[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



শাবিতে পুকুর নিয়ে রহস্যের সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা


প্রকাশিত: June 8, 2016 , 3:47 pm | বিভাগ: আপডেট,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,সিলেটের ক্যাম্পাস


sust-pond3

শাবি লাইভ : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরে সারা বছর পানি থাকার রহস্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসলাইভে এনিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে অনেকেই ওই পুকুরে সারা বছর পানি থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অাবার অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আমাদের ঢাকা অফিসে ফোন করেছেন। পুকুরটিকে নিয়ে কেন রহস্য তৈরি হয়েছে এবিষয়ে জানতে চেয়েছেন তারা। আবার অনেকেই রহস্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে শাবির হলের পাশে অবস্থিত ওই হলের পুকুর নিয়ে ক্যাম্পাসলাইভে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তার কোথাও ভৌতিক কোন কিছু উল্লেখ করা হয়নি। বরং পুকুরটির বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা অন্য পুকুরের চেয়ে আলাদা। এনিয়ে শাবির অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে যে, কেন ওই পুকুরে সারা বছরই পানি থাকে। কেন পুকুরটি সেচ দেয়া হয় না বা সংস্কার করা হয় না। সম্প্রতি নিলয় মো. আজম নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় ওই পুকুরটি আলোচনায় আসে। সচেতনতার জন্য পুকুরের ব্যতিক্রম কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে ক্যাম্পাসলাইভে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতার না জানা শিক্ষার্থীদের সচেতন করতেই ওই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। যাতে পুকুরের কিছু ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্য দেয়া হয়েছে। এনিয়ে আতংকের কিছু নেই। তবে যারা সাঁতার জানেন না তাদের জন্য ওই পুকুর ভয়ঙ্কর, এ বিষয়টিই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

এদিকে শাবির ওই পুকুরে সারাবছর পানি থাকার রহস্যের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের অনেকেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর মধ্যে কেউ বলেছেন, পুকুরের তলদেশের সঙ্গে নদীর সংযোগ রয়েছে। একারণে সারাবছরই এতে পানি থাকে। আবার কেউ বলেছেন, পুকুরের মাটি নরম হওয়ায় পাতালের সঙ্গে পুকুরের তলদেশের সংযোগ তৈরি হয়েছে যা পানি সরবরাহ করে।

তবে এসব আলোচনার বাইরে পানি থাকার রহস্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন গবেষকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। তারা বলেন, পুকুরটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার মাটিতে পানির স্তর উঁচুতে থাকায় নিচ থেকে পুকুরে পানি ওঠে। তাই পুকুরের পানি শুকিয়ে গেলে মাটির নিচ থেকে পানি সরবরাহ হয়। একারণে ওই পুকুরটি সেচ দেয়া প্রায় অসম্ভব।

আরেকটি ব্যাখ্যা হল, পুকুরের পাশে ছোট ছোট টিলা রয়েছে। সেখান থেকে পানি ছুইয়ে ছুইয়ে পুকুরে এসে জমা হয়। এ কারণেও পুকুরে সারা বছর পানি থাকে।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, পুকুরের চারপাশে পাড় থাকলে এতে মৃত্যুহার কমানো যেত। এছাড়া পুকুরের পাড়ের বিভিন্ন অংশে হঠাৎ গভীর খাদ কমানো প্রয়োজন। তাই অবিলম্বে ওই পুকুরের সংস্কারের প্রযোজন বলে মনে করছেন তারা।

সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. জহির বিন আলম ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, পুকুরের মাটিতে পানির স্তর উঁচুতে রয়েছে। আবার পাশেই পাহাড় থাকায় সেখানকার পানি ছুইয়ে ছুইয়ে পুকুরে এসে পড়ে। তাই পুকুরে সারা বছর পানি থাকে। অন্য পুকুরের ক্ষেত্রে সাধারণত এমন বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না।

তিনি বলেন, ওই পুকুরটির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সিভিল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পুকুরটি সংস্কার নাকি ভরাট করা হবে এনিয়ে পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ঢাকা, ০৮ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন