[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ঈদে ঘুরে অাসতে পারেন মহাস্থানগড়


প্রকাশিত: June 26, 2016 , 4:50 pm | বিভাগ: ট্যুরিজম এন্ড এনভায়রনমেন্ট


bogura-3

বগুড়া লাইভ : মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এক সময় মহাস্থানগড পুণ্ড্রনগরের রাজধানী ছিল। এখানে
মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।

যিশু খ্রিষ্টের জন্মেরও আগে এখানে সভ্য জনপদ গড়ে উঠেছিল প্রত্নতাত্ত্বিকভাবেই তার প্রমাণ মিলেছে। জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী থেকে খ্রিষ্টীয় ১৫ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে এই নগর এক সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে বিস্তার লাভ করে। বেশ কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এখানে অসংখ্য হিন্দু রাজা ও অন্যান্য ধর্মের রাজারা রাজত্ব করেন। এর মধ্যে রয়েছেন মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সামন্ত রাজবংশের শাসকরা। এরপর এখানে ধর্মীয় সংস্কার করতে আসেন ইসলাম ধর্ম প্রচারকরা।

অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক আর ইতিহাসবিদ মহাস্থানগড়কে হারিয়ে যাওয়া কিংবদন্তির নগরী পুন্ড্রবর্ধন বলে উল্লেখ করেছেন। বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৬৩৯ থেকে ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে পুন্ড্রনগরে এসেছিলেন। ভ্রমণের ধারাবিবরণীতে তিনি তখনকার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রারউল্লেখ করে বর্ণনা করেন।
দশম শতকের মধ্যবর্তী সময়ে এখানে রাজত্ব করেন রাজা নরসিংহ বা পরশুরাম। রাজা পরশুরাম ছিলেন অত্যাচারী। তাকে উচ্ছেদ করে ইসলাম ধর্মের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে আসেন হযরত শাহ্ সুলতান বলখী (র.) মাহী সওয়ার। ধর্ম প্রচারক শাহ্ সুলতান বলখী (র.) সম্পর্কে রয়েছে আশ্চর্য কিংবদন্তি।

bogura

শোনা যায়, তিনি মহাস্থানগড় অর্থাৎ প্রাচীন পুন্ড্রনগরে প্রবেশ করার সময় করতোয়া নদী পার হয়েছিলেন একটা বিশাল আকৃতির মাছের পিঠে চড়ে। এ জন্য তার নামের শেষে উল্লেখ করা হয় মাহী সওয়ার বা ‘ মাছের পিঠে আরোহনকরী’। বাস্তববাদীরা বলেন, মাহী সওয়ার নদী পার হয়েছিলেন ঠিকই তবে তা মাছের পিঠে চড়ে নয়।
বরং মাছের আকৃতিতে তৈরি করা নৌকার পিঠে চড়ে।
মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছু পশ্চিমে হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখির (র.) মাজার শরীফ অবস্থিত। কথিত আছে, মাছের পিঠে আরোহন করে তিনি বরেন্দ্র ভূমিতে আসেন। তাই তাকে মাহী সওয়ার বলা হয়।

কথিত আছে, হজরত মীর বোরহান নামক একজন মুসলমান এখানে বাস করতেন। পুত্র মানত করে গরু কোরবানি দেয়ার অপরাধে রাজা পরশুরাম তার বলির আদেশ দেন এবং তাকে সাহায্য করতেই মাহী সওয়ারেরর আগমন ঘটে। গড়ের পশ্চিম অংশে রয়েছে ঐতিহাসিক কালীদহ সাগর এবং পদ্মাদেবীর বাসভবন। গড়ের পূর্বপাশে রয়েছে করতোয়া নদী এর তীরে ‘শীলাদেবীর ঘাট’। শীলাদেবী ছিলেন পরশুরামের বোন।

এখানে প্রতি বছর হিন্দুদের স্নান হয় এবং একদিনের একটি মেলা
বসে। এই ঘাটের পশ্চিমে জিউৎকুণ্ড নামে একটি বড় কূপ আছে। এই কূপের পানি পান করে পরশুরামের আহত সৈন্যরা সুস্থ হয়ে যেতো। মহাস্থানগড় খননের ফলে মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন যুগের অনেক দেবদেবীর মূর্তি পাওয়া গেছে। যা গড়ের উত্তরে অবস্থিত জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। মহাস্থান বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি বৌদ্ধ স্তম্ভ রয়েছে যা সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়। স্তম্ভের উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। এটি বেহুলার বাসর ঘর নামেই
বেশি পরিচিত।
ঢাকা থেকে মাত্র সাড়ে ৪ঘন্টায় পৌঁছানো যাবে । মহাস্থানগড়ে রাতযাপনের মতো ভালো কোনো হোটেল নেই। তাই থাকার জন্য বেছে নিতে পারেন বগুড়া শহরের হোটেলগুলো। সব ধরনের ও মানের থাকা-খাওয়ার জায়গা পাবেন এখানে। ২০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় রাতযাপনের ভালো ব্যবস্থা হয়ে যাবে। বেছে নিতে পারেন থ্রিস্টার হোটেল নাজ গার্ডেন, হোটেল সিয়াস্তা। এছাড়াও পর্যটন মোটেল ,
হোটেল সেফওয়ে, মিড় সিটি , আকবরিয়াসহ অারও নামিদামি অনেক হোটেল ।

এছাড়াও বগুড়ায় শহরে দেখার মতো রয়েছে , মোহাম্মদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম, ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক । বগুড়া শহর থেকে ২২ কিলোমিটার পূর্বে সারিয়াকান্দি উপজেলা । এ উপজেলার পূর্বে যমুনা নদী অার পশ্চিমে বাঙালি নদী অবস্থিত । এখানে রয়েছে প্রেম যমুনার ঘাট ও কালিতলা গ্রায়েন বাঁধ । ওখান থেকে ঘুরে অাসতে ভুলবেন না কিন্তু।

ঢাকা, ২৬ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর