[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার হয়ে ওঠার গল্প শিশিরের


প্রকাশিত: July 1, 2016 , 2:04 pm | বিভাগ: ক্যারিয়ার এন্ড জবস


shisir

মাওলানা ভাসানি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোঃ আসাদুজ্জামান শিশির। ক্রিমিনোলজী এন্ড পুলিশ সাইন্স (সিপিএস) বিভাগের ১ম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন তিনি। বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাগমারা গ্রামে। জানালেন বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার হয়ে ওঠার গল্প।

আসাদুজ্জামান শিশির : বিসিএস এ সাফল্য লাভের জন্য আমার ক্ষেত্রে আমি বলব, সবার আগে স্বপ্ন দেখেতে হবে, খুব কঠিনভাবে স্বপ্ন দেখতে হবে। এবং স্বপ্ন পূরনের পথে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে। এরপর অসীম ধৈর্য নিয়ে লেগে থাকার মানুষিকতাও থাকতে হবে। সাময়িক ব্যর্থ হয়ে থেমে গেলে চলবে না। পিছনে অনেক ব্যর্থতার গ্লানি থাকলে স্বপ্নপূরনের ক্ষেত্রে ভাল শক্তি পাওয়া যায়। নিজের দূর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠার জন্য যথাসাধ্য অধ্যাবসায় করতে হবে।

ছোট বেলা থেকেই মানুষ আমাকে লেবেলিং করত বড় কিছু হিসেবে। স্কুল জীবনে দুইটা বৃত্তি পাওয়া, স্কুলে বারবার ফাস্র্ট বয় থাকা, এসএসসিতে তৎকালীন সময় অনুযায়ী ভাল রেজাল্ট করা অতপরঃ স্বনামখ্যাত নটরডেম কলেজে ভর্তি হওয়া, এসব কারণে।

আমাকে নিয়ে সবার উচ্চাকাক্ঙ্খার প্রেসার আমার উপর ভর করেছিল, কিন্তু নানা রকম ব্যর্থতার পথে আমাকে হাঁটতে হয়েছে অিনেকগুলো বছর।

যাই হোক। এইচএসসি পাশের পর ভর্তি হলাম মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজী এন্ড পুলিশ সাইন্স বিভাগে। তখন হতাশ ছিলাম কোন ভাল কিছু পড়তে না পেরে সিপিএস পড়তে বাধ্য হওয়ার কারণে। যাও একটু স্বপ্ন দেখতাম তাও বন্ধ হয়ে গেল সিপিএস এর পিতা শ্রদ্ধেয় ড. ইউসুফ শরীফ স্যারের মৃত্যুর সাথে সাথে।

তারপরও, সাদী স্যারসহ অন্যান্য স্যারদের ভালবাসায় আর দিকনির্দেশনায় অনার্স আর এম এস শেষ করলাম। হয়ে গেলাম ব্যাংকার। বড় কিছু হতে না পাড়ার দু:খ চিরস্থায়ী হয়ে গেল। কিন্তু দেখলাম একটা জিনিস, সিপিএস এ পড়ার কারনে পরীক্ষায় বানিয়ে বানিয়ে লিখতে গিয়ে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং এর অভ্যাসটা খুব ভালভাবে রপ্ত হয়ে গেছে। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় রিটেন দিতে পারলে আর ফেল করি না। সাব ইন্সপেক্টর এ হওয়া, ব্যাংকে হওয়া, ডিজিএফ আই সহ আরও কয়েকটিতে ভাইভা দেওয়া এসবই তার প্রমাণ। আর এই গুনটাই বিসিএস এ কাজে লাগল ভালভাবে। শুধু এ জন্যই আমার মনে হয় সিপিএস অনন্য। সিপিএস এর জন্যই আমার বিসিএস হওয়া।

ভাইভাতে ফার্স্ট চয়েস পুলিশ, সাবজেক্টও পুলিশ। ৯০% প্রশ্নও হল পুলিশ আর অপরাধ বিজ্ঞান থেকে। প্রশ্ন করতে করতে তারা হাপিয়ে গেল কিন্তু আমি সঠিক উত্তর দিয়েই যাচ্ছিলাম। অবশেষে তারা একজন বললেন, আপনিতো অনেক জানেন। কথাটা শুনে তখন না হাসলেও পরে হেসেছিলাম অনেক। একবার ভেবে দেখেন আমার সাবজেক্ট যদি সিপিএস না হতো তবে বোর্ডে আমার কি কি হতে পারত। স্যালুট সিপিএসকে। আমি বলব শুধু আমার সাবজেক্ট এর সাথে ক্যাডার চয়েস এর সুন্দর ম্যাচ হওয়ার কারণেই আমি ভাইভায় অনেক ভাল করতে পারছিলাম।

পরিশেষে, সকল ক্যাপশিয়ানদের জন্য রইল আমার অভিনন্দন। ক্যাপশিয়ান হওয়া লজ্জার নয়, গর্বের। সিপিএস এর মধ্যে কিছু একটা আছে। এই কিছু একটার জন্যই সাফল্যে হার অনেকের চেয়ে বেশি। একটাই স্লোগান হোক, জয়তু সিপিএস, জয়তু সিপিএস, জয়তু সিপিএস।

উল্লেখ্য, ৩৪ তম বিসিএস এর পুলিশ ক্যাডার প্রাপ্ত তিন জন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বাবদ্যালয়ের , এবং তারা ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সাইনস বিভাগের ছাত্র।

আসাদুজ্জামান শিশির
৩৪তম বিসিএস (পুলিশ)

ঢাকা, ০১ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন