[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাজধানীর ১৯ থানায় শিক্ষার্থীদের ৪৭৫ মেস গোয়েন্দা নজরদারিতে


প্রকাশিত: July 22, 2016 , 1:56 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ


Dhaka

আজহার মাহমুদ : এবার নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে শিক্ষার্থীদের মেস। রাজধানীর প্রতি থানার সন্দেহভাজন ২৫টি করে মেসের তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। নজর রাখা হচ্ছে এসব মেসে কারা যাতায়াত করেন। কখন আসেন কখন বেরিয়ে যায় এসবও থাকছে সাদা পোষাকধারীদের নজরে। সন্দেহভাজন আগন্তুককে জিজ্ঞাবাদও করা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এসব তথ্য জানা গেছে দায়িত্বশীল পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সূত্রে।
ওই তালিকার মধ্যে যে সব মেসে বিভিন্ন কলেজ, সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকেন সেই মেসই বেশী টার্গেট। পুলিশ ও গোয়েন্দারা এসব বাড়ির মালিক ও মালিকের ছেলে কিংবা তাদের আত্মীয় স্বজনদেরও খোজঁ খবর রাখছে। এসব মেসের মালিক বা বাড়ি ওয়ালার কাছ থেকে ইতোমধ্যে এসব মেসের বর্ডারদের নাম ঠিকানা ও পেশা সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আত্মীয় স্বজনদের সেল ফোনও সংগ্রহ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর গুলশান, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, উত্তরা ও আশেপাশের থানা, মিরপুর, পল্লবী, রূপনগর, শাহআলী, কল্যাণপুর ও আশে পাশের থানা, মোহাম্মাদপুর, ধানমন্ডি, নীলক্ষেত, শাহবাগ ও আশেপাশের থানা, লালবাগ ও আশেপাশের থানা, ওয়ারী, কতোয়ালী, সূত্রাপুর ও আশেপাশের থানা, ডেমরা,শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ি, সবুজবাগ, খিলগাওঁ, রামপুরা, মতিঝিল, পল্টন, রমনা ও তেজগাঁ এবং এর আশে পাশের থানাগুলোকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা।

যে তথ্য নিচ্ছে গোয়েন্দরা :

সংশ্লিস্ট একাধিক সূত্র জানায়, পুলিশ ও গোয়েন্দারা সংশ্লিস্ট মেসের বর্ডার, তার গ্রামের বাড়ি, পিতা, মাতা, ভাই, বোন ও সম্ভাব্য আত্মীয় স্বজনদের নামা ঠিকানা সংগ্রহ করেছে। কে কোন প্রতিষ্টানের পড়াশুনা করেন, কোন বর্ষে পড়েন, তাদের সম্ভাব্য বন্ধু বান্ধবদেরও ঠিকানা রাখা হচ্ছে তালিকায়। ওই মেসরে বর্ডাররা কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে কাজ করছে কি না, কতোদিন ওই মেসে অবস্থান করছে, তাদের মেসে কে কে নামাজ পড়েন, কতজন অন্যান্য ধর্মের অনুসারী এসবও সংগ্রহ করার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, নজরদারির মধ্যে রয়েছে মেসের বাসিন্দারা কোন কোন এলাকায়, কোন কোন সময় চলাফেরা করেন। তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে কোন শিক্ষার্থী কতবার আসেন। তাদের হাতে কোন বই বা অন্যান্য সমগ্রী হাতে থাকে কিনা এসবই মনিটরিং করা হচ্ছে। মোহাম্মাদপুর এলাকার বেশ কয়েকটি মেসের বর্ডার ক্যাম্পাসলাইভকে নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে জানান, তাদের মেসে পুলিশ মাঝে মধ্যেই অভিযান চালায়। জানতে চায় সেখানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী আছে কিনা। এছাড়া বনানী ও গুলশানের আরও ২/৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরও সন্ধান চায় পুলিশ।
যে সব থানায় বেশী নজরদারি :
অপর একটি সূত্র জানায়, রাজধানীর সাবেক ১৯টি থানায় পুলিশের প্রায় ৪৫টি বিশেষ টিম রাত দিন কাজ করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রমনা, গুলশান, বাডা, উত্তরা, মিরপুর, লালবাগ, মোহাম্মাদপুর, তেজগাওঁ, রামপুরা, ধানমন্ডি, ডেমরা, যাত্রবাড়ি, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, কোতয়ালীসহ এই থানা এলাকা সব চাইতে বেশী টার্গেট। ভিআইপি, ভিভিআইপিরা এসব এলাকায় থাকেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কেপিআইসহ নানান ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এসব থানায়।
একারণে এই থানাকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকার সিসি ক্যামেরাকে সব সময় ওপেন রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি সিসি ক্যামরার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার প্রতি রয়েছে বিশেষ তাগিদ।

সন্দেহভাজন বিভিন্ন যানবাহন বিশেষ করে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের প্রতি গোয়েন্দারে রয়েছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সুমন নামের (ছদ্মনাম) একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, তাদের মেসে একদল পুলিশও গোয়েন্দা গত ২দিন যাবত একবার করে আসেন। তারা জানতে চান ২/৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা। সেসব প্রতিষ্ঠানে কারো বন্ধু আছে কি না তাও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। নানান প্রশ্নবানে জর্জরিত আমরা। কিন্তু করার কিছু নেই। আমরা কলেজ ও মেডিকেলের ছাত্র তাই বেঁচে গেলাম।
বাড্ডা এলাকার শিক্ষার্থী কাজল ঘোষ ক্যাম্পাসলাইভকে জানালেন, হিন্দু হওয়ায় বেঁচে গেলাম। আমাদের বাসাটির ৩/৪সি ফ্লোরে ছাত্ররা থাকেন। ২/৩দিন পর পর আমাদের কাছে পুলিশ আসে। তারা বিভিন্ন প্রশ্ন করে। নানান কিছু জানতে চান। পুলিশ যখন তখন আসে। কিছু বলার নেই। আমরা পুলিশকে যতোদুর সম্ভব সহায়তা করি।

নজরদারি ও জঙ্গি প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, রাজধানীর মানুষ শান্তিতে রাখতে যা করার তাই করবো। তিনি বলেন, হাতেগুনা কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মুষ্টিমেয় কয়েকজন বিপথগামী শিক্ষার্থীর জন্যে সকলকে কষ্ট করতে হচ্ছে। কমিশনার আরো বলেন, সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি একটা রুটিন কাজ। আমরা সকল সন্দেহভজনদের মনিটরিং করছি। জঙ্গি তৎপরতায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 

 

ঢাকা, ২২ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম