[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ভীতির ন্যায়-নীতি


প্রকাশিত: July 24, 2016 , 7:53 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন


malek
আব্দুল মালেক: শান্তিপ্রিয়, সহনশীল, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অতিথিপরায়ণ জাতি আর সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে আমাদের দেশ সারা বিশ্বের কাছে ঈর্ষা ও আকর্ষণের বস্তু। পারস্পরিক ভালোবাসার সুঁতোয় তৈরি সামাজিক সম্পর্কের নিরাপদ জাল থেকে এদেশের মানুষ জাতি নারী-পুরুষ-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সুখে দুঃখে একে অন্যের পাশে ছিল সংকটে আর সম্ভাবনায়।

সে জাল দিয়েছে আশা-ভরসা, তৈরি করেছে আস্থার মজবুত ভিত। কিন্তু হতাশ করা বাস্তবতা হচ্ছে আততায়ীর আত্মঘাতী আঘাতের আতঙ্ক আজ আমাদের বহুদিনের আস্থার নিরাপদ জালকে ছিঁড়ে ফেলেছে। টুকরো টুকরো করে দিয়েছে আমাদের বহুদিনের কষ্টে অর্জিত ফল।

স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে যে অসামান্য সাফল্য সূচিত হয়েছে সেক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকায় ছিল এদেশের তরুণ সমাজ। একটি বৈষম্যহীন উন্নত আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন লালন করে নতুন নতুন স্বপ্নের রঙে পৃথিবী রাঙাচ্ছে আর দেশের জন্য স্বপ্নসারথিরা বয়ে আনছে অসামান্য সম্মান। ঠিক তখনই হাজারো অর্জনের ওপর কলঙ্কের কালি লেপন করে দিয়েছে কালো কাপড়ের আলখেল্লা পরিহিত বদ্ধ মস্তিষ্কের একদল বর্বর রোবট।

অজানা অচেনা দেশি-বিদেশিদের নির্বিচারে হত্যার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দমের চাইতেও দামী দেশটাকে পরিচিত করেছে আতঙ্কের জনপদ হিসেবে। অন্যদিকে বিশ্বমানবের জীবনবিধান ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে বিশ্বাসমদন নির্মগজরা অযৌক্তিক আর ধ্বংসাত্মক উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ন্যায়ভিত্তিক কর্মকাণ্ডেকে বিতর্কিতই শুধু করেনি ঠেলে দিয়েছে পিচ্ছিল এক অন্ধকার গন্তব্যে ।

আমরা ইচ্ছা করলেই সব ক্ষেত্রে আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা। আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বাইরে নানা ঘটনা, নানা শক্তি আমাদের জীবন প্রভাবিত করে কোনো কোনো উপাদান জীবন সমৃদ্ধ করে, কোনো কোনোটি জীবন বিপর্যস্ত করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর সমাজে ক্রমবর্ধমান গুম-খুন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি,রাহাজানি লুটপাট, ইভটিজিং-ধর্ষণ, ভেজাল খাদ্য আর জীবন রক্ষাকারী ঔষধ আমাদের মনের সুখকে বিতাড়িত করে জায়গা করে দিয়েছে ভয় আর আতঙ্কের।

যেকোনো প্রকার ভয় থেকে মুক্ত থাকাই হচ্ছে মানবাধিকার। ভয় থেকে মুক্ত থাকার উপায় খোঁজা আধুনিক সমাজের প্রধানতম কর্তব্য। ভয়ের পিঠে অভয় দেয়ার বদলে রাষ্ট্র কখনো কখনো নিজেও ভয় সঞ্চারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। আমাদের বাংলাদেশে এখন তেমন অবস্থাই চলছে। এ যেন লাগামহীন ভয়েরই রাজত্ব।

 আমাদের সামনে এখন দু’টি বিষয়

১. নাশকতার মাধ্যমে মানুষের চলাফেরার অধিকার ,জীবনের অধিকার লঙ্ঘন-মানুষের মনে ভীতি আর নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা।
২. রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বলপ্রয়োগের ধরন ও মাত্রা।

ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতাহরণ করা, তার জীবনের অধিকার কেড়ে নেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। এর মাধ্যমে নিঃসন্দেহে মানুষের মানবাধিকারের লঙ্ঘন করা হচ্ছে। চলমান নাশকতা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আর তা প্রতিহত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

আমরা জানি ,আইনানুগ পথে নাশকতাকারীদের ধরা ও বিচার করার ক্ষেত্রে সীমাহীন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, আছে সময়ের প্রশ্ন। তথাপি এর অন্যথা করার কোনো সুযোগ নেই।

মিয়ানমারের গণতস্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি তাঁর ‘ভয় থেকে মুক্তি’ শীর্ষক এক বক্তব্যে বলেছিলেন ‘ যখন মানুষের মৌলিক মানবাধিকার অস্বীকার করা হয় তখন ভয়ই নিয়মে পরিণত হয়। কিন্তু মানুষের পক্ষে কখনোই পুরোপুরি ভয়ের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। সে কারণেই কঠিনতম সময়েও সাহসে ভর করে জেগে ওঠে মানুষ। কারণ ভয় তার সহজাত প্রবৃত্তি নয়, বরং সাহসই তার সহজাত।

লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

(সাবেক শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জবি)।

 

ঢাকা, ২৪ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর