[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‌’অনলাইনে ছবি দেখে শনাক্ত করেছি রোহান আমার ছেলে’


প্রকাশিত: July 5, 2016 , 8:00 pm | বিভাগ: ইন্টারভিউ


pi33

লাইভ প্রতিবেদক : ছবি দেখেই মনটা ভেঙ্গে যায়। বুকচা থর থর করে কাপতে থাকে। মনে হলো দু’চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মাথাটা ঘুরে গেল। কান্না আর ক্ষোভে সইতে পারছিলাম না। এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় হামলাকারী রোহান ইবনে ইমতিয়াজের পিতা ইমতিয়াজ খান বাবুল। বললেন ছবি দেখেই শনাক্তের কাজ শেষ।

২০ জন বিদেশিসহ ২৮ জনকে হত্যা করে হামলাকারীরা। আক্রমণকারীদের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পরই ঢাকার ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ খান বাবুল প্রথম জানতে পারেন তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে তার ছেলে রোহান ইবনে ইমতিয়াজ। যে ছয় মাস আগে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শুক্রবার আমার বড় ভাই মারা যান। তার কুলখানি নিয়ে পারিবারিক কথাবার্তার মধ্যেই শনিবার আমাকে একজন ফোন করে জানালেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে আক্রমণের পর আইএসের ওয়েবসাইটে যে ছবি দেয়া হয়েছে তাতে আপনার ছেলের ছবি এসেছে।

বাবুল বলেন, এসব শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। দৌড়ে বাড়িতে এলাম। ফেসবুকে দেখলাম। কনফার্ম হলাম। পাঁচজনের যে ছবি দিয়েছে তাতে আমার ছেলের ছবি আছে।’ গুলশানে ক্যাফেতে আক্রমণের পরদিন সকালে চালানো সেনা অভিযানে আক্রমণকারীদের পাঁচজন নিহত হয়, একজন আহত অবস্থায় ধরা পড়ে।

তিনি বলেন,‘আমার ছেলে রোহান গত ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ থেকে নিখোঁজ। সে সময় আমি ও আমার স্ত্রী চিকিৎসার জন্য কলকাতায় ছিলাম। ত্রিশ তারিখ রাতে ওর দুই বোন একটি দাওয়াত থেকে ফিরে এসে দেখতে পায় রোহান বাড়িতে নেই। দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলে সে বললো, সন্ধ্যাবেলা কলেজে যাবার ব্যাগ নিয়ে সে বেরিয়ে গেছে। জিজ্ঞেস করাতে সে বলেছিল, ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছে।

এ খবর শোনার পর আমি এক তারিখ ঢাকা ফিরে আসি। আমার যত আত্মীয়স্বজন, ওর বন্ধুবান্ধবদের যে কয়েকজনকে চিনতাম তাদের কাছে খোঁজ-খবর নিলাম। ও কোথাও নেই। এরপর আমি থানায় একটা জিডি করলাম। তারপর আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলাম, কথা বললাম।

আইজিপি, র‌্যাব, যেখানে যত সোর্স আছে সবার সঙ্গে কথা বললাম, খুঁজলাম, ছবি দিলাম। কিন্তু ওর কোনো খোঁজই আমরা পাইনি। ও কোথায় গেছে কোনো তথ্য নেই, কোনো যোগাযোগ নেই। অনেক চেষ্টা করেছি, অনেক খুঁজেছি। ও আমার একমাত্র ছেলে। বাবা হিসেবে যা করার সবই চেষ্টা করেছি।

বাবুল বলেন,মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমি অন্তত চারবার গেছি। উনিও অনেক চেষ্টা করেছেন। কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওর পাসপোর্ট ছিল। কিন্তু তাতে কোনো দেশেরই ভিসা করা ছিল না। ওই পাসপোর্ট তার কাছেই ছিল। কিন্তু ওই পাসপোর্ট নিয়ে সে যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে- ইমিগ্রেশনকে বলে আমি সে ব্যবস্থাও করেছিলাম।’

কট্টরপন্থি ইসলামের দিকে যে রোহান ঝুঁকে পড়েছে- এমন কোনো সন্দেহ হয়েছিল কিনা সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। ওর নানার সঙ্গে মসজিদে যাওয়া শুরু করেছিল। কিন্তু অন্য ধরনের কোনো কিছু আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।

বাসায় কোনো বই-টই বা ওই জাতীয় কিছু কখনো ছিল না। আমাদের নজরে আসেনি। আমার ছেলে যখন এ লেভেলে- সে পর্যন্ত তার দিকে বেশি খেয়াল রাখতাম। কিন্তু ইউনিভার্সিটিতে ওঠার পর কি আর ওইভাবে খেয়াল রাখা যায়? তবে ওর রুমে আমরা মাঝে মধ্যে যেতাম, দেখতাম। কোনো কিছু নজরে পড়েনি।’

তাহলে কিভাবে এটা হলো? রোহানের বাবা বলছেন, তিনি ভেবে কোনো কূলকিনারা করতে পারছেন না। ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা খুবই হতভম্ব। এত দুঃখজনক, লজ্জাজনক একটা ঘটনা।

তিনি বলেন, কি বলবো। পুলিশের কর্মকর্তা শেখ মারুফ সাহেব ওর সন্ধান পাবার চেষ্টায় অনেক সাহায্য করেছিলেন। আর এ ঘটনায় তিনিই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এটা যে কত লজ্জাজনক, তা আমি বোঝাতে পারছি না। আমি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত। ওর মা টিচার। সে-ও ব্যস্ত থাকে। এ কারণে হয়তো হতে পারে আমরা নজর দিতে পারিনি। কিন্তু তখন তো তা বুঝিনি।

কারো সঙ্গে তার কোনো ঝগড়া কথাকাটাকাটি হয়নি। সে লেখাপড়া করছে, ভালো রেজাল্ট করছে, টিচাররা আমাদের কনগ্রাচুলেট করছে, আমরা ভাবছি সব ঠিকই আছে। বুঝতেই পারছি না কিভাবে কি হলো। তবে একটা কথা বলি। আমার ছেলের সন্ধান করতে গিয়ে আমি দেখতে পেলাম এরকম অনেক ছেলেই নিখোঁজ হয়ে আছে।

বাবুল বলেন, অনেক ভালো ভালো ছেলে। এডুকেটেড ফ্যামিলির ছেলে, অফিসারের ছেলে, সরকারি কর্মকর্তার ছেলে আজ নিখোঁজ। তারাও খুঁজে পাচ্ছে না। এরকম কয়েকজনকেই আমি চিনি। তাদের সঙ্গে আমি আমার কষ্টের কথা শেয়ার করতাম।’
তাহলে কেন কিভাবে এমনটা হলো?

‘আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। হয়তো ইন্টারনেট থেকে হতে পারে, কিন্তু আমি জানি না কিভাবে হয়েছে। অনুমান করতে পারি। ইন্টারনেট ছাড়া আর কিছু তো আমার মাথায় আসছে না। কিন্তু আমরা তো চোখে দেখিনি কিছু।’

ইমতিয়াজ খান বাবুল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রিড়া সম্পাদক। তিনি গত বছর অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন।

 

ঢাকা, ০৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// জেএইচ এন