিয়ে আসে। এই সেমিস্টারেই শুনেছিলাম দুই সম্রাজ্ঞী নাকি আমাদের দুইজন ইয়াং টিচার, যারা এক দুই সেমিস্টার আগে ক্লাস নিয়েছিলেন, তাদের “গেঁথে ফেলেছে”। শুনে টাশকি খেয়ে গিয়েছিলাম, কারণ এই দুইজন টিচারের মধ্যে একজনের ব্যপারে আমার ভালই জানা ছিল। বুঝলাম এই সম্রাজ্ঞীরা কতটুকু কস্ট করেন শিকার গাঁথতে। নষ্ট হতে কেউ না চাইলেও নিজ দায়িত্বে ঘাড়ের উপর পড়ে তারা নষ্ট করবেন।

ইভেন লুইচ্চা ফেরদৌসের চ্যাট স্ক্রিনশটেও তার প্রমাণ আছে। মেয়ে নিজের রেসপন্স কেটে দিয়ে শুধু ফেরদৌসের টেক্সট গুলো রেখেছে। কি হত ফেরদৌসকে রেস্পন্স না দিলে? ভার্সিটি থেকে বের করে দেয়া হতে পারত ম্যাক্স। আসলে তাও না, বড়জোর ফেইল করত কোনোটায়, বা মার্ক খারাপ পেত। এসবের জন্য কি নিজের সব বিকিয়ে দেওয়া যায়? চাইলে তার এইসব এর স্ক্রিনশট আরও অনেক আগেই ফেইসবুকে ছেড়ে দিতে পারত। ফেইসবুকতো আর ফেরদৌসের বাবার সম্পত্তি না, এসব স্ক্রিনশট ভাইরাল হতই।

আর ফেরদৌসের আহসানুল্লাহতে থাকা মাথায় উঠত তাহলে। ব্যপারটা হচ্ছে এসব ক্ষেত্রে দুই পক্ষই কিছু সুবিধা ভোগ করে, তাই আর ধরিয়ে দেওয়া হয় না। মুখ খুললে যে নিজের পাওয়া সুবিধাগুলোও আর পাওয়া হবে না। ফাইনালি যে মুখ খুলেছে, তাকে ধন্যবাদ।

বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও, দয়া করে বিশ্বাস করুন, এটা ভার্সিটির রেগুলার ঘটনা। আরও বিশ্বাস করুন, এগুলোরই ডিফ্রেন্ট ভার্সন চলে কর্পোরেট অফিসগুলোতে। এখানে পাঁচ মার্কের গ্রেডের জন্যে, ওখানে পাঁচ ডিজিটের স্যালারির জন্য।

সবার চোখ খুলুক। সবাই বুঝুক। সব ফেরদৌস, পরিমলরা নিশ্চিহ্ন হোক। ভদ্র টিচাররাও রক্ষা পাক নম্বরলোভী নষ্ট মেয়েদের থেকে।

ইমরান হোসেন
কার্টেসি : প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এলায়েন্স

ঢাকা, ১১ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন