[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার আগে যা বলে গেলেন সেই ছাত্র


প্রকাশিত: June 19, 2016 , 3:45 am | বিভাগ: আপডেট,কলেজ,ক্রাইম এন্ড 'ল


fahim-new-live
লাইভ প্রতিবেদক : শিক্ষককে কোপানোর অভিযোগে আটক সেই ছাত্র ফয়জুল্লাহ ফাহিম ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তবে নিহত হওয়ার আগে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য দিয়ে গেছে। তার জবানিতে বেরিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যার নেপথ্যে থাকা অনেকের নাম। ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার আগে তার দেয়া জবাবনবন্দি ভিডিও করে রেখেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে ফাহিম বলেছে, হিজবুত তাহরীর, জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নামে জামায়াত ও শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা গুপ্ত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। মূলত সামনে জঙ্গি নামধারীদের ব্যবহার করা হলেও পেছনে রয়েছে যুদ্ধাপরাধী দলের ক্যাডাররা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এখন তারা কিলিং মিশনে পরিচিতি পাওয়া জঙ্গি সদস্যদের ব্যবহার করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ক্যাডাররাও অংশ নিচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিম অন্তত তার পরিচিত সহযোগী হিসেবে দেড় ডজন ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানিয়েছে। এছাড়া কয়েকটি বড় অস্ত্রের মজুদের সন্ধানও দিয়েছে ফাহিম। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের নানামুখী তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কেন তাদের এমন হত্যা মিশনে নামানো হয়েছে প্রশ্নের জবাবে ফাহিম পুলিশকে জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারতকে বিক্ষুব্ধ করে তুলতেই তাদের মাঠে নামানো হয়েছিল। এজন্য বেছে বেছে তাদের দিয়ে হিন্দু পুরোহিতসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে হত্যা করানো হচ্ছে। আর নিরাপদ মনে করে ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলকে তারা বেছে নিচ্ছে। নির্দেশদাতারা জানিয়েছে, ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে এ সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। তাই ভারতকে ক্ষুব্ধ করতে না পারলে কোনোভাবেই এ সরকারকে বিদায় করা যাবে না। আর তাদের এ মিশন সফল হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে জামায়াত-শিবির।

ফাহিম জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানিয়েছে, ধাপে ধাপে তাদের এ হামলা আরও শক্তিশালী হবে। এরপর সমাজের বিশেষ ব্যক্তিদের ওপর হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের ওপর আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে জামায়াতের।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জামায়াত হাত মিলিয়েছে হিযবুত তাহরীর, জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ বেশকিছু জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষিত সদস্যদের সঙ্গে। ইতিমধ্যেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল গঠন করে তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে মাদারীপুরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য দিয়ে গেছে গোলাম ফয়জুল্লাহ ফাহিম। ফাঁস করে দিয়েছে ভয়ংকর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলের নেতৃত্বে থাকা অন্তত ১৮ জনের নাম।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশানল (সিটি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গোলাম ফয়জুল্লাহ ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফাহিমের দেয়া তথ্য ভিডিও করে রেখেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া ফাহিমের দেয়া তথ্যানুযায়ী পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা গত দু’দিনে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে অসংখ্য অভিযান পরিচালনা করে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে পুলিশ ভয়ংকর জঙ্গিদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ফাহিম টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১৮ সদস্যের নাম বলে গেছে। এরা হচ্ছে- জাকারিয়া, সবুজ, সাজেদুর, মানিক, মাজিদ, ফারুক, শফিক, মিলন, কফিল উদ্দিন ওরফে রব মুন্সি, আজিবুল ইসলাম ওরফে আজিজুল, শাহান শাহ, হামিদুর রহমান, বজলুর রহমান, বাবর, শরিফ, খাইরুল ইসলাম, নাদিম ও ময়েজ উদ্দিন। এদের মধ্যে প্রথম চারজন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে জড়িত। বাকি ১৪ জন শিবিরের সদস্য।

ফয়জুল্লাহ ফাহিম তার দেয়া তথ্যে পুলিশকে বলেছে, তাদের ৬ জনের দলটির টার্গেটে ছিল সংখ্যালঘু পরিবারের ১০ সদস্য। এদের সবাই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা। মাদারীপুরে সফল হলে তাদের পরবর্তী টার্গেট ছিল বরিশালের আরেক হিন্দু আইনজীবী।

 

[কার্টেসি : যুগান্তর]

ঢাকা, ১৯ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন