[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



মার্কিন বন্ধুদের চোখে তিন শিক্ষার্থীর প্রোফাইল


প্রকাশিত: July 3, 2016 , 9:08 pm | বিভাগ: ন্যাশনাল


লাইভ প্রতিবেদক: গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ার হলি আর্টিজান বেকারিতে নির্মমতার শিকারের ঘটনায় দেশ বিদেশে তোলপাড় চলছে। মার্কিন শিক্ষার্থীদের বর্ণনায় নানান তথ্য এখন ইন্টারনেটে মিলছে।

 

নিহতদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন শিক্ষার্থীর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে সিএনএনসহ বিভিন্ন মিডিয়া। তারা হলেন— ফারাজ হোসেন, অবিন্তা কবির ও তারিশি জৈন। তাদের মধ্যে দুজনই বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় শিক্ষার্থী।
অবিন্তা কবির

ঢাকায় অবিন্তা আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আটলান্টার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ঢাকায় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। তার শৈশবের বন্ধু এমা লুইসা জ্যাকোবি সিএনএনকে বলেন, ‘সে বিশ্বের সম্পদ ছিল।’

জ্যাকোবি বলেন, ‘তার কাজের নীতি আমার কাছে সব সময়ই ছিল উদ্দীপনামূলক। তার ছিল অবিশ্বাস্য কর্মস্পৃহা, কাজের প্রতি ছিল অঙ্গীকারবদ্ধ এবং কারিকুলামের বাইরে বিভিন্ন বিষয়ে সে জড়িত ছিল। সবকিছুর ওপরে সে চমৎকার অ্যাথলেট ছিল। যা কিছুই অর্জন করেছে আমি বলব, সে তা নিজের চেষ্টায় আদায় করে নিয়েছে।’

অবিন্তার কলেজের সহপাঠী রুশে আমারাথ-মাদাভ বলেন, ‘আমার মনে আছে, একদিন আমি নাচের অনুশীলনে যাচ্ছিলাম এবং এ জন্য কালো লেগিংস খুব দরকার ছিল। আমারটা পরিষ্কার করতে দিয়েছিলাম। এ কারণে আমি তার দরজায় কড়া নাড়লাম, সে আমাকে তার লেগিংস দিল। যদিও আমরা সে রকম ঘনিষ্ঠ ছিলাম না।’

অবিন্তা থাকতেন ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে। সেখানকার গভর্নর রিক স্কট অবিন্তা স্মরণে রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও তার অঙ্গরাজ্যের পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

ফারাজ হোসেন

আটলান্টার কাছে অক্সফোর্ড কলেজের গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী ছিলেন ফারাজ। এমোরির গোইজুয়েটা বিজনেস স্কুলেও পড়তেন তিনি।

ফারাজের এক বন্ধু বলেন, তিনি ক্লাস প্রেসিডেন্ট এবং প্রম কিং (যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত সাম্মানিক পদ) নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আরেক বন্ধু রিফাত মুরসালিন বলেন, একটি স্কুল প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি ফারাজের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন।

মুরসালিন বলেন, ‘আমি যে প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিলাম, সেটা নিয়ে ফারাজ আমাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসে এবং সে সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় আমার। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সে কেমন মানুষ ছিল। সে সময় খুব সদয়, যত্নবান, উপকারী ছিল। আর খুব ঘুরতে পছন্দ করত।’

মুরসালিন বলেন, ‘আমাদের এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে, আমার দুই বাড়ি ঢাকা ও এমোরি ইউনিভার্সিটি— তার নির্মম বিদায়ে শোকভিভূত হয়ে পড়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এমোরি সম্প্রদায় এই নির্মম ও অর্থহীন ঘটনায় শোকগ্রস্ত।’

ফারাজের পুরো নাম ফারাজ আইয়াজ হোসেন। তিনি ট্রান্সকম গ্রুপের মালিক লতিফুর রহমানের নাতি।

তারিশি জৈন


ভারতীয় নাগরিক তারিশি বার্কেলেতে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থী ছিলেন। ঢাকায় ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডে ইন্টার্নশিপ শুরু করেছিলেন।

ঢাকায় তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়েছেন। তার বাবা এখানে পোশাক ব্যবসা করতেন।

ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের পরিচালক সঞ্চিতা সাক্সেনা বলেন, ‘তিনি ছিলেন স্মার্ট ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তার মন ছিল খুব বড়। তাঁর পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।’

শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় এথিক্যাল নামের পোশাক প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় বিভাগে কাজ করতেন তারিশি। তার সহকর্মী হানা নগুয়েন বলেন, ‘আমাদের সব দেখা-সাক্ষাতে মনে হয়েছে, সে সব সময় মানুষকে খুশি রাখত। তার হাসি ছিল সংক্রামক।’সে ছিল সদালাপি। বিনয়ী। মেধাবী ও স্মার্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে সে ছিল অন্যতম।

 

ঢাকা, ৩ জুলাই(ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এফআর