[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বিসিএসের সোনার হরিণ ধরতে যেভাবে প্রস্তুতি


প্রকাশিত: June 15, 2016 , 1:37 pm | বিভাগ: স্টাডি


shahin-live-78

শাহীনুর ইসলাম শাহীন : বর্তমানে বাংলাদেশে বিসিএস ক্যাডারের জব হচ্ছে সোনার হরিণের মতো। এক সময় এই জব ছিলো অালাদীনের অাশ্চর্য প্রদীপ হাতে পাওয়ার মতো। তখন এতো ঘনঘন বিসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নিয়মিত ও ঘন ঘন BCS পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার ফলে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীর মাঝে বিসিএস বা সরকারি জব নিয়ে এক বিশাল অাকাংখা ও অাগ্রহ তৈরি হয়েছে। যার কারণে অাগের মতো পরিবার ও দেশের মায়া ত্যাগ করে দেশের বাইরে যাওয়া অনেকাংশে কমে গেছে। ফলে দেশেই গড়ে উঠছে ভালো ভালো সরকারি ও বেসরকারি জব সেক্টর। উপরোক্ত কারণে বাংলাদেশের বেকারের সংখ্যা অাগের চেয়ে অনেক হ্রাস পেয়েছে। যার ফলে দেশ ও জাতি ঐ সমস্ত ছাত্রছাত্রীর দ্বারা পুরো সেবা পাচ্ছে। কয়েক বছর অাগেও দেশে জব সেক্টরের এতো সুযোগ সুবিধা ছিলো না, যা বর্তমানে অাছে। যা দেশ ও জাতির জন্য এক অার্শিবাদ হিসেবে অার্বিভূত হয়েছে ।

প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্ন পূরনের জন্য অনবরত পরিশ্রম করে যেতে হয়। শুধু শুয়ে-বসে থেকে সেই স্বপ্ন কখনো পূরন করা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন বা কলেজের অনার্স জীবন অতিবাহিত হবার পর তুমি নিজেকে কোথায় এবং কিভাবে দেখতে চাও তার জন্য প্রত্যকেরই এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকা দরকার। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া হচ্ছে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি অনেক জব সেক্টর রয়েছে। সরকারী চাকরির মধ্য রয়েছে বিসিএস ক্যাডারের জব, নন- ক্যাডার জব ও প্রথম শ্রেণীর জব। দেশে বিসিএস ছাড়াও অারো অনেক সরকারি ও বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্র রয়েছে। বিসিএস এ একটা নরমাল ক্যাডার পাওয়ার জন্য যে পড়াশোনা ও পরিশ্রম করতে হয়, একটা ভালো ক্যাডার পাওয়ার জন্য তার চেয়ে অনেক অনেক গুন বেশি কষ্ট ও পড়াশুনা করতে হয়। তাই প্রস্তুতিটা ভার্সিটির ৩য়/৪র্থ বর্ষ থেকেই শুরু করে দেওয়া সবচেয়ে ভালো । যারা ভাল ক্যাডার পেতে চাও এবং সেই সঙ্গে মেধাতালিকায় প্রথমের দিকে থাকতে চাও তাদের জন্য উচিৎ হবে রুটিন করে মন দিয়ে পড়াশোনা করা এবং প্রতি বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাজেট ও সংবিধানের উপর ভালো দখল রাখা ।

সর্বপ্রথম যা করতে হবে তা হলো বিগত বছরের যাবতীয় প্রশ্নগগুলো পড়ে ফেলা। তা না হলে বুঝতে একটু কষ্ট হবে যে কোনগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তোমাদের যাদের প্রিলি বা রিটেন পরীক্ষার বিষয়গুলোতে দুর্বলতা ও ভয় কাজ করে তাদের উচিত হবে প্রতিদিন কমপক্ষে ২ ঘন্টা করে প্রতিটা বিষয় অালদা অালাদা করে স্টাডি করা।

ইংরেজি বা অংকের দুর্বলতার জন্য ডেইলি ৪ ঘন্টা করে বিষয়টি পড়াশোনা/ অনুশীলন করা উচিত। তা না হলে ঐ সমস্যাটি এতো সহজে দূর হবে না। BPSC.gov.bd ওয়েবসাইটে বিসিএস প্রিলিমিনারির সিলেবাস পাওয়া যায় সেখান থেকে তা ডাউনলোড করে দেখে নিতে পারো।

সেই প্রস্তুুতির কিছু কিছু বিষয় হতে পারে নিম্নরুপ :

(১) সাধারণ জ্ঞান :

বাংলাদেশের প্রতিটা চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান থাকে। এর জন্য প্রতিদিনের একটা জাতীয় পত্রিকা ভালভাবে পড়া দরকার । সেই পত্রিকার গুরুত্বপূর্ন অংশ এর জন্য সংরক্ষন বা নোট করা যেতে পারে । এর পাশাপাশি বাজারে বিভিন্ন ধরনের সাধারণ জ্ঞানের বই পাওয়া যায় তার যে কোন একটি হাতের কাছে রাখা উচিত এবং সেখান থেকে ডেইলি একটু একটু করে পড়া উচিত।

যেমন : অাজকেট বিশ্ব ও নতুন বিশ্ব ইত্যাদি বই পাওয়া যায়। এই বইগুলো থেকে যা কিছু পড়া হবে তা প্রতিদিনের পত্রিকা পড়ার কারনে রিভাইজ / রিভিশন হয়ে যাবে। এছাড়া প্রতিমাসের কারেন্ট এ্যাফেয়ার্সও হাতের কাছে রাখা যেতে পারে। পরীক্ষাতে ভালো করার সবচেয়ে একটা বড় সুবিধা। তবে অাজকের বিশ্ব বইটি অামার কাছে দারুন লেগেছে।

(২) ইংরেজি :
চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজি একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । এই বিষয়ে ভালো দখল না থাকলে জীবন-যুদ্ধে পিছিয়ে পড়ার খুবই সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের এই বিষয়ে দুর্বলতা অাছে তারা এখন থেকেই সেই ক্ষত সারানোর চেষ্টা শুরু করে দিতে পারো। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ইংরেজি থেকে গ্রামার, ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং, ফ্রেজ এ্যান্ড ইডিয়মস, গ্রুপ ভারব, প্রিপজিশন এর ব্যবহার এবং ট্রান্সসেলেসন থাকে। এর জন্য জাকির হোসেনে এবং চৌধুরি এ্যান্ড হোসাইনের ইংরেজি গ্রামার বই দুটি অনেক কাজে লাগতে পারে । এছাড়া English for Competitive exam বইটিও অনেক ভালো মনে হয়েছে ।

(৩) বাংলা :

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখান থেকে বাংলা ব্যাকরণের বেসিক বিষয় সমূহ পরীক্ষায় থাকে। বাংলা ব্যাকরণের গ্রামার, রচনা, ভাবস্মপ্রসারন, সারাংশ ও চিঠি প্রভৃতি পরীক্ষায় অাসে। বাংলার জন্য ক্লাস নাইন টেনের বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই এবং সোমিত্র শেখরের একটি বই বাজারে পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রফেসরস ও ওরাকল গাইড রয়েছে। তবে প্রফেসর গাইড বেশ ভালো।

(৪) অংক :

ইংরেজির মতো বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী অংকে খুব দুর্বল। যারা অংকে খুব দুর্বল তাদের উচিত হবে ক্লাস সিক্স থেকে দশম শ্রেণির অংকবইগুলো সংগ্রহ করে প্রতিদিন অনুশীলন করা। বাজারে অনেক ধরনের অংকের বই পাওয়া যায়। যেমন- প্রফেসর, ওরাকল, সাইফুরস ও ডাইজেষ্ট প্রভৃতি। অংকে ভালো দখলের জন্য বিগত বছরের প্রশ্নগুলো প্রতিদিন অনুশীলন করার কোনো বিকল্প নেই। একসাথে অনেকগুলো অংক মুখস্ত না করে বুঝে বুঝে একটা অংক করা সবচেয়ে উত্তম। বরং এটা বেশি কাজে দেয়।

(৫) বিজ্ঞান :

অন্যান্য বিষয়ের মতো বিজ্ঞানও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অবহেলার কারনে বেশিরভাগ সময় দেখা যায় Science এর স্টুডেন্টরাই এই বিষয়ে সবচেয়ে খারাপ করে। তাই অবহেলা না করে সমান গুরুত্ব দিয়ে এর প্রতিটা অধ্যায় ভালভাবে পড়া উচিত। বাজারে ওরাকল, প্রফেসর ও সাইফুরস বিভিন্ন প্রকার গাইড পাওয়া যায়। এর যেকোন একটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভালভাবে পড়লে ভাল ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ওরাকল বিজ্ঞান গাইড অামার কাছে ভালো মনে হয়েছে।

শাহীনুর ইসলাম শাহীন
রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার
মিনিস্ট্রি অব হাউজিং এন্ড পাবলিক ওয়ার্কস

ঢাকা, ১৫ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন