[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



মেরিন ইঞ্জিনিয়ার যেভাবে জঙ্গিদের মিছিলে


প্রকাশিত: July 19, 2016 , 3:54 am | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,ন্যাশনাল


CTG story_Najibullah Ansari, facebook photo

মৃদুল ব্যানার্জি চট্রগ্রাম থেকে: ক্যাডেট কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। যেমন মেধাবী তেমনি বুদ্ধিমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্কলারশীপ নিয়ে পড়েছেন। হয়েছেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। একই সাথে নাম লিখিয়েছেন জঙ্গিদের মিছিলে। তাকে নিয়ে দেশ- বিদেশে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছেন তিনি। কোথায় আছে, কি করছে, নতুন কোন ষড়যন্ত্র করছে না তো? এমন সব কিছুই ভাবিয়ে তুলছে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের। তিনি এখন পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ানটেড। তার নাম নজিবুল্লা। পুরো নাম মো.নজিবুল্লাহ আনসারী।

 

তার পিতা নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত পেটি অফিসার। নাম তার রফিকুল্লাহ আনসারী। তিনি কান্না ভেজা কন্ঠে ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমার মেধাবী মুখটা আর বুঝি দেখা হবেনা। ওর ভাগ্যে কি আছে আমরা জানিনা। তিনি আরও বলেন, বাবা ওই ভ্রান্ত পথ ছেড়ে দে। ইসলাম শিখলে ভালভাবে শিখ। কিন্তু এই অন্যায় ও ধবংশের পথে কেন?

 

রফিকুল্লাহ আনসারী আরও জানান, বড় ছেলে নজিবুল্লাহর নম্বরে (০১৭২২৫২৩৩৪১) মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারা যায়নি। পহেলা জুলাই গুলশানের ঘটনার পর গণমাধ্যমে ছেলের ছবি দেখে হতাশ হন।
গুলশাল ও শোলাকিয়ার ট্রাজেডির পর বেশ কয়েকজন যুবকের জঙ্গি সম্পৃক্ততার তথ্য মেলার পর আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যে ১০ জনের তালিকা দিয়েছে, তাদের মধ্যে নজিবুল্লাহ আনসারী অন্যতম একজন। আজ থেকে দেড় বছর আগে ফেইসবুকে তার ভাইকে আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

নজিবুল্লার সঙ্গে যোগাযোগ নেই। কিন্তু থানায় কোন জিডি করেননি। কয়েক দিন আগে তার বাবা  রফিকুল্লাহ আনসারী ছেলের সন্ধান চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন।

 

চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ২৮ বছর বয়সী নৌ প্রকৌশলী নজিবুল্লাহ ফেইসবুক বার্তায় ‘আইএস, ইরাকে গেলাম’ বলে আর দেশে না ফেরার কথা লিখেছিলেন। ওই জিডিতে এসবই উল্লেখ করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, গত ১০ জুলাই নজিবুল্লাহর সন্ধান চেয়ে তার বাবা চট্টগ্রাম নাবিক কলোনির বাসিন্দা রফিকুল্লাহ আনসারী জিডি করেন। যার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই জাহেদুল্লাহ জামানকে।
নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত পেটি অফিসার রফিকুল্লাহ বলেন, “দেড় বছর ধরে নজিবুল্লাহর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নাই। বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত।” মন্তব্য করবো না। এদিকে নজিবুল্লাহর মা জিয়াসমীন বেগম নিজের সন্তানের ছবি গণমাধ্যমে দেখেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

nazibullah
কে ওই নজিবুল্লাহ
বাবার চাকরিসূত্রে চট্টগ্রামে বড় হওয়া নজিবুল্লাহর জন্ম ১৯৮৭ সালে। নগরীর হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি ও ২০০৭ সালে এইচএসসি পাশ করেন জিপিএ-৫ পেয়ে।
রফিকুল্লাহ তার জিডিতে লিখেছেন, এইচএসসি পাস করার পর তার ছেলে মালয়েশিয়া মেরিন একাডেমিতে পড়তে যান। সেখানে থাকার সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বৃত্তি’ নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে ২০১২ সালে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জাহাজে চাকরি নেয় নজিবুল্লাহ।

জাহাজে চাকরির কারণে নজিবুল্লাহর বিভিন্ন দেশে যাতায়াত ছিল উল্লেখ করে রফিকুল্লাহ জিডিতে বলেছেন, গত বছরের জানুয়ারি মাসে নাজিবুল্লাহ তার ভাইয়ের ফেইসবুকে এসএমএস করেছিল। এর পর থেকে আর কোন যোগাযোগ নেই।
ওসি আজাদ বলেন, নজিবুল্লাহর বাবা জানিয়েছেন ওই সময়ের পর থেকে তাদের মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না এবং তিনি জানতেনও না ছেলে কোথায় আছে। কিন্তু জিডি করেছেন দেরীতে।

“জিডিতে রফিকুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ছেলের পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করেন ও তার সন্ধান জানতে চান।” তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেন নজিবুল্লাহর সঙ্গে পরিবারের কোন যোগাযোগ নেই।

ওসি আরও বলেন,এবছরের ৮ জুলাই টেলিভিশনে ছেলে নিখোঁজের সংবাদ ও ছবি দেখার পর রফিকুল্লাহ নিকটজনদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন।

রফিকুল্লাহর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনাধরা গ্রামে হলেও চাকরির কারণে বাইরেই এতোদিন কেটেছে। অবসরের পরেও চট্টগ্রামেই থেকে গেছেন সপরিবারে।

তার এক আত্মীয় জানান, ২০০৮ সালের পর নজিবুল্লাহ গ্রামের বাড়িতে আসেনি। এর আগে যে কয়েকবার এসেছে তখন তাকে খুব একটা কথা বলতে দেখা যায়নি। এমনিতেই সে ছিল একটু শান্ত প্রকৃতির মানুষ।

চককীর্তি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার-এ আলমের দাবি, আনসারী পরিবার ও এলাকায় বসবাসরত তাদের নিকটাত্মীয়রা নির্দিষ্ট কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। তারা একবারেই সাধারণ মানুষ।

নজিবুল্লাহর ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) চৌধুরী জোবায়ের আহমেদ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, “ওই পরিবারের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের বা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই।” এরা এলাকায় নিরিহ ও শান্ত প্রকৃতির লোক।

গুলশানে নিহতদের মধ্যে তিন জন বেশ আগে থেকে পরিবারের কাছে নিখোঁজ থাকার তথ্য বের হওয়ার পর শোলাকিয়ায় পুলিশের উপর হামলায় জড়িত একজনও ঘরছাড়া ছিলেন বলে তার পরিবার জানিয়েছিল।

10 untreash

এর মধ্যে ১০ যুবকের সন্ধান চেয়ে তাদের প্রতি ফিরে আসার আহ্বান জানান অভিভাবকরা। তাদের আবেদন আমলে নিয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছে বলেও তথ্য মিলেছে।

এরপর র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, পরিবারের কাছে নিখোঁজ বেশ কয়েকজন যুবকের জঙ্গিবাদ-সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখন প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা তাদের ব্যাপারে বিভিন্নভাবে তদন্ত করছি। খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

 

 

ঢাকা, ১৯ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম