[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাবিতে সূর্যাস্ত আইন, মুক্ত ক্যাম্পাসে বন্দি ছাত্রীরা!


প্রকাশিত: July 15, 2016 , 11:14 am | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


rajshahi-live

রাবি লাইভ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সূর্যাস্ত আইনের নামে ছাত্রীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সন্ধ্যা হলেই শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরতে হয়। এনিয়ে ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ছাত্রীদের মধ্যে যারা টিউশনি করান এবং সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত তারা রয়েছেন চরম বিপাকে। সন্ধ্যার পর হলে ফিরলেই শুনতে হয় নানা কথা। গেটের বাইরে ঘন্টার পর ঘন্টা তাদের দাড় করিয়ে রাখা হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এমন আইন করা হয়েছে। ছাত্রীরা সন্ধ্যার পর বাইরে থাকলে নানা সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এমন সময়ে তাদের নিরাপত্তা দেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না।

ছাত্রীরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তাগিদেই তাদের অনেক সশয় সন্ধ্যার পর হলের বাইরে থাকতে হয়। ডাইনিংয়ের খাবার পছন্দ না হলে, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের রিহর্সেল থাকলে, টিউশনি করালে, আত্মীয় স্বজনের বাসায় গেলে অনেক সময় তাদের হলে ফিরতে দেরি হয়। কিন্তু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মানতে নারাজ। ছাত্রীদের অভিযোগ সবসময় তাদের পরাধীনতার মধ্যে থাকতে হয়। সূর্যাস্ত আইনের কারণে প্রায় প্রতিদিনই তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

সর্বশেষ ১২ জুলাই মঙ্গলবার রাতে রাবি সংলগ্ন কাজলা বাজার থেকে রিকশাযোগে ক্যাম্পাসে ফিরার পথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হয়রানির শিকার হয়েছেন রহমতুন্নেছা হলের এক আবাসিক ছাত্রী। পথিমধ্যে খালেদা জিয়া হলের সামনে মো. রোকনুজ্জামান নামের এক সহকারী প্রক্টর ওই ছাত্রীকে থামিয়ে তার পরিচয়পত্রটি নিয়ে যান।

হলের ডাইনিং বন্ধ থাকায় পার্শ্ববর্তী বাজারে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলেন জানালে ছাত্রীটিকে শুনতে হয় নানা কথা। ওই ছাত্রীটি পরিচয়পত্রটি ফেরত চাইলে বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করতে বলেন ওই সহকারী প্রক্টর।

একই রাতে অন্তত ২০ জন ছাত্রীর পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাতেই তাদের অভিভাবকদের কাছে ফোন দিয়ে ‘মেয়েদের খোঁজ রাখার’ পরামর্শ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, সূর্যাস্ত আইনের নাম করে (সন্ধ্যার মধ্যেই মেয়েদের হলে ফেরার বিধান) পরিচয়পত্র নেয়ার পাশাপাশি ওই শিক্ষকের কাছ থেকে নানা কথাও শুনতে হয় তাদের। পরে বুধবার সকাল ১১টার দিকে ওই ছাত্রীরা প্রক্টর অফিসে গেলে তাদের পরিচয়পত্র দিয়ে দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, টিউশনি করিয়ে তাকে পড়াশোনার খরচ যোগাতে হয়। কিন্তু প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে টিউশনি করতে তার হিমশিম খেতে হচ্ছে।

একাধিক ছাত্রীর অভিযোগ সূর্যাস্ত আইনের নামে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। মুক্ত ক্যাম্পাসে তারা এভাবে বন্দি থাকতে চান না। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে চান তারা।

১৯৭৩-এর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী মেয়েদের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও রাবিতে সূর্যাস্ত আইন চালু রয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই মেয়েদের হলের প্রধান ফটকটি বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে হলে না ফিরলে ছাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এমনকি হল থেকে বের করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়। এতে হয়রানির শিকার হতে হয় রাবির পাঁচ হলের ছাত্রীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এমন আইন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় এজন্য কয়েকজন ছাত্রীর পরিচয়পত্র নেয়া হয়েছিল। বুধবার সকালে কাউন্সেলিং করে তাদেরকে সেটা ফিরিয়েও দেয়া হয়েছে।

রাবি ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, দেশের এই পরিস্থিতি ভালো নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। একারণে ছাত্রীদের হলগুলোতে ফেরার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

 

ঢাকা, ১৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন