[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম চান্সেই চাকরি পাওয়ার গল্প


প্রকাশিত: June 28, 2016 , 1:58 am | বিভাগ: ক্যারিয়ার এন্ড জবস


fuara-live

লাইভ প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফুয়ারা খাতুন। পরিবারের মধ্যে তিনিই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করার গৌরব অর্জন করেছেন। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চান্স পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েই বাজিমাত করেছেন। তিনি এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারি পরিচালক। চলুন তার মুখ থেকেই জেনে নেই সফলতার গল্প ::::>>>

ফুয়ারা খাতুন : দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চাকরি করব, দেশের ব্যাংকিং সেক্টর রেগুলেট করব, এটা ছিল এক ধরনের স্বপ্নের মতো। আমার জীবনের লক্ষ্যই ছিল হয় বিসিএস, না হয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চাকরি করব।

তাই বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যাংকের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষায় অংশও নিই। পরীক্ষার হলেতো রীতিমতো ঘাবড়ে যাই, এত কঠিন প্রশ্ন আমার জীবনে দেখিনি! কিন্তু মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরীক্ষা দিই এবং সফল হই। আমাদের সময়ে প্রিলি খুব কঠিন হয়েছিল। বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী প্রিলিতে ফেল করবে—এই চিন্তায় রিটেন ভালো করে দেয়নি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গেল ‘কাট মার্কস’ খুবই কম ধরা হয়েছে।

যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস ছিল, পারব। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ২৫-৩০ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে যদি মেধাতালিকায় থাকতে পারি, তাহলে চাকরির পরীক্ষায় কেন নয়! আত্মবিশ্বাসই আমাকে সাহায্য করেছে। এ ছাড়া আমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডিও খুব কাজে এসেছে। বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই কম্পিউটার ও ইংরেজি এই দুই বিষয়ে বেশ দুর্বল। এ ক্ষেত্রে বেশ সুবিধা পেয়েছি। আমার এসএসসি ও এইচএসসিতে কম্পিউটার বিষয় ছিল এবং ইংরেজিতে অনার্স মাস্টার্সে পড়াশোনা আমার ইংরেজির ভিত্তি আরো মজবুত করে দিয়েছে।

বিসিএস ও ব্যাংকের প্রিলি পরীক্ষার ধরন প্রায় একই রকম। তাই প্রিলির জন্য আমাকে আলাদাভাবে পড়াশোনা করতে হয়নি। নিয়মিত পত্রিকা পড়তাম, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো খাতায় নোট করে রাখতাম, যা রিটেনে ভালো কাজে দিয়েছে। রিটেনের ম্যাথের জন্য পূর্ববর্তী ব্যাংক পরীক্ষায় আসা ম্যাথগুলো সমাধান করেছি প্রফেসরসসহ বিভিন্ন গাইড বই থেকে। আর নবম-দশম শ্রেণির ম্যাথ বই থেকেও অংক করতাম।

ভাইভার জন্য অর্থনীতি, ব্যাংকিং প্রভৃতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলাম। নিজের পঠিত বিষয় সম্পর্কে খুঁটিনাটি জেনে গিয়েছিলাম। ক্লাস সেভেন থেকেই সাধারণ জ্ঞানের মাসিক পত্রিকা পড়তাম, অভ্যাসটা আমার এখনো আছে। এটা প্রস্তুতিতে খুব সাহায্য করেছে। এ ছাড়া নিয়মিত বিবিসি নিউজ শুনতাম। বাংলাদেশ ব্যাংকে যখন আবেদন করি তখন আমি মাস্টার্সের ছাত্রী। তবে পরীক্ষা হয়েছে মাস্টার্সের পর।

বাংলার জন্য নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ ও বোর্ড বই এবং ইংরেজির জন্য বোর্ড বইসহ বেশ কয়েকটি ভালো মানের ইংরেজি গ্রামার বই অনুসরণ করতাম। এই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিই চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। আত্মবিশ্বাস ছিল, তবে প্রথমবারেই যে পেয়ে যাব তা ভাবিনি। জীবনের প্রথম চাকরি পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। রেজাল্টের দিন এক বান্ধবীর বাসায় ছিলাম। সন্ধ্যায় হঠাৎ আরেক বান্ধবী ফোন করে বলে যে রেজাল্ট দিয়েছে। তখনতো টেনশনে হাত-পা অবশ হয়ে আসছিল। ওয়েবসাইটে গিয়ে যে রেজাল্ট দেখব এই শক্তিটুকু পাচ্ছিলাম না। পরে আমার বান্ধবীই রেজাল্ট দেখে দেয়। সেই দিনের স্মৃতি আসলে ভোলার নয়।

আমাদের পরিবারের মধ্যে আমিই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছিলাম। তাই আগে থেকেই আমার প্রতি আমার মা-বাবার অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন। আমি পড়াশোনা শেষে বড় একটা চাকরি করব এবং তাদের মুখ উজ্জ্বল করব। তাই এই চাকরি পাওয়ায় আমার চেয়ে আমার মা-বাবাই বেশি খুশি হয়েছিলেন। তাদের খুশি দেখে জীবনে বড় হওয়ার স্পৃহা আরো বেড়ে গেছে আমার।

ফুয়ারা খাতুন
সহকারি পরিচালক
বাংলাদেশ ব্যাংক

[কার্টেসি : কালেরকণ্ঠ]

ঢাকা, ২৮ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন