[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



অভিজাত পরিবারের ছাত্র তেহজিবের জঙ্গি কানেকশন!


প্রকাশিত: July 22, 2016 , 1:08 am | বিভাগ: আদার ইন্সটিটিউট,এক্সক্লুসিভ


tehzeeb missing

আজহার মাহমুদ : তিনি ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র। পড়েছেন ঢাকার অভিজাত স্কুল স্কলাসটিকায়। বয়স বত্রিশ/তেত্রিশ। চলাফেরায় ছিল আভিজাত্য। সংস্কৃতিমনা আর আধুনিক ধ্যাণ ধারণায় বেড়ে উঠা মানুষ। প্রেম করেই তার ক্লাস মেটকে বিয়ে করেন। গড়ে তোলেন নতুন সংসার। অর্থ বিত্ত, প্রভাব প্রতিপত্তিতে ঘাটতি ছিলনা তার। ওই তরুণের নাম তেহজিব করিম। তিনি এখন পুলিশ ও গোয়েন্দাদের খাতায় ওয়ানটেড।

তাকে পেলে জানা যাবে জঙ্গি কানেকশনের চাঞ্চল্যকর তথ্য, রোডম্যাপ, বিদেশে পাড়ি জমানোর ইতিহাস।
তেহজিবের বড় ভাইকে ২০১১ সালে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয় বৃটিশ একটি আদালত। তিনি বৃটিশ এয়ারওয়েজের কর্মী ছিলেন। এদিকে তেহজিব এখন নিখোঁজ। কেন নিখোঁজ, কি কারণে নিখোঁজ, কার সঙ্গে হারিয়ে গেছে, সে কী কোন জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত? এমন সব প্রশ্ন এখন গোয়েন্দাদের মুখে মুখে। আলোচনা চলছে তেহজিবের পরিবার, স্বজন ও তাদের গ্রিণরোড এলাকাতেও।

পুলিশ বলছে তেহজিবকে পেলে জঙ্গিদের একটা রোডম্যাপ উদ্ধার করা যাবে। সে পাকিস্তান ও ইয়েমেন গিয়েছিল ওই প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে। সংশ্লিস্ট একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তেহজিবের সঙ্গে দেশি-বিদেশী জঙ্গি চক্রের যোগসাজস থাকতে পারে। কারণ তার গতিবিধিও রহস্যজনক ছিল।
tahzeeb & rezaul
তেহজিব করিম তার বড় ভাই রাজিব করিমের অনুসারি বলে পুলিশের ধারণা। এছাড়া ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজিব যখন বৃটেনে গ্রেফতার হন, সে সময় ইয়েমেনে ছিলেন তেহজিব। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে গোয়েন্দাদের। তারা ইতোমধ্যে তার বন্ধু ও পরিচিতদের ব্যাপারেও তদন্ত শুরু করেছে।

গত কয়েক দিনে তেহজিবদের গ্রিণরোডের ১৪৯ নম্বরে ‘স্বপ্নীল’ নামের বাড়িটিতে পুলিশ ও গোয়েন্দারা কয়েকদফায় যোগাযোগ করেছে।

সূত্র জানায়, তেহজিবের বাবা ও তার পরিজনদের ওপরও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাদের বাসায় কারা আসছেন, কাদের বাসায় তারা আসা যাওয়া করেন, তেহজিবের শ্বশুর বাড়িতেও মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

তেহজিবের বাবা জয়নুল করিম ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, থাইল্যান্ডের ইন্টারন্যাশনাল হাউস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ডেল্টা টিচিং (ইংরেজি শিক্ষা বিষয়ক) কোর্সের জন্য তেহজীব গত ১৩ মার্চ ব্যাংকক যান।

razib karin uk
সূত্র জানায়, ১৭ মে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন তিনি। এরপর মোবাইলে গাড়িচালকের সঙ্গে কথা হলেও পরে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ প্রথমে জিডি নিতে চায়নি। অনেক অনুরোধের পর জিডি নিয়েছিলেন বলে জানান তেহজিবের বাবা।

তেহজিবরা তিন ভাই, বড় ভাই আতিক করিম ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর লন্ডনের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ‘দুর্ঘটনায়’ মারা যান। তার সঙ্গে ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের একমাত্র মেয়ে শামায়লা রহমানেরও মৃত্যু হয়।

ওই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সে সময় সারা দেশে তোলপাড় হয। মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণও জানা যায়নি। পুরো ঘটনাটি ছিল রহস্যেঘেরা।

পুলিশ জানায়, র‌্যাব মঙ্গলবার নিখোঁজ ২৬১ জনের যে তালিকা দিয়েছে তাতে ২৪ নম্বরে তেহজিবের নাম রয়েছে।

ওই তালিকায় ছেলের নাম দেখে জয়নুল করিম বলেন, “তারা যে তালিকা দিয়েছে সে অনুযায়ী নিখোঁজ সবার পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হোক। অবিলম্বে তাদের সকলকে খুঁজে বের করা হোক।”

তেহজিব বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে আছে- এমন সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তার কোনো দোষ যদি থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে আমার বিশ্বাস সে খারাপ কাজে জড়িত থাকতে পারে না।”

জয়নুল করিম বলেন, তার মেজ ছেলে রাজিব যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সঙ্গে একবার ঢাকায় ব্রিটিশ দূতাবাসে গিয়েছিল তেহজিব। “বড় ভাইয়ের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে।”

তিনি আরো জানান, ঢাকার স্কলাসটিকা থেকে ‘এ লেভেল’ শেষ করে ইংরেজি ছাড়াও হিন্দি ভাষা জানত তেহজিব। সে স্কলাসটিকার শিক্ষার্থী ও তার ক্লাসমেট সীরাহ রশীদকে বিয়ে করেন। আমরা সব কিছুই মেনে নিয়েছিলাম। একবার আমাকে না জানিয়ে কয়েক মাসের জন্য পাকিস্তান যায়। পরে তার স্ত্রীকে নিয়ে ইয়েমেন ঘুরে আসে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, তেহজিব সেখানে শিক্ষকতার জন্য ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ইয়েমেনে যায়। পরের বছর ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসে। এরমধ্যে তেহজিব সেখানে আট মাস কারাগারে বন্দি ছিল।

ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং সেখানকার বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের মুখোমুখি হয়ে ওই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয় তেহজিব। সে সময় দেশটিতে আরও অনেক বিদেশি নাগরিক আটক হন। এরপর সেখানে ‘নির্দোষ প্রমাণিত হলে’ তেহজিব দেশে ফেরেন বলে তার বাবার দাবি।

 

সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, তার মেঝ ভাই রাজিব করিম বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কারাগারে। ২০১১ সালে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির একটি আদালত। ইয়েমেনের উগ্রপন্থি মুসলিম নেতা আনওয়ার আল আওলাকির ‘ভক্ত’ রাজিব যুক্তরাষ্ট্রগামী একটি উড়োজাহাজে বোমা ফাটিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে মামলায় বলা হয়েছিল। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজিব যখন গ্রেফতার হন, সে সময় ইয়েমেনে ছিলেন তার ছোট ভাই তেহজিব।

telegraph-live

সূত্র জানায়, রাজিব-তেহজিবের বাবা জয়নুল করিমের পৈত্রিক বাড়ি ঢাকার গ্রিণরোডে। এক সময় গার্মেন্টসহ কয়েকটি ব্যবসা চালালেও এখন তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন।

জয়নুল করিম জানান, এক সময় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও কোনো পদে ছিলেন না তিনি। ১৯৯০ সালে সুনামগঞ্জ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান। এরপর থেকে তিনি দলীয় কোনো কর্মসূচিতে যোগ দেননি ও রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান।

জয়নুল করিম বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও কোনো সনদ নিইনি। ভারতের মেলাঘরে খালেদ মোশাররফের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। সেখানে অ্যাডজুটেন্ট ছিলেন এখনকার বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ছোটভাই বাদল খান। ওখানে ছাত্র ইউনিয়নের সবাই ছিলেন।

তিনি বলেন, আমরা ছাত্র ইউনিয়নের মতিয়া চৌধুরীপন্থি অংশের সমর্থক ছিলাম। পরে ওই পক্ষের লোকেরা আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও আমি দিইনি।

 

 

ঢাকা, ২২ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম