[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাচ্ছি, প্রাণের ক্যাম্পাসে প্রেম করা হল না


প্রকাশিত: June 10, 2016 , 12:34 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন,আপডেট


biplob-cu
শামসুজ্জোহা বিপ্লব : পৃথিবীতে এক আজব ক্যারেক্টার নিয়ে জন্মেছিলাম, মাইরি! বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরোদস্তুর গার্লফ্রেন্ড ছাড়াই বের হয়ে যাচ্ছি। পাহাড়ে ঘেরা, সবুজে ভরা, সমতলে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে ক্যাম্পাসে কোনো মেয়ের সাথে প্রেম করতে পারলাম না। আর প্রেম হবে কোথায়, কবে হবে? সোনালী দিন শেষ। ইট, পাথরের, কর্পোরেট জীবন হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

ছোট ভাই ব্রাদাররা কেউ যদি কোনদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করে। ভাই, ভার্সিটিতে গার্লফ্রেন্ড কয়টা ছিলো? তখন চুপ করে থাকতে হবে। না হয় একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলতে হবে। নারে ভাই একটাও ছিলো না। একটাও ছিলো না। জানি এ কথা শুনলে ছোট ভাই ব্রাদাররা কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ ভার্সিটিতে যারা পড়ে, তাদের প্রতি ম্যাক্সিমাম মানুষের একটা ধারনা থাকে। ভার্সিটি পড়ুয়াদের দুই চারটি করে গার্লফ্রেন্ড থাকে, প্রেম করে, খুঁনশুটি করে। আরও কত কি? আর বিশ্বাস করলেও তারা খুব হতাশ হবে। তাদেরকে হতাশ করা ঠিক হবে কি না, ভাবছি? নাকি ভাব নিয়ে মিথ্যা বলে দিবো। ছিলো দুয়েকটা ব্রেকআপ হয়ে গেছে। ভাবছি খুব করে ভাবছি।

প্রাইমরি, হাইস্কুল, কলেজে প্রেম করতে পারি নাই। বোকা ছেলে ছিলাম। পড়াশোনা ছাড়া কিছু বুঝতাম না। প্রেম করার মতো সময় ছিল না। আর বাবার কড়া শাসনতো ছিলেই। কিছু জানলে জানে মাইরা ফালাইতো। ভেবেছিলাম পারিবারিক গণ্ডি থেকে বের হয়ে রিলাক্সে প্রেম করবো। একটু বড় হয়ে নেই। রাজশাহীতে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচিং করি। প্রথম দিনই বড় ভাইরা এসে বললো। এখন মোবাইল বেশি ব্যবহার করার দরকার নাই। এই কয়েকমাস পারলে মোবাইলটা বন্ধ করে রাখো। ভালভাবে পড়াশোনা করো। ভার্সিটিতে চান্স পেলে অনেক গার্লফ্রেন্ড হবে। তখন মনের সুখে প্রেম করতে পারবা। সুনীলের ভাষায় বলতে হয় ছাব্বিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি! নাদের আলী! আর কত বড় হবো আমি?

আমরাও আশায় ছিলাম। কিন্তু আশার মুখে আজ গুঁড়েবালি। দেখতে দেখতে ভার্সিটির ছয় বছর শেষ। প্রেমের দেখা নাই, প্রেমিকার খোঁজ নাই। ক্যাম্পাসে সুন্দরী মেয়ে দেখলে ভাললাগে। আর একটা কি জানি বলে? ও মনে পড়েছে ক্রাশ খাওয়া। পারলে ক্রাশ খাই, আঁড়চোখে একটু চেয়ে থাকি। তারপর ঘটনার সমাপ্তি। আর কোনো খোঁজখবর নাই। পরেরদিন আবার ক্যাম্পাসে যাই। নতুন করে ভাললাগে, ক্রাশ খাই, চেয়ে থাকি। আগের দিনের ভাললাগা মনেথাকে না, ক্রাশ খাওয়া মেয়ের চেহারাটাও ভুলে যাই। আবার নতুন করে ক্রাশ খাই। এই ভাললাগা বা ক্রাশ খাওয়া মেয়েগুলোর কোনো খোঁজখবরও নেওয়া হয় না। আর কখনো দেখা হয় না। বোকার মতো বলাও হয়ে ওঠে না। এই যে শুনুন! আপনাকে খুব ভাল লেগেছে। সেদিন ঝুপড়িতে দেখেছিলাম। আপনি চা খাচ্ছিলেন। হয় না! কখনো বলা হয়ে ওঠে না।

খুব বেশি দুয়েকদিন মেয়েটাকে নিয়ে ভাবি, রাতে দুঃস্বপ্ন দেখি, ফ্রাসট্রেশন বের করি। আর বললেই বা কি হতো? ক্যাম্পাসে এত বছর তো দেখলাম। প্রেম করার জন্য যে আজব ক্যারেক্টার দরকার। সেটা আমার ভিতরে নাই। আমি বোকা ছেলে। আমি বুঝে গেছি ঐ রকম আজব ক্যারেক্টার আমার হবে না। আমার দ্বারা সম্ভব না প্রেম করা।

আচ্ছা! আমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে এরকম ভেবেছিলাম? আমি কি এই ভালবাসাহীন ক্যাম্পাস চেয়েছিলাম? আমিতো চেয়েছিলাম ক্যাম্পাসে পড়াশুনা করবো, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে জড়িত থাকবো, বন্ধুবান্ধব থাকবে, রাতভর ক্যাম্পাসে আড্ডা হবে, গান হবে, নাচ হবে। জীবন পুরোটা চিল হবে। বলতে ভুলে গেছি! আর একটা জিনিস খুব করে মন থেকে চেয়েছিলাম। কাউকে কখনো বলা হয়নি। সুন্দরী লাল টুকটুকে একটা মেয়ের সাথে প্রেম করবো, ক্যাম্পাসে ঘুরবো, ভালবাসবো, বিয়ে করবো। আরও কত কি? ক্যাম্পাসে জীবনে ঠিক যা চেয়েছিলাম, কম বেশি তাই পেয়েছি। পড়াশুনার ক্ষেত্রে রেজাল্ট, সাংস্কৃতিক অঙ্গন দাঁপিয়ে বেড়ানো, বন্ধুবান্ধব পেয়েছি মনের মতো।

ক্যাম্পাসে বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছয়টা বছর রাতদিন একাকার চিল করে বেড়িয়েছি। কোনকিছুর কমতি ছিলো না। শেষ বয়সে এসে হিসাব মিলাতে গিয়ে দেখি। সবকিছু তো ভালই হলো। কিন্তু সবকিছু থেকেও কোথায় যেনো কি একটা নেই? এই নেই নেই থেকে এখনো বের হয়ে আসতে পারি নি। কি নেই পাঠকের এতক্ষনে না বোঝার কোন কারন নেই।

চলতে ফিরতে ঘুরতে অভিজ্ঞতা তো কম হলো না। সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। যারা প্রেম করতে পারে। তাদের প্রাইমারী, হাইস্কুল, কলেজ কোনটাতেও বাদ যায় না। সব জায়গায় দু’চারটি করে থাকে। আর যারা আমার মতো করতে পারে না। তাদের প্রেম ভালবাসা কোথাও হয় না। সেটা যেমন প্রেম ভালবাসাময় নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জায়গা হোক না কেনো? এই মানুষগুলো হয়তো হতাশ হয় না, কিন্তু একসময় হুতাশ হয়ে যায়। নিজেকে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে খুব কষ্ট হয়। যখন দেখে সবাই প্রেম করছে, নিজের একটা গার্লফ্রেন্ড নাই। দেখে, ভাবে, চিন্তায় পড়ে যায়। তবুও কিছু তো করার নেই। ধীরেধীরে ব্যাপারগুলো নিজের সাথে যৌক্তিক করার চেষ্টা করে। মানিয়ে নিতে শেখে। ভেবে নেয় সবার দ্বারা সবকিছু সম্ভব নয়। প্রত্যেকটি মানুষের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। এই সীমাবদ্ধতার বাইরে আমরা কেউ নেই। হয়তো আমারও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিলো। এই সীমাবদ্ধতা থেকে আমি কখনো বের হয়ে আসতে পারি নি। এখন আর বের হওয়ার কোনো ইচ্ছেও নেই। যেমন চলছে, ভালই চলছে। নচিকেতার গানের ভাষায় বলতে হয়। এই বেশ ভাল আছি।

শুধু বোকা ছেলেটার ভার্সিটিতে অসমাপ্ত রয়ে গেলো প্রেম ভালবাসা নামক কাল্পনিক অধ্যায়ের।

শামসুজ্জোহা বিপ্লব,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ১০ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন