[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



অর্থের অভাবে তরুণ উদ্ভাবকের উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিৎ


প্রকাশিত: June 22, 2016 , 1:58 am | বিভাগ: আপডেট,রিসার্চ


Barisal-jisan

বরিশাল লাইভ : তরুণ উদ্ভাবক জিসান হাওলাদার। বরিশাল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র তিনি। জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব মোটরযান আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন মালয়েশিয়া পড়াশোনার সুযোগ। তবে অর্থের অভাবে তার সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

জিসানকে মালয়শিয়ার ইনফ্রাস্ট্রকচার ইউনিভার্সিটি চলতি জুন সেমিষ্টারে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। তবে আর্থিক দৈন্যতায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার।

জিসান জানান, অর্থের অভাবে ওই ইউনিভার্সিটি থেকে মোটরযানের উপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে তার। ভর্তিসহ যাবতীয় ব্যয় হিসেবে ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তার ও পরিবারের পক্ষে ওই পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো ভর্তির প্রস্তাব গ্রহন করাও সম্ভব হয়নি। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারলে তার পক্ষে আরও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব মোটরযান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জিসানের উদ্ভাবিত পরীক্ষামূলক প্রাইভেটকার আকৃতির মোটরযান ২০১১ সালে চলাচল করে। উচ্চ শব্দবিহীন তার উদ্ভাবিত তিনটি মোটরযানের মধ্যে দুটি জাতীয় কার্ড ডিজাইন অ্যান্ড ফুয়েল এফিসিয়েন্ট প্রতিযোগিতার দুই ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়। তার মোটরযানের দুইটির একটি এক লিটার পেট্টোলে ১৪৫ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয়টি ১৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে।

জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকার আয়োজনে কিছুদিন পূর্বে বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে মেলায় বুয়েট, রুয়েট, এমআইএসটি, আহসানউল­াহ বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রথম সারির কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত চার চাকার মোটরযানের মধ্যে জিসানেরটি সেরা হয়েছে।

infrastructure-iukl-1
জিসানের উদ্ভাবিত প্রাইভেটকার আকৃতির যানটি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ১২০ সিসি মোটরযানের চেসিস তৈরি করা হয়েছে এসএস পাইপ দিয়ে। এছাড়া মূল বডিতে দেওয়া হয়েছে স্টিল শিট। ৬০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন মোটরযানে চালকসহ ছয়জন বসতে পারবেন। তবে আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা মোটরযানে দেয়া হয়েছে দুটি করে আসন।

জিসান বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে এক-একটি মোটরযান তৈরি করতে তার প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনটি মোটরযান তৈরিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিয়েছে জাইকা। তার উদ্ভাবিত প্রতিটি মোটরযান পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি এবং চালু করতে ইঞ্জিন, চেসিস এবং বডিসহ প্রায় ৮ লাখ টাকার প্রয়োজন। জিসান হাওলাদার বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহন করে উদ্ভাবিত মোটরযান আরো উন্নত করার পর বাজারজাত করা হলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হতে পারে। এর জন্য পৃষ্ঠপোষকতা আশা করছেন তিনি। আশা করছি তরুণ এই উদ্ভাবকের প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসবেন সমাজের বিত্তবান ও বিজ্ঞান অনুসন্ধিৎসুরা।

ঢাকা, ২২ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন