[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



আসন সংকটে রাবি লাইব্রেরির ‘ডিসকাশন রুম’


প্রকাশিত: June 16, 2016 , 9:31 pm | বিভাগ: ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,ফিচার,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


IMG_20160609_100514

মনিরুল ইসলাম নাঈম, রাবি লাইভ: দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সবচেয়ে বৃহৎ লাইব্রেরি হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। কিন্তু এতো বড়ো লাইব্রেরি থেকেও পুরোপুরি সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

লাইব্রেরির ভিতরে সকল ধরনের বই নিয়ে প্রবেশ করতে না পারার কারণে নিজেদের ক্যারিয়ার কেন্দ্রীক প্রস্তুতি নিতে পারছেন না অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা। কারণ হলের রুমে ৩ থেকে ৪ জন থাকার কারণে মনের ইচ্ছা মতো বই পড়তে পারেন না অনেকেই। আর তাই সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন লাইব্রেরির ডিসকাশন রুমে।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য ডিসকাশন রুমে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি আসন রয়েছে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা জায়গা না পেয়ে রুমে ফিরছে অথবা লাইব্রেরির বারান্দায় বসে নিজের ক্যারিয়ার কেন্দ্রীক পড়াশুনায় মগ্ন হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে এমনই দৃশ্য দেখা গেল লাইব্রেরির ডিসকাশন রুমের সামনে। রুমের সামনে শিক্ষার্থীরা সারি সারি করে নিজেদের ব্যাগ সিরিয়াল দিয়ে রেখেছে। উদ্দেশ্য একটাই, রুমের জায়গা অতি সংকুলান হওয়ায় আগেভাগে গিয়ে নিজের জায়গাটি ধরে রাখা।

অন্যান্য সময়ে সকাল ৮টার দিকে রুম খুলে দিলেও রমজান উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলে দিচ্ছে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ।

রুম খুলে দেয়ার একটু পরেই রুমে প্রবেশ করে চোখে পড়লো শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। ছোট্ট এই রুমটিতে মাথার উপরে ফ্যান থাকলেও ভ্যাপসা গরমের কোনো কমতি নেই। গাদাগাদি করে বসে থাকা এই সকল শিক্ষার্থীদের সামনে সাধারণ জ্ঞানের বই, কারো সামনে ইংরেজি, বিজ্ঞান, বাংলা, অথবা গণিতসহ বিভিন্ন ধরনের বই দেখা যাচ্ছে।

অনেকই রুমে প্রবেশ করেই বের হয়ে চলে আসছে। কারণ বসে পড়ালেখা করার জন্য কোনো চেয়ার খালি নাই। আবার একটু সময়ের জন্য চেয়ার টেবিল ফাঁকা হলেই অন্য কেউ বই নিয়ে বসে যাচ্ছে তার স্থলে।

এ চিত্র কেবলমাত্র একদিনের নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে প্রতিদিন এমন দৃশ্য লক্ষ করা যায়। হলে একই রুমে এক সাথে কয়েকজন থাকা হয়, ফলে রুমমেটের ক্লাস ফ্রেন্ড সার্কেলের অনায়াসে যাতায়াত, গল্প আর আড্ডাবাজির কারণে নিজের ইচ্ছামতো পড়তে না পেরেই নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়তই ভিড় জমাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট্ট এই ডিসকাশন রুমে।

IMG_20160609_085316

 

এমনইভাবে আইন বিভাগের আসিফ নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, “আমার রুমে এক সাথে ৪ জন থাকি। ফলে একজন বই নিয়ে বসলে আরেকজন মোবাইলে গান শুনে অথবা অন্যজন ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে যা আমার পড়ালেখার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করে না। তাই সময়টাকে যথাযথভাবে সময়টাকে কাজে লাগানোর জন্য লাইব্রেরিতে আসা। কিন্তু এখানে বসে পড়ালেখা করার জন্য তেমন কোনো জায়গা নাই। ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৫০টি চেয়ার টেবিল রয়েছে। যার ফলে এখানেও এসে তেমন ভালোভাবে পড়াশুনা করতে পারি না।”

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মিনহাজ আবেদীন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, “লাইব্রেরির বিষয় নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। শিক্ষার্থীরা যেনো বই নিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে পারে এ জন্য আন্দোলনও করেছি। লাইব্রেরিতে বই নিয়ে প্রবেশ করতে না পারার জন্য একটি ডিসকাশন রুম করা হয়েছে যেখানে বসে পড়লেখা করার মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। যা আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক। প্রশাসন ইচ্ছা করলে অন্য কোথাও আরো ডিসকাশন রুমের ব্যবস্থা করতে পারে। আমরা আশা করছি লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সুনজরে আনবে।”

জানতে চাইলে লাইব্রেরি প্রশাসক প্রফেসর ড. শফিকুন্নবী সামাদী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, “আগে কোনো ডিসকাশন রুমের ব্যবস্থা ছিলো না। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-ভিসিকে বলে আপাতত একটি রুমের ব্যবস্থা করেছি। যেহেতু লাইব্রেরিতে তেমন কোনো জায়গা নাই সেহেতু এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।”

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরবর্তীতে আমরা অন্য কোথাও রুমের ব্যবস্থা করে দিবো বলে জানান তিনি।

 

রাবি// এমআইএন, ১৬ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএইচ