[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘কয়েক মিনিটের জন্য মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি’


প্রকাশিত: July 19, 2016 , 10:05 pm | বিভাগ: ইন্টারভিউ


 

 

ইন্টারন্যাশনাল লাইভ: অল্পের জন্যেই রক্ষা পেলাম। আমার মৃত্যুর সব কিছুই যেন প্রস্তুত ছিল। আমি নতুন জীবন পেয়েছি। বেঁচে থাকার এ যেন এক নতুন অভিজ্ঞতা। নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পাওয়া। এভাবেই এরদোগান তার অভিজ্ঞতার বর্ননা দিলেন।
বললেন, মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো দেয়া এক সাক্ষাতকারে এসব বলেছেন তিনি। সোমবার তার এ সাক্ষাতকার নেন সিএনএনের সাংবাদিক বেকি এন্ডারসন।
এ সময় এরদোগান বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তার সরকার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনকে ফেরত দেয়ার জন্য লিখিত আবেদন জানাবে। তিনি বলেন, তুরস্কের দক্ষিণে উপকূলীয় শহর মারমারিসে তিনি অবকাশ যাপন করতে গিয়েছিলেন। সেখানেও অভ্যুত্থানকারীরা পৌঁছে গিয়েছিল। তাদের হাত থেকে মাত্র কয়েক মিনিট আগে তিনি পালিয়েছেন।
এতে মৃত্যুর হাত থেকে তার রক্ষা মিলেছে। তিনি বলেছেন, যে অবকাশযাপন কেন্দ্রে তিনি ছিলেন শনিবার খুব ভোরে সেখানে হামলা চালায় অভ্যুত্থানকারীরা। তাদের হাতে তার দু’জন দেহরক্ষীর মৃত্যু হয়। এরদোগানের ভাষায়, আমি যদি সেখানে আর মাত্র ১০ থেকে ১৫টি মিনিট বেশি অপেক্ষা করতাম তাহলে আমাকে হত্যা করা হতো অথবা আমাকে নিয়ে যাওয়া হতো। অভ্যুত্থানের রাত সম্পর্কে তিনি বলেন, ইস্তাম্বুলে আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিল অভ্যুত্থানকারীরা।
তারা বিমান বন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারও তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। এরপরই সরকারের সমর্থক সেনারা তা দখলমুক্ত করতে সক্ষম হন। তিনি জানান, তার বিমান যখন এ বিমানবন্দরে অবতরণ করে তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার ১০ হাজার সমর্থক। ইনসারলিক সহ সব সামরিক ঘাটিতে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ব্যর্থ অভ্যুত্থানকারীদের কি মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে এ বিষয়েও কথা বলেন তিনি। জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়টি নির্ধারণ করবে দেশের পার্লামেন্ট।
যদি পার্লামেন্ট মৃত্যুদন্ড পুনর্বহাল করার পক্ষে রায় দেয় তাহলে তা আইনে পরিণত করার জন্য তিনি স্বাক্ষর করবেন। তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থান চেষ্টা স্পষ্টত রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তাই এখন পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেনবে কি সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেয়া যায়। এ বিষয়ে তারা সবাই বলে আলোচনা করবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন।
আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করবো। উল্লেখ্য, তুরস্ক ২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার জন্য শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড বাতিল করে। সবশেষ সেখানে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় ১৯৮৪ সালে। এর এক বছর আগে সেখানে অবাধ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৮০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর বেসামরিক শাসনে ফিরে আসে তুরস্ক।
তুরস্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার পর কোন মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় নি সেখানে। কারণ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার পূর্বশর্ত এটা। ফলে সেখানে প্রায় ৫০০ মৃত্যুদন্ডকে লঘু করে ১০ বছরের সাজায় পরিণত করা হয়েছে। এখন যদি নতুন করে মৃত্যুদন্ড পুনর্বহাল করা হয় তাহলে তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য পদ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে সতর্ক করেছে ই্উরোপীয় ইউনিয়ন।

 

 

ঢাকা, ১৯ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম