[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার ছাড়া চলছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া


প্রকাশিত: August 8, 2016 , 9:05 am | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,ঢাকার ক্যাম্পাস,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি


usa

লাইভ প্রতিবেদক: বেহাল দশা। নিরিবিলি পরিবেশ। হাক ডাক নেই। ফাঁকা আর নিরবতায় যেন খাঁ খাঁ করছে। বাড়িটি দ্বিতল। শিক্ষার্থীদের কোন কোলাহল ও কলরব নেই। অনেকটা ভূতুরে পরিবেশ। তবুও চলছে ঢিমেতালে। বনানী ১৪ নম্বর রোডে বি ব্লকের ৭৮ ও ৭৬ নম্বর দ্বিতল বাড়ি। বাইরে ফিটফাট। চাকচিক্যময় এ ভবনের ভিতরে পুরোটাই ফাঁকা। এমনি পরিবেশে চলছে রাজধানীর বনানীর ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া।
ওই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন দেখার কেউ নেই। ২৮৭০ শিক্ষার্থীর মধ্যে গড়ে একশ’ শিক্ষার্থীও ক্লাসে আসে না। শিক্ষক বলতে দুইজন কর্মকর্তা। ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার কারো সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দেখা নেই। টেক্সটাইল বিভাগের ৪ সেমিস্টারের ৩৫-৪০ জন শিক্ষার্থী এক রুমে। শিক্ষক একজন। কোনো ল্যাব নেই। ৮০ স্কয়ার ফুটের ছোট্ট এক রুমের লাইব্রেরিও রয়েছে। হাতে গুনা ৭০/৭২টি বই। এইচএসসি পর্যায়ের একটি কলেজে হয় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ল্যাব প্র্যাকটিস। তাও সপ্তাহে একদিন। এক ঘণ্টা। এমন চিত্র চোখে পড়ে হররোজ।

 

এমন তথ্য ও বেহাল অবস্থার কথা শুনে সরজমিন পরির্দশন করতে সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি টিম। টিমের নেতৃত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান নিজেই। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি ডিরেক্টর (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) জেসমিন পারভিন, ডেপুটি সেক্রেটারি শাহীন সিরাজ ও ডিলিং কর্মকর্তা শাহনাজ সুলতানা। ইউনিভার্সিটি পরিবেশ দেখে ইউজিসির কর্মকর্তারা রীতিমতো হতবাক হয়ে যান।
ওই বিশ্ববিদ্যালয় ভিজিট শেষে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান তার তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, যা দেখে আসলাম তাতে এটাকে কোনো অবস্থায় ইউভার্সিটি বলা যায় না। তিনি দু:খ করে বলেন, ২৮৭০ শিক্ষার্থীর মধ্যে সবমিলিয়ে একশ’ শিক্ষার্থীকে আমরা দেখতে পাইনি। কোনো ল্যাবের চেহারা দেখিনি। ৮০ স্কয়ার ফুটের ছোট্ট একটি রুমের লাইব্রেরিতে ৭০/৭২ টি বই আছে কিনা সন্দেহ।

 

প্রফেসর মান্নান বলেন, কবুতরের খাঁচার মতো ক্লাস রুম। আড়াই ঘণ্টা অবস্থানকালে কোনো শিক্ষকের দেখা মিলেনি। এটাকে কোনোভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় না। তিনি বলেন, এর আগেও এই বিশ্ববিদ্যালয় পরির্দশন করে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার সুপারিশ করা হয়েছিল। একটি সুপারিশের অগ্রগতি করতে পারেনি। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এই ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিস্ট আরেক কর্মকর্তা জানান, এর আগেও ২০১৫ সালের শুরু দিকে নানা অভিযোগ নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় পরির্দশন করি। প্রচুর সমস্যা চিহ্নিত করে এগুলো সমাধান করার সুপারিশ করেছিলাম। ওই সময় তাদের রেড নোটিশ দেয়া হয়েছিল। এখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, আমরা রোববার সকাল ১১টায় ইউনিভার্সিটিতে যাই। ছিলাম দেড়টা পর্যন্ত। এই সময়ে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে দুইজন কর্মকর্তা ছাড়া কাউকে পাইনি। ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার এমনকি কোনো শিক্ষককে পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, ক্লাস, লাইব্রেরি, ল্যাবের পরিবেশ দেখার জন্য চেয়ারম্যান নিজে দুইতলার কয়েকটি কক্ষে যান। একটি কক্ষে ৩৫-৪০ শিক্ষার্থীর গাদাগাদি করে বসে আছে দেখতে পেয়ে সেখানে ঢুকেন চেয়ারম্যান।

 

তারা সবাই নিজেদের টেক্সটাইল বিভাগের ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম সেমিস্টারে ছাত্র পরিচয় দেন।
একই রুমে চার সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কীভাবে ক্লাস নেয়া হয় জানতে চান চেয়ারম্যান। উত্তরে শিক্ষার্থীরা জানান, এইভাবে ক্লাস হয়। একজন শিক্ষক চার সেমিস্টারে ক্লাস নেন। ক্লাসরুম, শিক্ষক সংকটের কারণে এইভাবে ক্লাস নেন তারা। এরপর লাইব্রেরি রুমে ঢুকে রীতিমত আশ্চর্য হয়ে যান চেয়ারম্যান। ইউজিসির কর্মকর্তা জানান, ল্যাব, লাইব্রেরি বলতে কিছু নেই সেখানে। ৪-৫টি চেয়ার।
এ সময় দুইজন ছাত্র অভিযোগ করেন গত দুই সেমিস্টার থেকে তাদের টিউশন ফিসহ অন্যান্য টাকা নগদ নিচ্ছে ইউনিভার্সিটি। কোনো রিসিট, ভাউচার দেয়া হচ্ছে না। গত মাসে বিনা নোটিশে বিলম্ব ফি দিতে হয়েছে। সফটওয়ারের সমস্যার কারণে এটা হচ্ছে বলে জানান তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, উত্তরা একটি টেক্সটাইল কলেজে সপ্তাহ এক-দুইদিন ল্যাবে নিয়ে প্র্যাকটিস করানো হয়। তাও মাত্র এক ঘণ্টা।

 

এই বিষয়ে জানার জন্য সাউথ এশিয়ার ভিসি, প্রো-ভিসির সাক্ষাত মিলেনি। সেল ফোনেও তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তবে সহকারী রেজিস্ট্রার (জনসংযোগ) জহিরুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে অনেক সংকোচ নিয়ে বলেন, আমাদের নানা সীমাবদ্ধতা আছে। এর মধ্যে আমরা ব্যাপক পরিসরে কাজ করছি। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪টি ফ্যাকাল্টির ৮টি বিভাগের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ১৩০০ শিক্ষার্থী বৈকালিক শিফটের।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জনসংযোগ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সেমিস্টারে একই কোর্স থাকে। তাদের এক সঙ্গে করে একই রুমে একজন শিক্ষক ক্লাস নেন। তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ক্লাসের নজির আছে। তিনি আরো জানান, প্রো-ভিসি এক সময় লন্ডন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ছিলেন। সেই চাকরি ছেড়ে এখন এখানে যোগ দিয়েছেন। তবে তিনি বিদেশে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নেয়ার কারণে দেশের বাইরে থাকতে হয়।

 

ঢাকা, ০৮ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম