[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



যেভাবে ব্রেনওয়াশ হয়ে যেতে পারে আপনার, সাবধান!


প্রকাশিত: July 6, 2016 , 3:06 pm | বিভাগ: আপডেট,ফিচার


brainwash

ব্রেনওয়াশ যেভাবে করা হয় তার মধ্যে একটি স্টেপ হল আইসোলেশন… যাকে ব্রেনওয়াশিং করার টার্গেট নেওয়া হয়, তাকে পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমাজ বা পরিচিত পরিবেশ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আলাদা করা হয়। এই সময়ে তার পূর্বের বিশ্বাস, চিন্তা চেতনাকে ফরম্যাট করে নতুন বিশ্বাস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

মোটিভেশন আর ব্রেনওয়াশিং দুটো আলাদা বিষয়… মোটিভেশনের জন্য নিজের ইচ্ছে থাকতে হয়… এরপর সেই ইচ্ছাকে অনুপ্রাণিত করাই হল মোটিভেশন। কোন কিছু করতে আগ্রহী, কিন্তু করার সাহস বা অনুপ্রেরণা নেই- এমন ব্যক্তিদের জন্য মোটিভেশন জিনিসটি ভাল কাজ করে।

কিন্তু ব্রেইনওয়াশিং করা হয় কারো নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে। অনাগ্রহী ব্যক্তিকেও আগ্রহী করে তোলা হল ব্রেইনওয়াশিং এর মূল উদ্দেশ্য।

ব্রেনওয়াশিং টার্মটি প্রথম আসে পঞ্চাশের দশকে কোরিয়া যুদ্ধের পর… যুদ্ধের সময় আমেরিকান কিছু সৈন্যকে চীনারা বন্দি করে। যুদ্ধের পর তাদের ছেড়ে দিলে দেখা যায়, অনেক আমেরিকান সৈন্যই চীনের কম্যুনিস্টপন্থী হয়ে গেছে। কারাগারে তাদের ব্রেনওয়াশ করে চীনের কম্যুনিজম বিশ্বাস ঢুকে দেওয়া হয়।

ব্রেনওয়াশিং করার আরো কিছু স্টেপ আছে, তার মধ্যে একটি হল মানসিক ও শারীরিক টর্চার… এটি করা হয় যাতে একজন মানুষ মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং যে ব্রেনওয়াশ করছে, তার উপর নির্ভরশীল হয়ে যায়।

মনের ভেতর কনফিউশন তৈরি করার জন্য কখনো কখনো একই কাজ করলে পুরষ্কার দেওয়া হয়, আবার কখনো সেই কাজেই শাস্তি দেওয়া হয়… ফলে তার মনে কনফিউশন তৈরি হয়ে যায় কোনটি সঠিক, কোনটি ভুল… সঠিক-ভুলের পার্থক্য না করতে পারায় সহজেই সে অন্যের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে।

ভালোবাসা ও সাপোর্ট ব্রেইনওয়াশিং এর আরেকটি পার্ট… এর ফলে যাকে ব্রেইনওয়াশ করা হয়, প্রথমে তার বিশ্বাস অর্জন করা হয়, এরপর মনের ভেতর জায়গা করে নেওয়া হয়।

টিম স্পিরিট তৈরি করার জন্য ও টিমের অন্যান্য মেম্বারদের মাঝে সুসম্পর্ক তৈরির জন্য একটি ড্রেস কোড মেনে চলা হয়… ব্রেইনওয়াশ চলাকালীন সময়ে সকলকে একই ধরণের ড্রেস পড়ানো হয়, যাতে স্বকীয়তা চলে গিয়ে দলীয় মনোভাব জেগে উঠে।

ব্রেইনওয়াশিং এর আরেকটি স্টেপের ভেতর পড়ে মনের ভেতর অপরাধবোধ জেগে তোলা… সমাজে তার একরকম দায়িত্ব কিন্তু পালন করে আসছে আরেকরকম দায়িত্ব- এর ফলে এতদিন সে যে ভুল বা পাপ করেছে, সেই বিষয়ে তাকে অনুতপ্ত করে তোলা হয়।

এরপরের স্টেপ হল ভয় দেখানো… তার ভুল বা পাপের ফলে কি তার কর্মফল হতে পারে, সে বিষয়ে ভয় দেখানো হয়। ফলে সে তখন অপরাধবোধ থেকে মুক্তির জন্য সবকিছু করতে রাজি হয়… এমনকি নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও!

গুলশান ঘটনায় দেখা গেছে, আক্রমণকারী সবাই ইংলিশ মিডিয়াম ব্যাকগ্রাউন্ড ও হাইক্লাস ফ্যামিলির… বয়সেও সবাই তরুণ… কয়েক মাস থেকেই তারা নিখোঁজও ছিল…

ঘটনা ঘটার পর পরই শুরু হয় কাঁদা ছুড়াছুড়ি… কে কাকে দোষ দিতে পারে শুরু হয় অসুস্থ প্রতিযোগিতা…

যেকোনো সমস্যা সমাধানের পূর্বশর্ত হল সমস্যাটিকে স্বীকার করে নেওয়া। অথচ কোন কিছু ঘটলে সেটাকে ধাপাচাপা দেওয়া কিংবা সেটা নিয়ে লুকোচুরি করা আমাদের জাতীয় অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। এটি খুবই খারাপ…

কিন্তু কি কারণে এরা এমন করল, কিভাবে তারা চেঞ্জ হয়ে গেল, কাদের সাথে তারা মিশেছে , তাদের কললিস্ট ট্র্যাকিং করে কাদের সাথে যোগাযোগ ছিল- এগুলো নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার কোন পদক্ষেপ কখনো নেই না আমরা।

কিছুদিন আগে আমেরিকার গে ক্লাবে যে ব্যক্তি আক্রমণ করল, এর জন্য প্রথমদিকে আইএসকে দোষ দেওয়া হল… কিন্তু তার ছোটবেলা থেকে শুরু করে সব তথ্য নিয়ে গবেষণা করে বের হয়ে আসল তার আসল মোটিভ কি ছিল… একসময় এটাও বের হয় সে নিজেই একজন গে ছিল।

আর সেই ঘটনা এদেশে ঘটলে, শুধু কাউকে দোষ দিয়েই শেষ হয়ে যেত। এই জন্যই তারা আমেরিকা, আর আমরা বাংলাদেশ।

এখন সময় এসেছে নতুন করে ভাবার… সমস্যাগুলোর মুলে ঢুকার… ক্রসফায়ার, জেল, গুলি এগুলো কোন স্থায়ী সমাধান নয়। শুধু নিরাপত্তাবাহিনী নয়, সাইকোলজিস্ট, কম্যুনিটি লিডার, সকল ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে একটি কম্বাইন্ড প্রক্রিয়ার মধ্যে এগিয়ে যেতে হবে…

ধর্মীয় শিক্ষাকে বাদ দিয়ে নয়, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবেই সকলের জন্য বাধ্যতামুলক ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত… প্রাইমারি থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার প্রত্যক ক্লাসে স্বস্ব ধর্মের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে একজন মানুষ তার ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান পায় এবং সবসময় ধর্মজ্ঞান চর্চার মধ্যে থাকতে পারে।

শুধু হিজাব পড়া বা নামাজ পড়া কিংবা বাচ্চার এরাবিয়ান নাম রাখাই ধর্ম পালন নয়… ধর্মকে বুঝতে হয়, জানতে হয়, অধ্যয়ন করতে হয়… দৈনন্দিন জীবনের প্রত্যেকটি কাজই ধর্মের অন্তর্ভূক্ত… পরিবার থেকে ধর্মশিক্ষা দেওয়ার প্রচলন তো প্রায় উঠে গেছে এখন। আর দেবেই বা কি করে? এখনকার পিতামাতারা নিজেরাইতো ধর্ম সম্পর্কে তেমন জানেনা।

এর ফলে সন্তানরাও ধর্মজ্ঞানহীনভাবে গড়ে উঠছে… আর এই সুযোগে তাদের ধর্মজ্ঞানহীন ফাঁকা ব্রেইনে অন্যরা এসে ভ্রান্তজ্ঞান ঢুকে দেওয়ার সুযোগ নিচ্ছে… এবং তারা সফলও হচ্ছে। যার প্রমাণ এই গুলশান অ্যাটাক…

কার্টেসি : Dr. Mehedi BCS (Health)

ঢাকা, ০৬ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন