[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



শেহজাদ ও তাওসীফকে নিয়ে গোয়েন্দারা হিমশিম খাচ্ছে!


প্রকাশিত: July 24, 2016 , 11:18 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি


tausif sahjad

লাইভ প্রতিবেদক: অভিজাত পরিবারের সন্তান শেহজাদ ও তাওসীফকে নিয়ে গোয়েন্দারা হিমশিম খাচ্ছে। তারা এই দুই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ব্যাপারে হন্য হয়ে তথ্য তালাশে মাঠে নেমেছেন। বলছেন, এরা অনেকটাই চতুর ও মেধাবী। তাদের ব্যাপারে ইতোমধ্যে নানান জায়গায় সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। মনিটরিং চলছে পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধু বান্ধবদের। নজরদারি চলছে বিভিন্ন জায়গায়।

 

দায়িত্বশীল একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শেহজাদ ও তাওসীফ ব্যাপারে সোর্সের তথ্য অনুযায়ী তারা দেশেই আছে। অত্যন্ত সতর্ক ও সাবধানতা নিয়েই তাদের পরিকল্পনা চালাচ্ছে বলে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের ধারণা। তাদেরকে আটকের চেষ্ঠা চলছে। সরকার প্রকাশিত কথিত নিখোঁজ জঙ্গি শেহজাদ রউফ অর্ক ও তাওসীফ হোসেনকে নিয়ে ইতোমধ্যে নানান জল্পনা কল্পনাও চলছে।

 

গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলায় ঘরছাড়া তরুণদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর গত ১৭ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিখোঁজদের যে দ্বিতীয় তালিকা দিয়েছিল, তাতে নাম আসে শেহজাদ ও তাওসীফের।

সূত্র জানায়, বাড়ি থেকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মাসে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এই দুই সন্দেহভাজন তরুণের পাসপোর্ট ধরে খোঁজ নিয়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে এই দুজন দেশত্যাগ করেননি। তারা দেশেই আছে।

নিহত নিবরাজ ও আবীরের সঙ্গে এই দুজনও ঝিনাইদহের সেই মেসে থাকতেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিস্টরা। তারা বলছেন, ওই মেসে থাকা সবাই এই দুটি হামলায় জড়িত ছিলেন এবং তারা সবাই এখনও দেশেই রয়েছেন।

 

এই বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, গুলশান হামলার রহস্য ‘উদঘাটিত’, জড়িতদের গ্রেপ্তার এখন ‘সময়ের ব্যাপার’। গত ফেব্রুয়ারিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র নিবরাজ ও আবীর ঝিনাইদহ শহরের যে মেসটিতে থাকতেন, সেখানে আরও ছয়জন ছিলেন।

tausif

 

ঈদের আগে জুন মাসের শেষ দিকে ওই আটজনই মেস ছেড়েছিলেন, পরে আর ফেরেননি বলে বাড়ির মালিক জানান। এর পরপরই ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা হয়। ২০ জনকে হত্যার পর কমান্ডো অভিযানে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে নিবরাজকে পাওয়া যায়।
ওই হামলার কয়েকদিন আগে আবীর শোলাকিয়ার নীলগঞ্জ সড়কে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে উঠেছিলেন। ১ জুলাই আবীর চারজন থাকার কথা বলে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন বলে বাড়ির মালিক জানান।

গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার তদন্তে র‌্যাব সম্প্রতি বগুড়ার দুর্গম চরে জঙ্গিদের আস্তানার সন্ধানে অভিযান চালায়। ধারণা করা হচ্ছে, ঝিনাইদহ থেকেই ওই চরে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন জঙ্গিরা এবং পরে গুলশান ও শোলাকিয়ায় ‘অপারেশনে’ যান।

 

বগুড়ায় যমুনার চরে ওই প্রশিক্ষণে তাওসীফ ও শেহজাদও ছিলেন বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা। নিবরাজের সঙ্গেই মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন শেহজাদ। তার বাসা ঢাকার বারিধারায়। নিবরাজ ৩ ফেব্রুয়ারি ঘর ছেড়েছিলেন বলে তার বাবা জানিয়েছেন।

 

তাওসীফও বাড়ি ছাড়েন একই সময়ে। তাদের বাসা ঢাকার ধানমণ্ডির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবার নাম ডা. আজমল। তাওসীফের ফুপাত ভাই আহমেদ শাম্মুর রাইয়ান একবার আইএসে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। শাম্মুর এখন জামিন নিয়ে ঢাকার মগবাজারের তাদের বাসায়ই আছেন। তবে তার বাবা ছেলের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার খবর অস্বীকার করেছেন।

 

র‌্যাবের তালিকায় থাকা ১৯৫ নম্বর ব্যক্তির নামের ঘরে লেখা হয়েছে শেহজাদ রউফ ওরফে অর্ক। বাবার নাম ২৬ নম্বর তালিকার মতই লেখা আছে তৌহিদ রউফ। তবে ঠিকানার ঘরে লেখা হয়েছে ‘রারিধারা, ওয়ার্ড ১৮, গুলশান ঢাকা। এই শেহজাদ রউফও আমেরিকার নাগরিক এবং তার পাসপোর্ট নম্বরও ‘সাজাদ রউফ’ এর মতই ৪৭৬১৪৫৯৯২।

 

 

ঢাকা ,২৪ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম