[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সমাজে যে আলো ছড়াতে চান আবদুল আউয়াল


প্রকাশিত: July 20, 2016 , 5:38 pm | বিভাগ: কলেজ,ফিচার,রংপুরের ক্যাম্পাস


 abdul awwal

কুড়িগ্রাম,ফুলবাড়ী লাইভ:|আবদুল আউয়াল। প্রতিবন্ধি হয়েই জন্ম। গরীব। দু:খী ও অসহায়ত্ব তাকে আষ্টে পৃষ্টে রেখেছে। তবুও পথ চলা। থেমে নেই জীবন। কোন ভাবে দুবেলা খাবার জুটে। টানাপোড়েনের সংসার। যা বাবার আয় হয় তা থেকেই জীবন চলে কোন রকমে। বর্তমানে তিনি ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের বিএম শাখার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
আউয়াল এক অসহায় রিকশাচালক ইসমাইল হোসেনের ছেলে। ফুলবাড়ী উপজেলা সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা তাদের গ্রাম। তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। ছোট বোন আর্জিনা খাতুন (১২) শাহবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। সব ছোট বোন মর্জিনা খাতুন (৬), সে চন্দ্রখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়ে।
তার বাবা-মা-ভাই-বোনসহ পাঁচ সদস্যের সংসার। তাদের বাবাই একমাত্র রিকশা চালিয়ে যে রোজগার করে। তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে। আউয়ালের বাবার খুব ইচ্ছা ছিল তার প্রতিবন্ধী ছেলে পড়াশুনা করে ভালো একটা চাকরি করে সুখের জীবন-যাপন করবে।
তাই আমি গরিব বাবা হয়ে, আমার একমাত্র ছেলেকে অতিকষ্টে পড়ালেখা খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবন্ধী আবদুল আউয়াল ক্যাম্পাসলাইভকে জানান আমার বাবার আবাদি কোনো জমিজমা নেই। শুধু ৫ শতক বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই বাবার। বাবার একার আয়ে আমরা তিন ভাই বোন পড়াশুনা করছি।
পড়াশুনা করতে অনেক খরচ লাগে।একদিকে আমাদের পড়ার খরচ অন্যদিকে পরিবারের পাঁচজন সদস্যের মুখে তিন বেলা খাবার তুলে দেয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ছোট বোন দুইটিসহ আমার পড়াশুনার খরচের পাশাপাশি সংসারের খরচ চালাতে এক পায়ে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কষ্ট করে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে দোকানদারের কাছে ভিক্ষা করে জীবন-যাপন করছি।
আউয়াল ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের বিএম শাখার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
প্রতিদিন কলেজে ঠিকঠাক মতো ক্লাস করে। কলেজ ছুটির পর বাড়িতে গিয়ে একমুট কোনো রকমে খেয়ে বেরিয়ে পড়ে ভিক্ষা করতে। সে বালারহাট বাজার, খরিবাড়ী বাজার, গংগাহাট বাজার , ফুলবাড়ী সদর সহ বিভিন্ন বাজারে ভিক্ষা করে। এতে আউয়াল প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০ টাকা ভিক্ষা করে।
প্রতিবন্ধী আউয়ালের একটা স্বপ্ন। পড়ালেখা করে ভালো একটা চাকরি করে তার বাবা-মা বোনদেরকে নিয়ে সচ্ছল ভাবে জীবন-যাপন করবে।ছোট বোন দুইটির পড়াশুনা করিয়ে ভালো ঘরে বিয়ে দিবে।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মইনুল হক ক্যাম্পাসলাইভকে জানান আউয়াল অত্যন্ত গরিব ঘরের সন্তান। সে প্রতিবন্ধী হয়েও সমাজে আলোর পথে নিবেদিত। সে দশ বাড়ি ভিক্ষাবৃত্তি করে পড়াশুনার খরচ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এবারে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

 

ঢাকা, ২০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম