[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ক্যাপটাগন বনাম পেন্টাগন


প্রকাশিত: July 17, 2016 , 7:06 pm | বিভাগ: গেস্ট কলাম


VC

প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান: জার্মান রাজনৈতিক তাত্ত্বিক হানাহ্ আরেন্ড ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ‘অন ভায়েলেন্স’বইয়ে রাজনৈতিক সহিংসতার পক্ষে দুটি যুক্তি দেখিয়েছেন। প্রথমত, চরম অন্যায় আচরণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে। দ্বিতীয়ত, এটা সেই মাত্রা পর্যন্ত যৌক্তিক, যা একটা রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

১/৭- এর গুলশান ঘটনায় যারা জড়িত তারা কেউ সরাসরি অন্যায় আচরণের শিকার ছিল বলে জানা যায়নি। যারা ঘটনার নেপথ্যে ছিল তাদের সামনে দ্বিতীয় কারণটিও সুস্পষ্ট ছিল কিনা সন্দেহ। তবে কেনো এই হিংস্রতা। এটা কি সত্যিই কোনো বিদ্রোহ নাকি পুরোটাই বিভ্রান্তি। কারণ যাদেরকে আমরা সমাজে সুবিধাবঞ্চিত বলি গুলশান হামলাকারীরা কেউ সে ধরনের পরিবার থেকে আসেনি, বরং একজন ছাড়া বাকি সবাই ছিল সুবিধাভোগী শ্রেণির সন্তান।

তরুণরা বিদ্রোহী হয় এটাই স্বাভাবিক। তবে বিদ্রোহ কোনো মৌলিক আবেগ নয়। আরোপিত প্রতিক্রিয়ামূলক সেকেন্ডারি আবেগ। পরিপার্শ্বিকতা, অন্যায় ও অসঙ্গতি দেখলেই কেবল মনে বিদ্রোহ জাগে। পেন্টাগন ও তার মিত্ররা আদি ইসরাইল সমস্যাসহ হালের ইরাক সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যাগুলো যেভাবে সৃষ্টি করেছে এবং যেভাবে এখন সমাধানের চেষ্টা করছে সেটাকে অসংখ্য মুসলিম তরুণ ‘ক্রুসেড’ বা ধর্মযুদ্ধ হিসেবে দেখে ‘জিহাদী’ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। গুলশান বা শোলাকিয়া আমাদের কাছে উদ্ঘাটিত করল তথাকথিত ‘জিহাদীরা’ আমাদের সমাজের বঞ্চনা, অতৃপ্তি, বৈষম্য, নিপীড়ন দ্বারা আবেগতাড়িত নয়।

আমাদের ছোট বেলায় ষাট ও সত্তর দশকে তরুণরা নিজের দেশের সামাজিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে যেমন দাঁড়িয়েছিল আজকের জঙ্গি তরুণরা কিন্তু তেমন কিছুর জন্য বিদ্রোহ করেনি। তারা ভিন্ন কিছুর জন্য বিদ্রোহ করেছে বা বিভ্রান্ত হয়েছে। পরিণতি শেষ পর্যন্ত কি হবে এবং তারা যা করছে এটাই সর্বোত্তম পন্থা কিনা তারা তা নিয়ে ভাবে না। যেমন ষাট সত্তর দশকের তরুণরা দেশের যাবতীয় সংকটের পিছনে পূঁজিবাদকে দায়ী করে তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ পতন কামনা করতো।

‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক’ ছাত্রজীবনে এই শ্লোগান আমরাও দিয়েছি। দেশে দেশে শোষণ বঞ্চনার জন্য পূঁজিবাদকে দায়মুক্তি এখনও দেইনি, তারপরও প্রথমবার যখন নিউইয়র্ক গেলাম ওয়াল স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে নিজের বোকামির জন্য লজ্জা পেয়েছি। অর্থাৎ যতো সহজে আমেরিকা নিপাত যাক বলেছিলাম বিষয়টা ততটা সহজ ছিল না। এখনও নেই। অন্তত এ বছর আমেরিকায় গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ‘টুইন’টাওয়ারের জায়গায় ১০২ তলার ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড অবজারভেটরি টাওয়ার’দেখে আমার বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয়েছে।

আমেরিকা বিরোধী স্লোগান আমাদের ছোট বেলায় যতটা রোমাঞ্চকর ছিল আজকের তরুণ যাদের আমরা জঙ্গি বলে জেনেছি, তাদের মধ্যেও একই রোমান্টিকতা কাজ করে। তাদের বিশ্বাস যেভাবেই হোক আমেরিকাকে পরাস্ত করে সারা বিশ্বে না হোক অঞ্চল বিশেষে হলেও ইসলামী খিলাফত (পলিটিক্যাল ইসলাম) কায়েম সম্ভব হবে।

ইসলামী খিলাফতের বিশ্বাসীরা ‘পিউরিটারিয়ান’ বা বিশুদ্ধবাদী। তাদের ইসলাম তাদের ভাষায় আদি অকৃত্রিম ইসলাম। ইসলামের জেনারিক ভার্সন নিয়ে তারা কাজ করতে চায়। ইসলামের শুধু জেনারিক সংস্করণ থাকবে বাকি সকল সংস্করণ ধ্বংস করতে হবে সেটা যে নামেই থাকুক না কেন- শিয়া, আহম্মদীয়া, কাদেয়ানী, কূর্দি, ইয়াজেদি ইত্যাদি।

ইসলামের একটাই মত থাকবে ভিন্ন মত থাকতে পারবে না। যার কারণে দেখা যাচ্ছে এই জিহাদীরা যে পরিমাণ মানুষ মেরেছে তাদের বেশির ভাগই মুসলমান, তাদের ভাষায় নন-জেনারিক, আদি ইসলাম থেকে বিচ্যুত। বিশুদ্ধবাদীরা জেনারিক নামে ইসলামের কথা বললেও টার্গেট গ্রুপের তরুণদের নিকট আকর্ষণীয় ব্র্যান্ড হিসেবে আইএসকেই সামনে নিয়ে এসেছে। আল কায়দাকে রানার আপের অবস্থান দিয়ে আইএস এখন বিশ্বে জঙ্গি ব্র্যান্ডের বাজার নেতা। পেন্টাগন ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং আকর্ষণীয় সেলভেজ ভ্যালুই (বেহেস্তে) আইএস কনসেপ্টের কোর বেনিফিট।

আইএস তাদের কোর বেনিফিট গুলোর আকর্ষণীয়তা দ্বারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার যুবককে প্রলুব্ধ করতে পেরেছে। ‘আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলাম, বেহেস্তে দেখা হবে’ লিখে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হচ্ছে যুবকরা, অনেকটাই সুইসাইড নোটের আদলে।

রোমাঞ্চকর আহবানে সাড়াদানকারী তরুণদের মগজ ধোলাই হয়ে গেছে। মগজধোলাইয়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্য বা ক্বওমী মাদ্রাসায় যাওয়ার দরকার নেই। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেও সেটা সম্ভব। কারণ আইএস বর্তমানে একটি স্থানীয় বিষয় না, এটা এখন একটি চেতনানাশক চেতনার নাম, একটি আদর্শিক অবস্থান এবং ব্র্যান্ড। বাজারের সকল ধর্মীয় ব্র্যান্ডকে জড়িয়ে এটা এখন বাজার নেতা।

অনেকে বলেন, জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই। আসলে জঙ্গিদের ধর্ম ছাড়া আর কিছুই নেই। মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬) তাঁর ‘সংস্কৃতির কথা’গ্রন্থে লিখেছিলেন : ‘ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত, মার্জিত লোকের ধর্ম।’

কালচার মানে উন্নততর জীবন সম্বন্ধে চেতনা – সৌন্দর্য, আনন্দ ও প্রেম সম্বন্ধে অবহতি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরে ঢাকার তমদ্দুন মজলিশ কালচার অর্থে তমদ্দুন চালু করতে চেয়েছিল। তমদ্দুন বলতে মদিনা শহরের শিক্ষিত লোকদের উন্নত রীতিনীতি ও আচার আচরণকে বোঝানো হতো।

ধর্ম হচ্ছে কোনো বৃহত্তর সংস্কৃতির একটি উপাদান মাত্র। আমরা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মত পার্থক্য নিয়ে যতটা মাতামাতি করি সংস্কৃতির সাংঘর্ষিকতা নিয়ে ততটা কথা বলি না। সংস্কৃতির অন্যতমবাহন হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা ব্যবস্থায় বহুধা বিভক্তি যেমন সাধারণ শিক্ষা, ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা এবং এগুলোর বহু বৈপরীত্য যা ধারা উপধারা নিয়ে প্রায়ই আমরা কথা বলি কিন্তু আমাদের সংস্কৃতির বহুমুখী বিভাজন নিয়ে তেমন আলোচনা করি না। বাংলা ভাষা, বাংলা নববর্ষ, রবীন্দ্রচর্চা, আমাদের নাচ, গান, নাটক, সিনেমা, যেগুলো বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ সেগুলোর ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশের ন্যাশনাল আইডি কার্ডধারীরা সবাই কি একমতপোষণ করি।

আমাদের পোশাক, অবয়ব, সাজসজ্জা, আচার-অনুষ্ঠান সবার কি এক রকম। আমি আঞ্চলিক বা আর্থিক শ্রেণির বৈসাদৃশ্যের কথা বলছি না। এমন কি আমরা যারা ঢাকা শহরে বসবাস করি তারা সবাই কি উপরোক্ত বিষয়গুলোতে কাছাকাছি অবস্থানে আছি। নারীদের অবস্থান এবং ভূমিকা নিয়ে আমরা কি সবাই একমত পোষণ করি। নারী নেতৃত্বের ব্যাপারে ধর্মীয় কিতাবে যা লেখা আছে, দীর্ঘদিন নারী নেতৃত্ব বিরাজমান থাকার পরও কি সবাই এ ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করেছে?

ধর্মীয় অনুশাসন মানার ক্ষেত্রে সবাই কি একই স্টাইল অনুসরণ করে। সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্য থাকবে- এটাই সংস্কৃতির সৌন্দর্য। ধর্মীয় জেনারিক পন্থীরা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় স্টাইলকে শ্রেষ্ঠ দাবি করে ক্ষান্ত হয়নি, তারা ধর্মীয় মনোলিথিক ধ্যানধারণা দিয়ে বৃহত্তর সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে ধ্বংস করতে উদ্যত, এমনকি চাপাতিহস্ত। আমাদের সময়ে নবম-দশম শ্রেণির ইসলামি শিক্ষা বইয়ে ৪০টি হাদিস পড়ানো হতো।

যে দুইটি হাদিস আমার মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছিল সেগুলোর সারমর্ম হচ্ছে : ‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্’, ‘বিদ্যা অর্জন করা সকল মুসলমান নরনারীর জন্য ফরজ… বিদ্যা অর্জনের জন্য সুদূর চীন দেশে যাও…।’ এখন ইউটিউবের বয়ানে হুজুররা (মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ ও মুফতি জসিমউদ্দীন রাহমানী) বলেছেন, এই দুইটি হাদিস নাকি ভূয়া, এমন কোন হাদিস নাকি নেই। প্রথম হাদিসটির অস্তিত্ব অস্বীকার করার তাৎপর্য হচ্ছে, মাতৃভূমি নয় খিলাফতের (আইএস) প্রতি আনুগত্যই ঈমানের অঙ্গ। আর অপরটি হচ্ছে বিজ্ঞান প্রযুক্তি নয় মধ্যযুগের মরু অঞ্চলের আরবি ও হিব্রুভাষা কেন্দ্রীক জ্ঞানই কেবল অর্জন করতে হবে বাকি সব বর্জনীয়।

এই দুটি হাদিসের অস্তিত্ব অস্বীকার করাতে পারলেই মগজধোলায়ের অর্ধেক কাজ শেষ। এতেই খিলাফত বা পলিটিক্যাল ইসলামের দিকে তরুণদের ধাবিত করা যাবে। আর সেলভেজ ভ্যালু বা বেহেস্তের বিষয়টি তো হাতে থাকছেই। যার কারণে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া জিন্স, টি-শার্ট পরা কথাকথিত আধুনিক সিলেবাসে ব্যয়বহুল শিক্ষায় সনদধারী বা মাঝ পথে সনদের মোহ ত্যাগকারী তরুণরা ছুটছে খিলাফতের দিকে। মগজ ধোলাইয়ের আগে তাদের অনেকে বেড়ে উঠেছিল, উল্লসিত সাংঘর্ষিক সংস্কৃতির বৈপরীত্যের মধ্যে, সহনশীল বৈচিত্র্যের মধ্যে নয়।

জঙ্গিবাদের সমস্যাটা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বর্তমানে প্রধান ইস্যু হলেও সমস্যাটি মোটেই বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সমস্যা নয়। এটা মূলত সামাজতাত্ত্বিক-সাংস্কৃতিক সমস্যা। এর সাথে মনস্তত্বও জড়িয়ে আছে। এর কোনো রাজনৈতিক সামাজিক সমাধান নেই। রাজনীতি দিয়ে নয় বরং সংস্কৃতি দিয়েই আমাদের এই সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থেকে সাংঘর্ষিক বৈপরীত্যগুলো কমিয়ে আনা না গেলে সমস্যার সমাধান হবে না। জঙ্গিবাদ একটি ফ্যাশন, লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘস্থায়ী একটি স্টাইলে হালে জনপ্রিয়তা পাওয়া একটি প্রবণতা।

হুজুগের (ফ্যাড) মতো এটা দ্রুত উঠে দ্রুত নেমে যাবে কিনা তা নির্ভর করবে নতুন একটি ফ্যাশন বা মতবাদের আগমনের উপর। এক সময় বামপন্থী হওয়া ফ্যাশন ছিল। আমাদের স্বাধীনতা উত্তর কালে এদেশের তরুণরা কিছু মুর্খলোকের প্ররোচনায় বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ফ্যাশনে গা ভাসিয়েছিল। হাজার হাজার মেধাবী তরুণ যোগ দিয়েছিল অবৈজ্ঞানিক মেজর জলিল ও আ স ম রবের দলে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েম করার জন্য। তারও আগ থেকেই গ্রামের অর্ধশিক্ষিত তরুণদের বিভ্রান্ত করেছিল।

একনায়কত্ব কায়েমের নামে গ্রামের অবস্থাপন্ন কৃষকদের হত্যার মধ্য দিয়ে মার্কসবাদ লেলিনবাদ কায়েমের স্লোগানধারী লাল পতাকাবাহীরা, যারা ছিল ধর্মবিরোধী। মার্কসবাদী লেলিনবাদীরা ধর্মকে ‘আফিমস্বরূপ’মনে করত বর্তমানে জঙ্গিদের সাথে মাকর্সবাদীদের পার্থক্য হচ্ছে জঙ্গিরা সত্যিসত্যি ধর্মকে অফিমস্বরূপ ব্যবহার করছে। অফিম মানুষের চেতনা নাশ করে শুনেছি। ছোট বেলায় আমার এক কবিরাজ জ্যাঠাকে দেখতাম সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে সবাইকে গালাগাল করেছেন।

তখন মা বলতেন তোর মুন্সি জ্যাঠা অফিম খেয়েছে, এখন ওই দিকে যাস না। এখন বোধ হয় অফিমের প্রতিক্রিয়া বদলে গেছে। এবার কোপেনহেগেন গেলে স্নেহভাজন ডাক্তার বিদ্যুৎ বরুয়া আমাকে ‘গ্রিন লাইট সিটি’দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে দেখলাম আর্মস্টারডেমে দেখা ‘রেডলাইট সিটির’কিছুই সেখানে নেই। সবাই চুপচাপ বসে মাদক খাচ্ছে বা নিচ্ছে।

দোকানীরা কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে অফিম মাজুয়ানা সহ বিভিন্ন্ মাদকের পরসা সাজিয়ে বসে আছে। পাঠক লক্ষ্য করবেন খিলাফতিরাও মুখ ঢাকার জন্য কালো কাপড় ব্যবহার করে। তবে গ্রিন লাইট সিটিতে অফিম খেয়ে কাউকে মুন্সি জ্যাঠার মত উত্তেজিত হতে দেখিনি। সবাই অর্ধচেতন অবস্থায় ঝিমাচ্ছিল।

গুলশান হত্যায় জড়িত জঙ্গিরা ক্যাপটাগন খেয়েছিল কিনা তা জানতে ভিসেরা পরীক্ষার কাজ চলছে। আগেই পত্রিকায় খবর এসেছিল আইএস যোদ্ধারা ক্যাপটাগন নামের একটি ওষুধ সেবন করে। এটাই আইএস ড্রাগ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ক্যাপটাগন খেলে অনেক দিন না ঘুমিয়ে থাকা যায়। স্বাভাবিক চেতনা বিলুপ্ত হওয়ায় একের পর এক খুন করতে পারে।

বিভ্রান্ত বিশ্বাসের অফিম আর নিউরো প্রযুক্তির ক্যাপটাগন এর প্রভাবে জঙ্গিরা হয়ে উঠেছে হিংস্র থেকে হিংস্রতর। তবে তারা জানে না এ দিয়ে তাদের লক্ষ্য কোনোদিনই অর্জন হবে না। যেমনটি পারেনি বিপ্লবের লাল পতাকা হাতে নিয়ে মাওবাদীরা সারা পৃথিবীতে বহু মানুষ হত্যা করেও হয়নি কম্যুনিস্ট বিশ্ব প্রতিষ্ঠা বা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তথা পেন্টাগনের পতন।

মার্কিনী ও তাদের মিত্রদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ক্ষোভ যথার্থ হলেও ক্যাপটাগন খেয়ে গুলশানে কিছু ইটালীয় ও জাপানী হত্যা করে কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না, কেবল মাতৃভূমির কিছু ক্ষতি সাধন হবে এ হামলার একমাত্র পাওনা। ‘মাতৃভূমিকে ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ’এটি সঠিক হাদিস নয় তা হয়ত চাক্ষুস করানো যাবে। ইউটিউবে হুজুরদের দাবির পক্ষে সাক্ষি হওয়া যাবে। এর বেশি কিছু হবে না। পেন্টাগন অনেক দূরেই অক্ষত থেকে যাবে।

লেখক: প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান, ভিসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।