[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



প্রাইভেট ইউভার্সিটি ও ছাত্ররাজনীতি


প্রকাশিত: July 26, 2016 , 8:26 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন


NURUL

এম এন করিম: নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার চাহিদা পুরণে সক্ষম ছিলনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ফলে প্রচুর শিক্ষার্থী নিজ খরচে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে যেত। সেই সময় বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে সরকারের দ্বারস্থ হয়। সরকার শিক্ষার্থীদের অনর্থক বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে, আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে এই প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২ নামে একটা আইন করে, সেটার ওপর ভিত্তি করে প্রথমে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং তার পরে অন্যগুলো প্রতিষ্ঠা পেল। ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান। সেবামূলক, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠিত হলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু কিছুদিনেই মধ্যেই সেবার বৃত্ত অতিক্রম করে বাণিজ্যের বৃত্তে প্রবেশ করল।

১৯৯২ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে অনুমোদন পায় ৫৪টি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১০ সালের আগস্টে সরকার নতুন একটা আইন পাস করে—বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০। আর ৫৪কে টপকে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পৌঁছে গেল ৯৫এর সংখ্যায়। এর মধ্যে আবার রয়েছে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা।

আগে বিভাগীয় পর্যায়ে থাকলেও বর্তমানে বিস্তার ছড়িয়েছে জেলা শহর পর্যন্ত।আর মিড়িয়ায় রঙ্গিন বিজ্ঞাপন দেখে শিক্ষার্থীও ভর্তি হচ্ছে দিকহারা পঙ্গপালের মত।এই সুযোগে শিক্ষার্থীদের থেকে ভদ্রবেশে সেবার অযুহাতে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার-হাজার টাকা। আর করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড দিয়ে কোটি কোটি টাকার শিক্ষার নামে বাণিজ্য। এনিয়ে মাঝেমধ্যে শিক্ষামন্ত্রনালয় জেগে উঠলেও অদৃশ্য কারণে আবার পূর্বের ভুমিকা পালন করতে বেশি সময় নেয় না।
বেশিরভাগ টাকা অনুযায়ী সেবা না দিতে পারলেও, কিছু প্রতিষ্ঠান অক্ষুণ্ণ রেখেছে শিক্ষার মান।

এতদিন বেশি আলোচনায় না আসলেও ১লা জুলাই থেকে আলোচনার শীর্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। গুলশানের জঙ্গি হামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা এর মুল কারণ।যদিও এর পরে আরো কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় যোগ হয়েছে।ফলে আলোচনায় এসেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি চালু নিয়ে।আর এনিয়েও চলছে আলোচনা – সমালোচনার ঝড়।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চালুর আগে আমরা স্মরণ করতে পারি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর ইতিহাস।

বিভিন্ন পত্রিকা ও অন্যান্য সূত্র মিলিয়ে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই(ঢাবি) ৭৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত দুই যুগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)তে ঘটেছে ১৮টি হত্যাকাণ্ড।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)তে গত ৩২ বছরে খুন হয়েছে চার শিক্ষকসহ ৩১ জন।

এভাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে চলছে খুনের মিছিল। এর বেশিরভাগ কারণ ছাত্ররাজনীতি। এই কারণে ব্যারিস্টার রফিকুল হক বিরক্ত হয়ে ঢাবিকে বলেছিলেন ‘সন্ত্রাসের গ্রাম’। আর সম্প্রতি ছাত্ররাজনীতির ভুমিকায় অতিষ্ঠ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি চবিকে ঘোষণা করেছিলেন ‘মিনি ক্যান্টনমেন্ট’।
আর শুধু শিক্ষার্থীরা এনিয়ে ব্যস্ত তা নয়।শিক্ষকরাও শিক্ষা কার্যক্রমের চেয়ে নিজের আআধিপত্যকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নিজেদেরকে বিভক্ত করেছেন সাদা, নীল ও বিভিন্ন দলে।

এদিক দিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে অনেক নিরাপদে। নেই কোনো খুন, হত্য, মারামারি এতদিনের ইতিহাসে। পড়ালেখা যাইহোক, সনদপত্র পাচ্ছে সঠিক সময়ে। পোহাতে হচ্ছে না কোন সেশনজটে।

সম্প্রতি উত্থাপিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি চালু করলে এর সুফলের চেয়ে কুফল ভোগ করতে হবে অনেকগুণে। এখানেও হবে ছাত্র-শিক্ষকের রাজনীতি, স্থানীয় অল্প শিক্ষিত এমপিদের চাটুকারি, লাশের রাজনীতি।

এখানেও হবে ছাত্রাবস্থায় ভর্তি বাণিজ্য ও টেন্ডার বাণিজ্য। এখানেও হতে হবে ছাত্রী -শিক্ষিকা ইভটিজিং এর শিকার।

পরে এমন হবে ” কুইনিন জ্বর সারাবে বটে,তবে কুইনিন সারাবে কে?”
কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত মানে নিতে ও ব্যস্ত রাখতে নেয়া যায় বিভিন্ন কর্মসূচি।
১.ছাত্র সংসদ নির্বাচন
২.ডিবেটিং ক্লাব।
৩.সাহিত্য ক্লাব।
৪.সাংবাদিক সমিতি
৫.আবৃত্তি ক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেচ্ছাসেবী চর্চা।
ফলে তাদের মাঝে বৃদ্ধি পাবে সামাজিকতা, আন্তরিকতা, মানবিকতা ও গণতন্ত্রের চর্চা। আর গড়ে উঠবে উচ্চশিক্ষিত একজন উচ্চমনের মানুষ ও নেতা। আর তাদেরকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তাদের চিন্তার খোরাক হবে আমার বাংলাদেশ।

লেখক:শিক্ষার্থী, ফলিত গণিত বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

ঢাকা, ২৬ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর