[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



গোয়েন্দাদের হাতে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজের প্রোফাইল


প্রকাশিত: July 6, 2016 , 6:39 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,ক্রাইম এন্ড 'ল,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি


north-south-university
আজহার মাহমুদ : রাজধানীসহ দেশের অন্তত ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি চলছে। এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেশ কয়েকটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন ট্রাস্টি, শিক্ষক, শিক্ষার্থীর ওপর চলছে কড়া নজরদারি। তারা কি করছেন, তাদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেন, তাদের ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাউন্ট ও সম্ভাব্য ই-মেইল রয়েছে গোয়েন্দাদের টেবিলে। এসব তন্ন তন্ন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ ও হিজবুত তাহরীরসহ দেশীয় সংগঠনের পেজবুক পেজে কারা কারা লাইক দিয়েছলেন তারাও রয়েছে গোয়েন্দাদের নজরে।

সূত্র জানায়, এসব জঙ্গি অপশিক্ত রোধে সরকার সবধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই কড়াকড়ির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। বলা হয়েছে এদের নির্মূলের সব ধরনের উদ্যেগই নেয়া হচ্ছে । নজরদারির অংশ হিসেবে এ যাবত প্রায় ৬০ জনেরও বেশী সন্দেহ ভাজনদের নাম ঠিকানা ইমিগ্রেশনে দেয়া হয়েছে। নির্দেশ দেয়া আছে এরা যেন কোন ফাঁক ফোঁকরে দেশের বাইরে যেতে না  পারে।

সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন ইতোমধ্যে ১৪টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৯টি ইংলিশ মিডিয়াম কলেজ ও ৯টি সরকারি কলেজ ও ৩টি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ট্রাস্ট্রি ও মালিক পক্ষের সম্ভাব্য নামসহ সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজও চলছে বলে জানায় নির্ভরযোগ্য সূত্র।

সূত্র আরও জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়ার বনানী ও গুলশানে ৬টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধারের গতিবিধি সন্দেহজনক বলে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে। গোয়েন্দারা ওই প্রতিষ্ঠানের ওপর আগে থেকেই নজরদারি করে আসছেন।

অন্যদিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাখালি এলাকায় একটি, বনশ্রীর আশে পাশের আরেকটি ও বাড্ডার আরও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও রয়েছে তালিকায়। তবে দেশের স্বার্থে এখনই এসব প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা যাচ্ছেনা।

অভিজাত এলাকা বলে খ্যাত ধানমন্ডি, মিরপুর রোড ও মিরপুর, গাজিপুর, চট্রগ্রামের ২টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক, ট্রাস্ট্রি ও শিক্ষার্থীর নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের গতিবিধি ও যাবতীয় কর্মকান্ডের ব্যাপারে প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রাখছেন গোয়েন্দারা।

অন্যদিকে গুলশান, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা, উত্তরা, মিরপুর ও চট্রগ্রামের অন্তত ৯টি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এন্ড কলেজের ওপর রয়েছে কড়া নজরদারি। এর মধ্যে উত্তরার স্কলাসটিকা, তার্কিস হোপ, মাস্টার মাইন্ডের ২/৩ জন শিক্ষার্থীর নাম ইতোমধ্যে যুক্ত হয়েছে জঙ্গী তালিকায়। অন্য বেশ কয়েকটি স্কুলের ব্যাপারেও রয়েছে রেকি কার্যক্রম।

বেসরকারি আরও ৩টি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মালিক পক্ষের নাম ঠিকানা এবং তাদের অতীত ইতিহাস সংগ্রহ করা হচ্ছে। গােয়েন্দাদের ১৫/১৭টি ইউনিটের চৌকস সদস্যরা দিন রাত এই কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন পদস্থ একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

যে ভাবে রেকি হচ্ছে : সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সন্দেহভাজনদের যাবতীয় অতীত ইতিহাস অর্থাৎ কোথায় পড়াশোনা করেছেন, পড়াশোনাকালে কোন রাজনৈতিক সংগঠন করতেন কিনা, তাদের স্বজনদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত কোন জঙ্গী তৎপরতায় কেউ জড়িত ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তাদরে সম্ভাব্য এফবি আইডিতে কোন কোন পেজে লাইক আছে, টুইটার, হোয়ার্টস আপ, মেসেঞ্জার ও তাদের দেয়ালে কোন কোন ছবিতে ও লেখায় লাইক আছে তাও আমলে নিচ্ছে গোয়েন্দারা। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখানে উল্লেখ করা যায় নিহত জঙ্গী নিবরাস ইসলাম ১০টি টুইটার অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করতেন। তার মধ্যে একটি ছিল সামিউইটনেস। সেটি পরিচালনা করত আইএসের প্রচারক মেহেদি মাসরুর বিশ্বাস। গত বছর ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক পত্রিকা শার্লি এবদোর কার্যালয়ে জঙ্গি হামলার পরই গত বছরের জানুয়ারিতে টুইট করেন ব্রিটেনের কট্টরবাদী আনজেম চৌধুরী। নিবরাস পড়াশোনা করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আরেকজন নিহত জঙ্গি হলেন মীর সামেহ মুবাশ্বের। তিনিও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল স্কলাস্টিকায় পড়াশোনা করেছেন। ‘এ লেভেল’ পরীক্ষার আগে গত মার্চে নিখোঁজ হন বলে জানা যায পারিবারিক সূত্রে। নিখোঁজের বিষয়েও একটি জিডি করা হয়।

তাছাড়া নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টি ছিলেন হাসনাত করিম। জঙ্গি সংশ্লিস্টতার কারণে তাকে চকরিচ্যুত করা হয়। হাসনাতের পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে , হাসনাত করিম ২০ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। ইংল্যান্ডে প্রকৌশল পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এমবিএ করেন। তিনি দেড় বছর আগে দেশে ফিরে আসেন ।

তিনি ফ্রান্সের সমালোচক ছিলেন। সেটিতে লাইক দিয়েছিলেন নিবরাস। আন্দালিব আহমেদ নামে এক ব্যক্তির টুইট অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে তিনি মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন কারা এইসব আইএস, নিষিদ্ধ ও জঙ্গিদের পেজে লাইক দিয়েছেন। তাদের পক্ষে পজেটিভ ক্যাম্পেইন করেছেন। তাদের নাম ঠিকানাও যাচাই বাচাই চলছে।

এছাড়া গুলশান হামলাকারীদের অন্যতম হোতা রোহান ইমতিয়াজ। তিনি রাজধানীর স্কলাসটিকা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন মহাখালির ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার পিতা ইমতিয়াজ খান বাবুল। তিনি  ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের  যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক। একই সাথে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনিত ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থি ছিলেন। ইমতিয়াজ খান বাবুল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ সাইক্লিস্ট ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারিও বটে।

জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে আইজিপি একেএম শহীদুল হক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘ড্রাগ যেমন একটা সময়ে তরুণ সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতো, আজ তেমনইভাবে জঙ্গিবাদও তরুণদের নিয়ন্ত্রণ করছে।’

‘তাই সমাজের সকলের প্রতি আমাদের আহ্বান কখনো যদি জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট কিছু আপনাদের কাছে দৃশ্যমান হয়, সেক্ষেত্রে বিলম্ব না করে পুলিশকে জানান।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জঙ্গী ও নজরদারি প্রসঙ্গে বলেন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, জেএমবি ও আইএসের নামে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বোমাবাজী, মানুষ হত্যার নামে জেহাদ করে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ইসলাম ধর্মের কোথায় মানুষ হত্যা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে তা তিনি জানতে চান। তিনি আরও বলেন, এ দেশের মানুষ জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী নয়।

ঢাকা/এজে, ০৬ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন